সাংবাদিক শরিফুল হাসান ব্লগারহত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশের জন্য অশনিসংকেত পেয়েছিলেন। দিন দিন মসজিদ-মন্দিরে হামলা-নাশকতায় তা যেনো রূঢ় বাস্তবে পরিণত হতে দেখছেন তিনি। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতোই জঙ্গিবাদের অভয়াশ্রম হয়ে উঠছে কি না এই শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎকণ্ঠিত শরিফুল হাসান এক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, যা যা বলেছিলাম তাই হচ্ছে। একের পর এক ব্লগার হত্যার পর বলেছিলাম ভবিষ্যত খারাপ। এসব খুনিদের ধরুন। ধরা হয়নি।
শিয়া মসজিদে হামলার পর পরিচিতজনদের বলেছিলাম, আমার অনুমান বলছে এরপর আহমদিয়া মসজিদে হামলা হবে। হলোও তাই। শিয়া মসজিদে হামলার পর বলেছিলাম বাংলাদেশ পাকিস্তানের পথেই হাঁটছে। হচ্ছেও তাই। আপনারা সন্দেহ করতে পারেন, অবিশ্বাস করতে পারেন কিন্তু কয়েকটা বছর অপেক্ষা করেন দেখবেন পাকিস্তানের মতোই বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবেই সবাই চিনবে।
সমস্যার সমাধান চান? প্রথম অনুরোধ, বিএনপিসহ সরকারিবেরাধী সব বিরোধী দলের কাছে। আপনারা হয়তো ভাবছেন এইভাবে হামলা হলে সরকারের ভাবমুর্তি শেষ হয়ে যাবে। যে কোন সময় আপনাদের ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম হবে। আমি জানি না সেটা হবে কী না তবে একটা কথা বলে রাখি-এটা কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগের বিষয় নয়। দেশটাকে বাঁচানোর বিষয়। কাজেই দয়া করে প্লিজ এই ধরনের ভাবনা ভাববেন না। কোনভাবেই এই ধরনের জঙ্গীদের আশ্রয় প্রশ্রয় সমর্থন দেবেন না।
এবার আসি সরকারের কাছে। মূল কাজটা আপনাদেরই কিন্তু করতে হবে। শুধু পুলিশ দিয়ে কখনোই কোনদিন জঙ্গি দমন করা যায় না। সবার আগে দরকার শিক্ষা। কাজেই প্লিজ দেশের শিক্ষাব্যাবস্থায় হাত দিন। যে যাই বলুক মাদ্রাসা শিক্ষা, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষা, সাধারণ শিক্ষা সবাইকে ক্লাস এইট পর্যন্ত একই ছাতার নিচে আনুন। দেশের সব মাদ্রাসায় বাংলা-ইংরেজি আর দেশের মুক্তিযুদ্ধ পড়তে দিন।
এরপরের অনুরোধ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি। জঙ্গি দমনে যে প্রশিক্ষণ যে প্রযুক্তি দরকার তাদেরকে দিন। তবে জঙ্গিবাদ নিয়ে কোন রাজনীতি না করে, কোন রং না দিয়ে সত্যিকারের অপরাধীদের ধরুন।
সরকারের কাছে সর্বশেষ সবশেষ অনুরোধ-চারপাশে তো আপনাদের চাটুকারে ভরে গেছে। এইসব চাটুকারদের সরান। বিরোধী সব দলকে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে দিন। মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিন। সাধারণ মানুষের যার যা খুশি বলুক। কেউ কিছু বললেই গ্রেপ্তার, কাউকে রাজপথে নামতে দেবো না এই নীতি থেকে বেরিয়ে আসুন। ব্লগার হোক-নাস্তিক হোক যাকেই হত্যা করা হোক না কেন খুনিদের বিচার করুন।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কাছে অনুরোধ আপনারা প্লিজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ফিরে আসেন। মুখে মুখে মুক্তিযুদ্ধ কিন্তু অন্তরে ধান্দা এই নীতি থেকে বের হয়ে আসেন। আপনারা আপনাদের সংগঠন, ছাত্রলীগ-যুবলীগ এইগুলো সামলান। সেখান থেকে ধান্দাবাজদের বিদায় করেন। ভালো মানুষের জায়গা বাড়ান। শুভবুদ্ধির চর্চা করুন। আপনার আচার-আচরণ ঠিক করেন। আপনার স্বেচ্ছাচারিতা-দুর্নীতি অনিয়ম দেশের মানুষকে ক্ষুব্ধ করেছে। দেশ জঙ্গিবাদের দিকে গেলে কিন্তু সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন আপনারাই।
সর্বশেষ অনুরোধ সাধারণ মানুষের কাছে। আপনি আমি আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বিরোধী হতে পারি কিংবা এই দুই জোটের বাইরে অন্য কোন ভাবনার মানুষও হতে পারি। কিন্তু আমাদের সবাইকে বুঝতে হবে এই দেশটা আমাদের। আপনি আমি হয়তো দেশ ছেড়ে চলে যেতে পারি কিংবা দেশের মধ্যে নিরাপদ আছি ভেবে চুপ থাকতে পারি। কিন্তু মনে রাখবেন বাংলাদেশটা ধ্বংস হলে পৃথিবীর যেই প্রান্তেই আপনি থাকেন না কেনো মানুষ আপনাকে বাঁকা চোখে দেখবে।
এই মুহূর্তে আমার মাথায় আর কিছু আসছে না। আমি একটা ভয়াবহ ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছি। আমি দেখতে পাচ্ছি বাংলাদেশটা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। প্লিজ আপনারা আমার এই আশঙ্কাকে মিথ্যা পরিনত করুন। প্লিজ।






