আর্জেন্টিনার হয়ে বৈশ্বিক কোনো শিরোপা জয়ের জন্য মরিয়া লিওনেল মেসি। খুব কাছে গিয়েও কয়েকবার খালি হাতে ফিরতে হয়েছে কিং লিওকে। বয়স বাড়ছে। এখন ৩১! ক্যারিয়ারের শেষ ধাপে আছেন। সামনের সময়টাতে আর্জেন্টিনা সিনিয়র দলের হয়ে জাদুকরী কিছু দেখাতে না পারলে শিরোপা ছাড়াই বিদায় বলতে হবে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলকে অবশ্য এখনই বিদায় বলছেন না মেসি। তবে ব্রাজিলের মাটিতে চলতি কোপা আমেরিকায় আকাশী-নীলরা শিরোপা জিততে না পারলে অনেক বিশ্লেষকেরই মত, মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার এখানেই থেমে যেতে পারে।
কেউ-ই চিরকাল খেলে বেড়ান না। একটা সময় সবাইকেই থামতে হয়। মেসিও একদিন জাতীয় দলকে বিদায় জানাবেন। ভবিষ্যতের জন্য তখন নতুন পরিকল্পনায় দল সাজাতে হবে ১৯৯৩ সালের পর কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে না পারা আর্জেন্টিনাকে। চাইলে এখন থেকেই মেসির বিকল্প ভাবতে পারে আলবিসেলেস্তেরা।
মেসির বিকল্প মেসিই। তবে শূন্যস্থানও কখনও চিরস্থায়ী নয়। যেমন ম্যারাডোনা, বাতিস্তুতাদের পর মেসি এসেছেন। সামনেও নতুন কাউকে কাঁধে তুলে নিতে হবে দায়িত্বটা।
আর্জেন্টিনায় কে হতে পারেন মেসির বিকল্প? এমন প্রশ্নের জবাবে পাঁচটি নাম সামনে আসছে। দেখে নেয়া যাক কে কে আছেন তালিকায়-
ক্রিস্টিয়ান পাভন
লিওনেল মেসির মতো গোলস্কোরিং স্কিল নেই পাভনের। তবে গোলের সুযোগ তৈরি করে দেয়ার মতো কোয়ালিটি আছে ২৩ বছর বয়সী বোকা জুনিয়র্স তারকার।
এখন পর্যন্ত আকাশী-নীল জার্সিতে ১১টি ম্যাচ খেলেছেন পাভন। আর্জেন্টিনার হয়ে এখনও খুব একটা মেলে ধরতে পারেননি নিজেকে। সম্ভাবনা আছে প্রবল। যদি পাভনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় এবং খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ দেয়া হয়, লম্বা সময়ের জন্য আর্জেন্টিনার উইংকে সেবা দিতে পারবেন তিনি।
বোকা জুনিয়র্সের হয়ে ১০৮ ম্যাচে ২৮টি গোল করার পাশাপাশি ৩২টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন পাভন। আর্সেনাল এবং বার্সেলোনার মতো বড় ক্লাবগুলো তাকে পেতে তৎপরতা শুরু করে দিয়েছে। আগামী দিনগুলো তাই পাভনের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
লৌতারো মার্টিনেজ
বিশ্বমানের স্ট্রাইকারের আবাসভূমি বলা হয়ে থাকে আর্জেন্টিনাকে। ভবিষ্যতের তারকা হয়ে ওঠার ইঙ্গিত ইতোমধ্যেই দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী মার্টিনেজ। জাতীয় দলের হয়ে ৭ ম্যাচে ৪ গোল করে ফেলেছেন তরুণ সেনসেশন।
বয়স মাত্র ২১। সঠিক পরিচর্যা পেলে আগামীর আর্জেন্টিনার জন্য মূল্যবান সম্পদই হয়ে উঠতে পারেন মার্টিনেজ। রেসিংয়ের হয়ে ৫৮ ম্যাচে ২৮ গোল করে নজর কাড়ায় গত মৌসুমে তাকে দলে টেনেছে ইন্টার মিলান। ইতালিয়ান জায়ান্ট ক্লাবটির হয়ে ১,৭৬১ মিনিট খেলে ৯ গোল করেছেন, পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করানো দুটি গোলে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা আছে মার্টিনেজের।
জিওভানি লো সেলসো
ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে জিওভানি লো সেলসোর দিকে পাখির চোখ করে আছে টটেনহ্যাম হটস্পার। মিডফিল্ডে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়ে ইংলিশ ক্লাবটির রাডারে এসেছেন ২৩ বছরের সেলসো।
গত কয়েক বছর ধরেই আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডে ক্রিয়েটিভ খেলোয়াড়ের অভাব প্রকট। সেই সমস্যার সমাধান করতে পারেন লো সেলসো। মেসি অবসরে গেলে আর্জেন্টিনার এমন একজন মিডফিল্ডার লাগবে, যিনি কেবল গোলই করবেন না, পাশাপাশি গোল করানোতেও অবদান রাখবেন। এক্ষেত্রে সেলসোর চেয়ে ভালো বিকল্প কে হতে পারে!
