সাগর সরওয়ার, সাগর মামা। আমার একমাত্র আপন মামাকে নিয়ে লিখবার মতো কথা ফুরোবার নয়, কিন্তু সেটাই সবচেয়ে কঠিন কর্ম হয়ে দাঁড়ায় পরিস্থিতির কারণে। মন যে স্থিত হবে না কোনোদিন, এই ভবিতব্য। কিন্তু আমাকে তাও লিখতেই হবে। আমার দেখা সাগর মামা ও তার বেড়ে ওঠার চিত্র যেটা ধারণা করি অনেকেই আবছা আবছা জানেন, কিন্তু পুরো চিত্রটা জানেন না সেটাই পারিবারিক স্মৃতি ও শ্রুতির সূত্রে সবিস্তারে বলার চেষ্টা করবো যাতে কীভাবে একজন স্বাপ্নিক তরুণ ধীরে ধীরে একজন বিশিষ্ট ও প্রতিষ্ঠিত সাংবাদিক সাগর সরওয়ার হয়ে ওঠেন অসংখ্য মানবিক গুণাবলি নিয়ে, সেটা পাঠকের সামনে তুলে ধরা যায়।
সাগর মামার জন্ম হয়েছিল উত্তাল পদ্মাপাড়ে, নানাবাড়িতে। রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার এক নদীঘেরা গ্রাম। তখন ঘোর বর্ষা। চারপাশ পানিতে থইথই। যেন অথই সাগরের মাঝখানে জন্ম হলো ছেলেটির। তাই মামা-খালারা আদর করে নাম রাখলেন সাগর। জন্মের পর কিছুদিন নানাবাড়িতে কাটিয়ে তারপর পাবনার বেড়া উপজেলার দাদাবাড়িতে কয়েক বছর কাটানো। পরে সচিবালয়ে পিতার কর্মসূত্রে ঢাকায় চলে আসা। সাথে আমার নানী, মা (তিনি সবার বড় বোন, দুই বোনের পর জন্ম একমাত্র ভাইয়ের) ও মেজোখালা। ছয়মাস থাকা হয় মগবাজারে একটা ভাড়া বাসায়। পরে নবাবপুরের রথখোলা মোড়ে একটা ছোট্ট বাড়ি কেনেন নানাভাই। সেখানেই মামার শৈশব-কৈশোর-তারুণ্যের বড় একটা সময় কেটেছে।
নবাবপুরের ওই বাড়িটির তখনকার পরিস্থিতির বর্ণনা না দিলে সাগর মামার বেড়ে ওঠার চিত্র সম্পূর্ণ হয় না। নানা ছিলেন উদারহৃদয় এক বিরাট মানুষ। নানীও ঠিক তেমনই, শুধু কিঞ্চিৎ কড়া। পাবনা কি গোয়ালন্দ থেকে দূর থেকে দূরান্তের কোনো আত্মীয়স্বজন এলেই তাই তাদের ঠিকানা ওই ছয় নম্বর নবাবপুরের ক্ষুদে দেড়তলা বাসাটি। আসছে আর যাচ্ছে। যাচ্ছে আর আসছে। ফলত প্রায়ই পাড়া-প্রতিবেশির টিপ্পনী শোনা যায়: ‘কী ভাই, আপনারা মেস দিলেন কবে?’ কিন্তু সচিবালয়ের কর্মকর্তা নানার নীতিতে পরিবর্তন বিশেষ হয় না।
আয় স্বল্প, কিন্তু পরোপকারে খামতি নেই। কেউ এলেই তাই ছুট টিপু সুলতান রোডের বিখ্যাত মাংসের দোকানে। উপরি কামানোর সুযোগ কম ছিল না, কিন্তু যুগপৎ উদারমনস্ক ও নিষ্ঠাবান ধার্মিক মানুষটি সেসবকে গোটা চাকরিজীবনে রূঢ়ভাবে প্রত্যাখান করেছেন। মামার মধ্যেও এই নিজস্বার্থ না দেখে পরের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রবণতা ও চরম অর্থকষ্টের মধ্যেও সৎ থাকার দৃঢ়তা সঞ্চারিত হয়েছিল, তা পরে বুঝেছি।
