টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামস ও ভেনাস উইলিয়ামসের বাবা এবং কোচ রিচার্ড উইলিয়ামসের জীবনীর উপর নির্মিত বায়োপিক ‘কিং রিচার্ড’ ২০২১ সালের সেরা ১০টি চলচ্চিত্রের একটি হিসেবে আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউট পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছে।
জ্যাচ বেলিনের চিত্রনাট্য এবং রেইনাল্ডো মার্কাস গ্রিন পরিচালিত এই বায়োপিকে রিচার্ড উইলিয়ামসের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন হলিউড অভিনেতা উইল স্মিথ। ভেনাস উইলিয়ামস এবং সেরেনা উইলিয়ামসের চরিত্রে যথাক্রমে অভিনয় করেছেন সানিয়া সিডনি এবং ডেমি সিঙ্গেলটন। বিখ্যাত উইলিয়ামস বোনদ্বয় বায়োপিকটির নির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে ছিলেন।
গত ২ সেপ্টেম্বর ৪৮তম টেলুরাইড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে বায়োপিকটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয়েছিল এবং ৯ নভেম্বর ওয়ার্নার ব্রাদার্স পিকচার্স এবং এইচবিও ম্যাক্স স্ট্রিমিংয়ে প্রেক্ষাগৃহে এটি মুক্তি পেয়েছে। ‘কিং রিচার্ড’ ২২ মিলিয়ন ইউএস ডলারের বেশি আয় করেছে।
বায়োপিকে সেরেনা ও ভেনাসের আজকের এই অবস্থান তৈরিতে তাদের বাবার সংগ্রামের বিষয়টি দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। উইলিয়ামস বোনদের জন্মের আগেই তাদের বাবা রিচার্ড উইলিয়ামস সন্তানদের পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়ে পরিণত করতে এবং সাফল্য অর্জনের জন্য নিজের পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছিলেন।
‘কিং রিচার্ড’-এ আমেরিকার বর্ণবাদের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেই সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে ভেনাস ও সেরেনা কীভাবে সংকীর্ণতার প্রাচীর ভেঙে এগিয়ে গেলেন সেই গল্প।
রিচার্ড তার মেয়েদের জন্য একজন পেশাদার কোচ খুঁজে পেতে অক্লান্ত পরিশ্রম করছিলেন। যদিও তখন তার মেয়েদের কোচিং করানোর জন্য অর্থ ব্যয় করার সামর্থ্য ছিল না। তাদের স্কিল প্রমাণের জন্য ব্রশিউর এবং ভিডিও টেপ তৈরি করেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছিল না।
এভাবে একদিন অনেক চেষ্টার পরে রিচার্ড তার মেয়েদের কোচ পল কোহেনের সাথে দেখা করতে নিয়ে যান। ওই সময় তিনি জন ম্যাকেনরো এবং পিট সাম্প্রাসের সঙ্গে অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন। ব্যস্ততা থাকা সত্ত্বেও তিনি উইলিয়ামস বোনদের অনুশীলন দেখতে রাজি হন। তাদের স্কিল দেখে পল কোহেন মুগ্ধ হয়ে যান। প্রথমে পল কোহেন বিনামূল্যে কোচিং করাতে রাজি না থাকলেও পরে তিনি ভেনাস উইলিয়ামসকে কোচিং করাতে সম্মত হন। অপরদিকে, সেরেনা তার মা ব্র্যান্ডির সঙ্গে অনুশীলন চালিয়ে যান। এরপরে উঠে এসেছে উইলিয়ামস বোনদ্বয়ের এগিয়ে যাবার গল্প।
বায়োপিকে উইলিয়ামস বোনদের নিয়ে তাদের বাবা রিচার্ড উইলিয়ামসের চেষ্টা, একাগ্রতার প্রতিটি দুর্দান্ত ঘটনা আসলে জীবন যুদ্ধ জয়ের ইতিহাস। এই মুভিতে মূলত জীবন সংগ্রামে হাল না ছাড়ার বার্তাই যেন তুলে ধরা হয়েছে।