গত মৌসুমে ধারে রিয়াল বেটিসে খেলেছিলেন লো সেলসো। স্প্যানিশ ক্লাবটির হয়ে ৪৫ ম্যাচে ১৬ গোল করার পাশাপাশি ৬ গোলে অ্যাসিস্ট করে ডানা মেলেছেন সম্ভাবনাময় এ মিডফিল্ডার।
মাউরো ইকার্দি
২০১৩-১৪ মৌসুমে ইন্টার মিলানে যোগ দিয়ে এখন পর্যন্ত ইতালিয়ান ক্লাবটির হয়ে ২১৯ ম্যাচ খেলেছেন মাউরো ইকার্দি। পথে ১২৪ গোল করে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারের একজন হিসেবে প্রমাণ করেছেন। তবে ২০১৩ সালে আর্জেন্টিনার জার্সিতে অভিষেকের পর আরেকটি ম্যাচ খেলতে ২০১৭ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাকে।
সার্জিও আগুয়েরো, গঞ্জালো হিগুয়েন, কার্লোস তেভেজ ও রদ্রিগো প্যালাসিও’র মতো তারকা খেলোয়াড়ের ভিড়ে লম্বা সময় দলে জায়গা মেলেনি ইকার্দির। এ চারের তিনজনই অবসরে চলে গেছেন। আগুয়েরোর বয়স পেরিয়ে গেছে একত্রিশ। ফলে ২৬ বছর বয়সী ইকার্দি আগামীর আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ নেতৃত্ব দেবেন, এমন স্বপ্ন দেখতেই পারে আলবিসেলেস্তেরা।
আর্জেন্টিনার হয়ে এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচ খেলেছেন ইকার্দি। ২০১৮ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে একমাত্র গোলটি করেছেন। মেসির সময় যখন শেষ হবে, একজন গোল স্কোরারের দরকার হবে আর্জেন্টিনার। সেক্ষেত্রে একজন পছন্দের বিকল্প হতে পারেন মাউরো ইকার্দি।
পাওলো দিবালা
খেলার স্টাইলের দিক থেকে মেসির সঙ্গে খুব বেশি ফুটবলারের সাদৃশ্য নেই। তবুও ক্লাব ও জাতীয় দলে মেসির বিকল্প হিসেবে সবার আগে পাওলো দিবালার নামই উচ্চারিত হয়। অনেকটা মেসির মতো ক্ষীপ্রতা আছে বলেই। গোল বানাতে পারেন, গোল করতে পারেন, করাতে পারেন, গোল না পেলেও সমস্যা নেই- পারেন প্রতিপক্ষ বক্সে ত্রাস ছড়াতে।
জুভেন্টাসের হয়ে ১৮২ ম্যাচ খেলে ৭৮ গোল করেছেন দিবালা। পাশাপাশি ৩১ গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন। যদিও আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০ ম্যাচে মাত্র এক গোল জুভেন্টাস তারকা।
জাতীয় দলে বাজে পারফরম্যান্সের কারণও আছে দিবালার! আর্জেন্টিনার কোচরা এমন কোনো উপায় বের করতে পারেননি, যাতে মেসি ও দিবালাকে একইসঙ্গে একাদশে ঠিকঠাক খেলাতে পারেন। মেসির সঙ্গে খেলতে পারেন না, দিবালাকে এমন অভিযোগ মাথায় নিয়ে অনেকটা সময় বেঞ্চেই কাটাতে হয়। অথবা ক্লাবে যে পজিশনে খেলে থাকেন সেটার বাইরের পজিশনে খেলতে হয়।
কারণ মেসি ও দিবালার খেলার স্টাইল ও পজিশন একই রকম। মেসি যখন জাতীয় দলকে বিদায় বলবেন, দিবালা তখন নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ থাকবে। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ডের অবসরের পর দিবালা আলো জ্বালাতে পারেন কিনা সেটি দেখতে অবশ্য আরও কিছুসময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।