আরেকটা ব্যাপার, নানা-নানী এমনভাবে তাদের সন্তানদের বড় করে তুলেছিলেন যাতে সবাই তাদের দাদাবাড়ি-নানাবাড়ি দুটোকেই নিজেদের বলে ভাবতে শেখে। সম্পত্তি ভাগাভাগি ও উত্তরাধিকারের প্যাঁচঘোঁচে দুটিকে আলাদা ভাববার প্রথাগত ঐতিহ্যে তাদের আস্থা ছিল না। ফলে মামার কাছে গোয়ালন্দ কি পাবনার মধ্যে কোনো তফাত ছিল না, দুটোই ‘আমাদের বাড়ি’ (একইরকমভাবে আমিও ছোটবেলা থেকে ছয় নম্বর নবাবপুরকে নিজের বাড়ি বলেই চিনেছি, এবং এখনও তেমনটাই রয়েছে )।
আর আমার বাবা হয়ে উঠেছিলেন মামার আপন বড় ভাইয়ের মতো। অধ্যাপক এই ভগ্নিপতির কারণে লেখালেখিতে ছোটবেলায় উৎসাহ পেয়েছেন এমন কথা লিখেওছিলেন একটি বই তাঁকে উৎসর্গ করতে গিয়ে।
এরই মাঝে আরও দুই মেয়ে, আমার সেজোখালা ও ছোটখালার জন্ম। নানী ব্যস্ত তাদের বড় করতে, নানা যথারীতি অফিসের কাজের চাপে আর আছে দুজনেরই আত্মীয়স্বজনদের দেখভালের কর্তব্য। এর মাঝে আমার মার দায়িত্ব পড়ে নিজে বাংলাবাজার গার্লস স্কুলে যাওয়ার পাশাপাশি নবাবপুর স্কুলে মামাকে আনা-নেওয়ার করার। অল্প কদিনের মধ্যেই মা হয়ে গেলেন ছোট্ট সাগরের গার্জিয়ান।
নবাবপুর স্কুল ছেড়ে পরে মামার পড়াশোনা পোগোজ স্কুলে। উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন রাজধানীর সিটি কলেজে। আর স্নাতক পাশ করেন হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে, তখনকার জগন্নাথ কলেজ আজকের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।
কিন্তু পড়াশোনা যেখানে হিসাববিজ্ঞানের মতো শুকনো বিষয় নিয়ে, সেখানে সাংবাদিকতায় আগ্রহ কী করে জন্মালো সাগর মামার? মনে হয়, জন্মের পর থেকেই অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বেড়ে ওঠা (মাঝেমধ্যেই এক কি দুইদিনের জন্য ঘর পালিয়ে বিচিত্র জায়গা দেখে বাড়ি ফিরেছেন, এমন ঘটনা কৈশোরকালে খুব দুলর্ভ ছিল না) ও পারিবারিকসূত্রে বই পড়ার অভ্যাস পাওয়া– এই দুটি বিষয় তাকে সাংবাদিকতার পথে পা বাড়াতে উৎসাহিত করেছিল।
নানা-নানীর নিজেদের বই পড়ার অভ্যাস যেমন ছিল, তেমনি ছেলেমেয়েদের পাঠ্যপুস্তকের বাইরের ‘আউটবই’ পড়তেও কোনো মানা করতেন না। ক্লাস সেভেন-এইটে পড়ার সময় স্কুলটাইমের পর মামার একটা বড় সময় কাটতো ওসমানি উদ্যানের মহানগর গ্রন্থাগারে।
আর বাড়ির কাছেই তো বাংলাবাজার, তখন হাঁটাপথে পাঁচ মিনিট। জগন্নাথ কলেজের সামনে পুরেনো বইয়ের পরসা নিয়ে দোকানিরা হাজির। অনেক দামী বই তখন মামা জলের দরে কিনে আনতেন, সেইসব দোকানির অনেকেই হয়ে উঠেছিলেন তাঁর কাছের মানুষ। পরে জগন্নাথ কলেজে ভর্তি হবার পর অনেকেই ঠাট্টা করেছিলেন এই বলে, ‘তুইতো পুরান বই পড়ার আর কেনার জন্য ওখানে ভর্তি হয়েছিস।’
