চ্যানেল আই অনলাইন
English
  • সর্বশেষ
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • রাজনীতি
  • খেলাধুলা
  • বিনোদন
  • অপরাধ
  • অর্থনীতি
  • আদালত
  • ভিডিও
  • স্বাস্থ্য
  • জনপদ
  • প্রবাস সংবাদ
  • চ্যানেল আই টিভি
No Result
View All Result
চ্যানেল আই অনলাইন
En

‘আমিই আলতাফ মাহমুদ’

জাহিদ নেওয়াজ খানজাহিদ নেওয়াজ খান
২:৪৮ পূর্বাহ্ন ২১, ফেব্রুয়ারি ২০১৬
মতামত
A A

গলায় সুর যাই থাকুক, কণ্ঠে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’র সুর প্রথম ধারণ করে প্রথম গাওয়ার কথা এখনো স্পষ্ট মনে আছে। আজ থেকে ৪০ বছর আগের কথা। ১৯৭৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো প্রভাতফেরিতে গিয়েছিলাম। প্রথম কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়েছিলাম ‘আ. আ.. আ… আ. আ.. আ…’

এখন ভাবলেও বিস্ময় জাগে যে জীবনের প্রথম সেই প্রভাতফেরি করে খোলা পায়ে আমাদের মতো শিশুরা শহীদ মিনারে যেতে পারেনি। কেনো পারেনি সেটা সালটা আরেকবার দেখলেই বোঝা যাবে। ময়মনসিংহের কলেজ রোডে আমরা ছিলাম শহীদ স্মৃতি অঙ্গনের কচিকাঁচা সদস্য। তখন বুঝিনি, পরে বুঝেছি যে ওই ক্লাবটির যারা সংগঠক ছিলেন সেই আলম ভাইরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদী কণ্ঠ হয়েছিলেন। জেনারেল জিয়াউর রহমানের পুলিশ তাই খুঁজছিলো তাদের। শহীদ স্মৃতি অঙ্গনের প্রভাতফেরিতে আলম ভাইরাও থাকতে পারেন ভেবে পুলিশ আমাদের শোভাযাত্রাটি ভেঙ্গে দিয়েছিলো। শহীদ স্মৃতি অঙ্গন থেকে যাত্রা করে আনন্দমোহন কলেজ পার হওয়ার পরই হামলা হয়েছিলো শিশুদের ওই প্রভাতফেরিতে। টাউন হল চত্বরে শহীদ বেদী তখনো কিছুটা দূরে।

আমার মতো সাত বছর বয়সী কিংবা কিছুটা বড় শিশু-কিশোররা সেদিন প্রভাতফেরি করতে না পেরে পরে কলেজ মাঠে ক্রিকেট খেলতে নেমে যাই। ওই সময়ের রাষ্ট্র হয়তো এটাই চেয়েছিলো। অমর একুশের অনুষ্ঠানের চেয়ে ক্রিকেটই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ! যেমন পরের বছরগুলোতে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ভুলিয়ে দিতে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস এবং নতুন করে পালনের ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবসে’ স্টেডিয়ামের মার্চপাস্টে কিংবা স্কুলের অ্যাসেম্বলিতে আমাদের ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান শেখানো হয়েছে।

‘জয় বাংলা’ আর ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ অর্থগত বড় কোনো পার্থক্য না থাকুক, ‘জয় বাংলা’কে ভুলিয়ে দিতে পাকিস্তানী কায়দায় যখন শিশু-কিশোরদের বাংলাদেশ জিন্দাবাদ শেখানো হয় তখন এর চেতনাগত পার্থক্যটি বোঝা যায়। জাতির জনক নিহত হওয়ার পরের বছর আমার মতো যাদের স্কুলে ভর্তি হওয়া তাদের এভাবে বিরুদ্ধ এক পরিবেশে বড় হওয়া। তাদের বড় অংশ তাই অমর একুশের গানের অমর সুরস্রষ্টা আলতাফ মাহমুদকে চেনেনি। কেউ কেউ নাম জানলেও তাকে আর যে কোনো সুরকারের মতোই মনে করেছে ওই প্রজন্ম। যে চেতনা থেকে ওই গানের সুর করা, যে চেতনার বাণী মর্মমূল ছুঁয়ে যাওয়ার কারণে ওই গান আমাদের হৃদয়ে এমনভাবে গাঁথা; ওই প্রজন্মকে তখন কোনোভাবেই সেই চেতনায় স্নাত হতে দেওয়া হয়নি। যে আলতাফ মাহমুদ তার সুর দিয়ে শহীদদের ভুলতে দেননি সেই আলতাফ মাহমুদের আত্মত্যাগও তাই অজানা ছিলো বছরের পর বছর।

