গত এপ্রিলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পের পর বিজ্ঞানীরা বলছেন, আগামীতে নেপালে এর চেয়ে বড় ভূমিকম্প হতে পারে। নেপালের ভূমিধসের মাত্রা ও হিমবাহের অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর যুক্তরাষ্ট্রের জিওফিজিকাল ইউনিয়ন গত ১৬ ডিসেম্বর তাদের বার্ষিক সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ওই ভূমিকম্পে নেপালে ৯ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়। নেপাল ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানেও হতাহতের ঘটনা ঘটে। তীব্র কম্পন অনুভূত হয় বাংলাদেশেও।
মার্কিন জিওফিজিকাল ইউনিয়ন এই ব্যাপারে যে দুটি গবেষণাপত্র লিখেছেন তার একজন সহকারী লেখক জেফরি কারজিল বলেন, ‘পরের ভূমিকম্পে অবস্থা সর্বশেষটির চেয়ে আরো বেশি ভয়াবহ হতে পারে।’ ওই গবেষণাপত্রটি মঙ্গলবার জার্নাল সায়েন্সে প্রকাশিত হয়।
আগামীতে ভূমিকম্প হলে সেখানে কি ধরনের ক্ষয়-ক্ষতি হতে পারে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো ধারণা দিতে পারেননি গবেষক জেফরি এবং অন্য বিজ্ঞানীরা। তবে অন্য বিজ্ঞানীরা জানান, নেপালে সর্বশেষ মাত্রার সমান ভূমিকম্প আগামীতে হলে তাতে ক্ষয়-ক্ষতি অনেক বেশিই হবে।
একই দিনে জার্নাল সায়েন্সে আরো একটি গবেষণাকর্ম প্রকাশিত হয়। তাতেও বলা হয়েছে, পরের ভূমিকম্প নেপালসহ পৃথিবীকে আরো বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিতে পারে।
আর মার্কিন জিওফিজিকাল সার্ভের ভুমিকম্প সম্পর্কিত মূল্যায়ন দেখা যায়, এখনও ফেটে পরা ভূমি থেকে বড় ভূমিকম্প হতে পারে, যার গতি ৩৩ থেকে ৫০ ফুট (১০ থেকে ১৫ মিটার)। যেখানে ২৫ এপ্রিলের ভূমিকম্পের গতি ছিলো ১০ ফুট বা ৩ মিটার।
গত ২৫ এপ্রিলের ভূমিকম্পের মাত্রা এতো বেশি ছিলো যে পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত হিমলায় পর্যন্ত সংকুচিত হয়ে যায়। গবেষকরা জানান, ভূমিকম্পের সময় নেপালে ৪ হাজার ৩১২ বার ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং ল্যাংটাং ভ্যালিতে সবচেয়ে বড় কম্পন হয়। এতে অল্প সময়ে ৩৫০ জন মানুষের মৃত্যু হয়।
ভূমিধসের সময় উপত্যকার উপরে খাড়া পাহাড়ের উপর থেকে তুষার ও বরফের বিপুল অংশ ১৬৪০ ফুট (৫০০ মিটি) নীচের ল্যাংটাং শহরের উপর পরে। জেফরি কারগিল বলেন, এটার গতির পরিমাণ ছিলো হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমান বা বেশি। ভূমিকম্পের সময় প্রায় এক কিলোমিটার পাহাড় গাছসহ ধসে যায়।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় অব টামোকার ভূমি গবেষক ড্যান সুয়াগার বলেন, নতুন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, পরেরবার ভূমিকম্প হলে অবস্থা এর চেয়ে ভয়াবহ হবে। গবেষণার সম্ভাব্য ভূমিকম্পের সঙ্গে তুলনা করলে সর্বশেষটি খুব ছোট বলেই মনে হবে। আগের ভূমিকম্পে বড় কম্পন ও ধসগুলো পাহাড়ের চূড়া বা উঁচু জায়গায় হওয়ার পরও তা আলোড়ন সৃষ্টি করে।
গবেষককরা আরো বলেন, এপ্রিলের ভূমিকম্পে মাত্রানুযায়ী ক্ষয়-ক্ষতি কমই হয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায়। তবে ক্ষয়-ক্ষতি কেনো কম হলো সেটা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি তারা।