একটু পাদটীকার মতো করে বলি, আমার বই পড়ার অভ্যাস গড়ে উঠবার পেছনেও মামার অবদান বিরাট। জ্ঞান হতে না হতেই সেবা প্রকাশনীর অনুবাদ কি তিন গোয়েন্দা থেকে শুরু করে আনন্দমেলা পত্রিকার বর্ণিল সব সংখ্যা তিনি এনে দিতেন আমাকে। পরে আরেকটু পরিপক্ক হয়ে তার সংগ্রহ থেকে নিয়ে এসেছি বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার ওপর একটি দুস্প্রাপ্য ইংরেজি বই, সাংবাদিক শংকর ঘোষের অসামান্য স্মৃতিকথা হস্তান্তর (তাও আবার লেখকের সইসমেত)সহ আর নানা বহু বিচিত্র বই ও পত্রিকা।
তো ইন্টারমিডিয়েট-পর্ব পার করার পরই ইচ্ছা চাপলো মনে, সাংবাদিক হবেন। মনে তখনই এই ইচ্ছার বিদ্যুৎলতা প্রবাহিত হবার নেপথ্যে একটা ঘটনা আছে। আমরা তখন থাকতাম ময়মনসিংহ শহরের কেওয়াটখালিতে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে আমার বাবার অধ্যাপনাসূত্রে। মামা মাঝেমধ্যে সেখানেও এসে থাকতেন কিছুদিন। আমাদের ভাড়া বাসার মালিকের জ্যেষ্ঠ পুত্র, কৃষি-সমাজবিজ্ঞানের ছাত্র কামরুজ্জামান ওবাদুল্লাহ ছিলেন স্থানীয় একটি পত্রিকার সাংবাদিক, পাশাপাশি ছিল কবিতা লেখার নেশা।
আমাদের বাসায় আসার ফলে মামারও পরিচয় ঘটে সুদর্শন-সপ্রতিভ এই মানুষটির সাথে। তার কাছে থাকা সাংবাদিকতা সংক্রান্ত কিছু বই ও নোটপত্র ঘেঁটে দেখে তারও আগ্রহ জন্মায় এই পেশার প্রতি। কামরুজ্জামান ওবায়দুল্লাহ পরে ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, রোগশয্যায় তার সংগৃহীত সাংবাদিকতা সংক্রান্ত বইপত্রগুলো তিনি মা-কে দিয়ে বলেছিলেন ‘আপা, সাগরকে এগুলো দেবেন, আমি তো পারলাম না, ও অবশ্যই পারবে।’ এর মাসখানেক পরেই তিনি মারা যান।
তখন জনকণ্ঠ পত্রিকার প্রচার ও প্রসার চোখে পড়ার মতো ছিল। মতিঝিলের গ্লোব ভবনে পত্রিকাটির অফিসে এসে পেয়ে গেলেন প্রেস ম্যানেজার মোস্তফা সাহেবকে। তখন তাঁর মনে হয়েছিল, পত্রিকা ছাপার কাজ যেহেতু প্রেসেই হয়, তাই সাংবাদিক নিয়োগের কাজটিও প্রেস ম্যানেজারই করে থাকেন! তরুণের চাকরির আবদারে না রেগে প্রসন্ন মুখে মোস্তফা সাহেব বুঝিয়ে বলেন: তুমি ডিগ্রি পাশ করে তারপর এসো, এখনতো চাকরি মিলবে না।
ওই সময় আজকের কাগজ হাউজের ‘খবরের কাগজ’ পত্রিকার ‘একস্লিপ’ বিভাগে মামা কিছু লেখা পাঠান, কয়েকটি ছাপাও হয়। ফলে যথারীতি উৎসাহ আরো বাড়ে। জগন্নাথ কলেজ থেকে পাশ করে বেরুবার পর টুকটাক ফিচার লেখালেখি চলতে থাকে।
তারপর প্রথম চাকরি ভোরের কাগজ পত্রিকার ফিচার বিভাগে। আনিসুল হক কি সঞ্জীব চৌধুরীর মতো খ্যাতনামা অগ্রজের সান্নিধ্যে থেকে আনন্দের সাথে কাজ করেছিলেন সেখানে। একই সময় ঝোঁক চাপে ছোটদের একটা পত্রিকা বের করার। পরে বন্ধু তাজিন আহমেদের সাথে মিলে ‘জুঁইপা’ নামের একটি ক্ষুদে কাগজ বের করা।
