বিশ্বব্যাংক শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহারের অভিযোগে তাদের একজন সাবেক কর্মকর্তার ব্যবহৃত গাড়ি শুল্ক গোয়েন্দার নিকট হস্তান্তর করেছে। রোববার সকালে কাগজপত্র যাচাই শেষে শুল্ক গোয়েন্দা গাড়িটি জব্দ দেখিয়েছে।
গাড়িটি গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ অফিস থেকে একজন কর্মকর্তার মাধ্যমে কাকরাইলস্থ শুল্ক গোয়েন্দার সদর দপ্তরে প্রেরণ করে। সাথে বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর কুইমিয়া ফ্যান কতৃক একটি চিঠিও দেয়া হয়। চিঠিতে স্বেচ্ছায় গাড়ি ফেরতের কথা উল্লেখ করে শুল্ক গোয়েন্দার চলমান তদন্তে সার্বিক সহযোগিতার অঙ্গীকারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বলে শুল্ক গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে।
শুল্ক গোয়েন্দা তথ্যমতে, গাড়িটির ব্যবহারকারী ছিলেন নিহাল ফারনান্দো। নিহাল ফারনান্দো গত এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১০ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশে সিনিয়র রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালীন তিনি ব্যক্তিগত ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এই গাড়িটি শুল্কমুক্ত সুবিধায় ক্রয় করেন। ফারনান্দোর (কাস্টমস পাশবুক নম্বর ৫০/০৮) ব্যবহৃত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন: -AJB-O66, চেসিস: ZTT240-0119638, ইন্জিন: 1ZZ-2605975, CC- 1800, মডেল: টয়োটা এলিয়েন, তৈরি সাল: ২০০৬। তিনি গত ডিসেম্বর ২০১০ এ এ্যাসাইনমেন্ট শেষ করে স্থায়ীভাবে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন।কিন্তু আইনানুযায়ী তিনি বাংলাদেশ ত্যাগের পূর্বে ব্যবহৃত কাস্টমস পাশবুক ও ব্যবহৃত গাড়িটি কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিকট হস্তান্তর করে যাননি, যা শুল্ক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিদেশি সংস্থায় কর্মরত সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার বিষয়ে শুল্ক গোয়েন্দার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করলে বিশ্বব্যাংক এরআগে দুটো গাড়ি হস্তান্তর করে, এনিয়ে মোট ৩ টি গাড়ি জব্দ হলো। আরো বেশ কিছু গাড়িতে গরমিল রয়েছে মর্মে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তথ্য মিলেছে। এগুলোর ক্ষেত্রে বিশ্ব ব্যাংকের সহযোগিতায় পর্যায়ক্রমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।