আলতাফ মাহমুদ, তার মানবিকতা, মানবিকতা থেকে তার গৌরবের বীরত্ব, বীরত্ব থেকে তার মহান আত্মত্যাগ; এসবই আমাদেরকে প্রথম জানিয়েছেন বারবার যিনি আমাদের বাতিঘর হয়েছেন; এখনো বাতিঘর হয়ে আলোর পথ দেখিয়ে যাচ্ছেন সেই শহীদ জননী জাহানারা ইমাম। কোনো পাঠ্যপুস্তক কিংবা অন্য কোনো বই না, তার ‘একাত্তরের দিনগুলি’ থেকেই আমি, আমার মতো আমাদের প্রজন্মের আরো অনেকে প্রথমবারের মতো আলতাফ মাহমুদকে জানতে পারি, কিছুটা চিনতেও পারি হয়তো তাকে।

শহীদ আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে শহীদ জননী জাহানারা ইমামের এখানে একটা অসাধারণ মিলও আমি খুঁজে পাই। জাহানারা ইমাম যদি শুধু ‘একাত্তরের দিনগুলি’ লিখেই বসে থাকতেন, বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্রে আয়েশী জীবন যাপন করতেন; তবু তিনি তার ‘একাত্তরের দিনগুলি’ লেখার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের এক অসাধারণ আখ্যান তুলে ধরার কারণেই অমরত্ব পেতেন। কিন্তিু, তিনি তা করেননি। বাহাত্তরের ১৭ মার্চ বঙ্গভবনের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবি তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি যে আন্দোলনের ভ্রুণের জন্ম দিয়েছিলেন সেই আন্দোলনকে তিনি পরে সারাদেশে ছড়িয়ে দিয়ে প্রবল আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। তার ধারাবাহিকতাতেই আজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।

Reneta

একইভাবে আলতাফ মাহমুদ শুধু ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির সুর করেই অমরত্ব পেয়েছিলেন। কিন্তু, অন্য মধ্যবিত্তের মতো শুধু সেখানেই থেমে থাকেননি তিনি। যে আদর্শ ধারণ করার কারণে, মানুষকে নিজের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসার কারণে তিনি সাধারণত্ব থেকে বেরিয়ে অসাধারণ এক সুরের জন্ম দিতে পেরেছেন; সেই ভালোবাসা, সেই চেতনাকে ধারণ তাকে সেখানেই থামিয়ে রাখেনি। তিনি নিজেকে জড়িয়েছেন মানুষের মহত্ত্বম আদর্শের মুক্তির জন্য সংগ্রামে। সেই সংগ্রামের পথে একাত্তরে নৃশংসতার সব বেদনা নিজে ধারণ মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ যে জীবন সেই জীবন উৎসর্গ করে গেছেন আলতাফ মাহমুদ।

তার ত্যাগ এবং বীরত্বের প্রতীকী প্রকাশ আমরা কিছুটা ‘গেরিলা’ সিনেমায় দেখেছি। আলতাফ মাহমুদের চরিত্র রূপদানকারী অভিনেতা আহমেদ রুবেল যখন পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সামনে বলেন, ‘আমিই আলতাফ মাহমুদ’ তখন মনে হয় এর চেয়ে সাহসের সঙ্গে আর কেউ, আর কোনো অভিনেতা বলতে পারতেন না। কিন্তু, আলতাফ মাহমুদের অতীত যিনি জানেন, তার সংগ্রামী ইতিহাস আর মানুষের জন্য তার ভালোবাসার কথা যার জানা, তিনি বুঝতে পারবেন মৃত্যু নিশ্চিত জেনে এর চেয়েও সাহসী উচ্চারণ ছিলো তার।