এরও পরে পার্বত্য চট্টগ্রাম ঘুরে এসে সে সম্পর্কে একটি রিপোর্ট লেখেন ওখানেই। সেটা কী করে যেন নজরে পড়ে যায় দৈনিক সংবাদ-এর বার্তা সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুলের নজরে। ফলশ্রুতিতে মামার ‘সংবাদ’-এ নিয়োগপ্রাপ্তি।
এই ঘটনাকে মামার সাংবাদিক-জীবনের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলা চলে অনায়াসে। এরপর পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিটে একের পর এক সাড়া জাগানো রিপোর্ট লেখা। শান্তিচুক্তির সময়ও মামা গিয়েছিলেন সেই অভূতপূর্ব ঘটনাটি কাভার করতে। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে রিপোর্টিং করতে গিয়েই মামার পরিচয় দুই মহৎপ্রাণ অগ্রজ সাংবাদিকের সাথে, যারা কিনা তাকে বাকি জীবন ধরেই স্থানগত দূরত্বে থাকা সত্ত্বেও প্রশ্রয়-আশ্রয়-পরামর্শ দিয়ে যাবেন, এবং যতটা না প্রবীণ সহকর্মী, তার থেকে বেশি উঠবেন আপন বড় ভাইয়ের মতো। এই দুজন হলেন দৈনিক সংবাদ-এর সাবেক পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিনিধি সুনীল কান্তি দে ও দৈনিক জনকণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি ফজলুল বারী। সেই ক্ষুদেবেলা থেকেই নানাবাড়িতে ‘সুনীলদা’ ও ‘বারীভাই’ এই দুটি নাম শুনেছি বারবার (সুনীল কান্তি দে-র সাথে পরিচয়ের সুযোগ আমার হয়নি, ছোটবেলায় একবার আমাকে দেখেছেন এই যা, আর পরবর্তীকালে প্রবাসী হওয়া ফজলুল বারীকে পেয়েছি ফেসবুকসুত্রে আপন স্বজন হিসেবে)।
জ্বালানি বিটে মামা দারুণ সব রিপোর্ট করা শুরু করেন। এই বিষয়টির প্রতি আগ্রহ থেকেই পরে নিজের সম্পাদনায় চালু করেন ‘এনার্জিবাংলা’ নামে জ্বালানিখাত বিষয়ক ওয়েব ম্যাগাজিন। ফজলুল বারীর একটি লেখার সূত্রে জেনেছি, তখন থেকে সংবাদ কতৃর্পক্ষের কাছে আরো আদরণীয় হয়ে ওঠেন মামা, তাই কখনও জনকণ্ঠে কর্মরত বারী আঙ্কেল ওই সময়কালে সংবাদ দপ্তরে গেলে আহমদুল কবীরের ছেলে আলতামাশ কবীর মজার ছলে বলে উঠতেন: ‘আমার সাগরকে কিন্তু ভাগিয়ে নিতে এখানে এসো না, সংবাদে তোমার ঢোকা নিষিদ্ধ করে দেব’।
মামার অবশ্য জনকণ্ঠে কাজ করার ব্যাপারে আগ্রহ ছিল, সে কথা আমাদেরও বলেছিলেন। কিন্তু ফজলুল বারীর শত চেষ্টা সত্ত্বেও পত্রিকার কয়েকজন সিনিয়র কর্মীর কারণে তা আর সম্ভবপর হয়নি। পরে গোলাম সরওয়ারের সম্পাদনায় ‘যুগান্তর’-এর যাত্রা শুরু হলে মামা সেখানে যোগ দেন। সেখানেও জ্বালানি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একের পর এক দুর্দান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ হতে থাকে। কিন্তু মালিকপক্ষের একটি অনায্য ও নোংরা রাজনৈতিক দাবির মুখে নত না হয়ে মামা ওই পত্রিকাটি ত্যাগ করেন।