সেই সাহসী মানুষগুলোর জন্যইতো আজ বাংলা, আজ আমাদের দেশ, আজ বাংলাদেশ।

কঠিন তত্ত্বে না গিয়েও বলা যায়, কিছু মানুষ মানুষের জন্য ভালোবাসা নিয়েই জন্ম গ্রহণ করেন যে ভালোবাসা পরে কোনো আদর্শ দ্বারা অনুপ্রাণিত এবং চালিত হয়। আলতাফ মাহমুদ সেরকম মানুষদের একজন। একটি জনগোষ্ঠীতে এরকম মানুষের সংখ্যা হয়তো খুব বেশি থাকে না। কিন্তু, একাত্তরে আমরাতো এরকম শত-শত, হাজার-হাজার, লাখো সাহসী মানুষ পেয়েছি। সেটা সম্ভব হয়েছিলো স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগ্রামের ধারাবাহিকতায়। সাংস্কৃতিক সংগ্রাম হয়তো কখনো কখনো রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে গেছে, কিন্তু মূলটা ছিলো রাজনীতিতে। আলতাফ মাহমুদের মতো মানুষ সাংস্কৃতিক সংগ্রামে সেই রাজনীতিটাকে ধারণ করেছিলেন অথবা সাংস্কৃতিক সংগ্রামে তিনি আসলে ছিলেন রাজনৈতিক এক শক্তির একক।

সেই একক দশক হয়েছে, সহস্ত্র হয়েছে, অযুত হয়েছে। কারণ একাত্তরের আগের দুই দশকে আলতাফ মাহমুদের মতো রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক সংগ্রামীরা বাঙালির মধ্যে বৈপ্লবিক এক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পেরেছিলেন। সেরকম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগ্রাম না থাকার কারণে বাঙালি মানস আসলে সেটাই যে বাঙালিকে আজ আমরা দেখছি। সাতচল্লিশের আগেও বাঙালির এ মানস ছিলো, একাত্তরের পর আবার সেই মানস ফিরে এসেছে।

মাঝের যে পরিবর্তন সেটা আসলে সেই রাজনৈতিক সংগ্রামের ফসল যে সংগ্রামে রাজনীতিকে সবার উপরে ধারণ করে সাংস্কৃতিক সংগ্রামে ছিলেন আলতাফ মাহমুদ এবং ছিলো মানুষের জন্য তার এবং তাদের ভালোবাসা।

Jui  Banner Campaign
ট্যাগ: অমর একুশেআলতাফ মাহমুদ
শেয়ারTweetPin

সর্বশেষ

পিছিয়ে পড়েও নাটকীয় ম্যাচে লিভারপুলকে হারাল ম্যানসিটি

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬

আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে ঘরের মাটিতে বিশ্বকাপ শুরু শ্রীলঙ্কার

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

বিশ্বকাপে ভারত ম্যাচ বয়কট থেকে সরে আসার পথে পাকিস্তান

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
ছবি সংগৃহীত

হাদির বোন পরিচয়ে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য, ‘ভুয়া’ দাবি পরিবারের

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬

বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে অসন্তোষ জাহানারার

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
iscreenads

প্রকাশক: শাইখ সিরাজ
সম্পাদক: মীর মাসরুর জামান
ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড , ৪০, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সরণী, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮, বাংলাদেশ
www.channeli.com.bd,
www.channelionline.com 

ফোন: +৮৮০২৮৮৯১১৬১-৬৫
[email protected]
[email protected] (Online)
[email protected] (TV)

  • আর্কাইভ
  • চ্যানেল আই অনলাইন সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সম্পর্কে
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • প্রচ্ছদ
  • চ্যানেল আই লাইভ | Channel i Live
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • স্বাস্থ্য
  • স্পোর্টস
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • কর্পোরেট নিউজ
  • আইস্ক্রিন
  • অপরাধ
  • আদালত
  • মাল্টিমিডিয়া
  • মতামত
  • আনন্দ আলো
  • জনপদ
  • আদালত
  • কৃষি
  • তথ্যপ্রযুক্তি
  • নারী
  • পরিবেশ
  • প্রবাস সংবাদ
  • শিক্ষা
  • শিল্প সাহিত্য
  • চ্যানেল আই সকল সোস্যাল মিডিয়া

© 2023 চ্যানেল আই - Customize news & magazine theme by Channel i IT