‘যুগান্তর’-এ থাকতেই মামার বিয়ে। বিয়ের আগেভাগে যখন কে আমাদের মামী হতে যাচ্ছেন জেনেছি, তখন অবাক হয়ে দেখলাম: আরে, তাকে আমি আগে থেকেই চিনি! সাংবাদিকতা সূত্রে বন্ধু হওয়া মেহেরুন রুনী ও আরো কয়েকজন সাংবাদিক-বন্ধুকে নিয়ে মামা আমাদের ময়মনসিংহের বাসাতেও একবার এসেছিলেন যে আগে। তো বন্ধু থেকে প্রণয়, পরিণয়ে পরিবারের বিন্দুমাত্র আপত্তি দেখিনি, আগেই যেটা বলেছি, আমার নানা ও নানীর মতো উদারহৃদয় মানুষ আমি আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে কমই দেখেছি আদতে। পরে মেঘের জন্ম যখন হয়, নানা তখন বছর তিনেক হলো পরপারে।
সেই দুঃখ বুকে নিয়েই মেঘকে আমাদের সাদরে বরণ করা। মেঘের মধ্যেকার সপ্রতিভ মনের পরিচয় পেয়েছি তার বছর দুই-তিন বয়স থেকে। এখন বিরাট আফসোস ও কষ্ট হয় এই ভেবে, কেন এই অসামান্য ছেলেটির সুস্থ-স্বাভাবিক বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দিলো কতিপয় কাপুরুষ!
সাগর মামা দীর্ঘদিন সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন ‘ইত্তেফাক’-এ। যতদূর বুঝেছি ও মামার মুখ থেকেই শুনেছি, ‘সংবাদ’-এর পর ইত্তেফাকেই তাঁর সবচেয়ে স্বস্তির সময়টুকু কেটেছে। শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও বহু বিচিত্র বিষয়ের ওপর রিপোর্টিং করেছিলেন মামা। বিশেষ করে নেপালের মাওবাদীদের সন্ধানে গিয়ে যেসব অভিজ্ঞতা তাঁর হয়েছিল, তা রীতিমতো রোমাঞ্চগল্প শোনার আগ্রহ নিয়ে জেনেছি।
ইত্তেফাকে কর্মরত অবস্থাতেই মামা জার্মানির ‘ডয়েচে ভেলে’-তে কাজ করবার সুযোগ পান। চিরকালের বহুবিচিত্র অভিজ্ঞতা-পিয়াসী তিনি দ্বিধা করেননি। উড়াল দেন জার্মানির পথে। বন শহরে তাঁর কর্মস্থল। এই সময়টা মামাকে কাছে না পাওয়ার দুঃখে পূর্ণ। ফেসবুক মারফত যতটা তাঁকে পাওয়া যেত, সেটুকুই ছিল সম্বল। ফেসবুকেই দেখতাম তার পরিপাটি কর্মস্থলের ছবি, মামা-মামী ও মেঘের একসাথে ঘুরে বেড়ানোর দৃশ্যাবলী। মাঝে মাঝে দেশে আসতেন সপ্তাহ দুয়েকের জন্য, তখন দিনরাত একসাথে কাটিয়েও কত কথা যে না বলা থেকে যেতো।
২০১১’র পর যখন পাকাপাকিভাবে দেশে ফিরলেন, তখন ভাবলাম, এইবার মামাকে আবার পুরোদমে পাবো, আগের মতোই জ্বালাবো। হায়! সেই সুখী ভাবনা যে কয়েক মাস পরেই ভয়াবহতম দুঃস্বপ্নে পরিণত হবে, তা তো আর জানতাম না। চোখ ভেসে যায়, চোখ ভিজে আসে….।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








