ইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন তিনি। ছিলেন মুক্তিযুদ্ধকালীন ও মুক্তিযুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর সিদ্ধান্তের বিচক্ষণতায় ১৯৭১ সালে পৃথিবী দেখেছিলো একটি সুসংগঠিত ও সফল মুক্তিযুদ্ধ। অত্যন্ত ধীর স্থির আর ঠাণ্ডা মাথার মানুষটি কখনো নিজের সততার জায়গা থেকে এক চুল পরিমাণ নড়েন নি।
ফায়দা নেয়া কিংবা ইতিহাসে নাম উঠানোর জন্য দেশকে ভালোবাসার ভান করেন নি তিনি। প্রকৃতি দেশপ্রেমিক ছিলেন। তাই তো উচ্চ কণ্ঠে বলতেন-‘মুছে যাক আমার নাম, তবু বেঁচে থাক বাংলাদেশ’।
বলছি তাজউদ্দীন আহমদের কথা। বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাঁরই দেয়া দিকনির্দেশনা মেনে যে মানুষটি বাংলাদেশের অভ্যুদ্বয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। আর এই মানুষটিকে এবার বহুল আলোচিত যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘বঙ্গবন্ধু’তে পর্দায় তুলে ধরবেন ‘বোস: দ্য ফরগটেন হিরো’র নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল। তাঁর আদলে সিনেমার পর্দায় যে মানুষটি অভিনয়ের জন্য চূড়ান্ত হয়েছেন, তিনি চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ।
তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষকে পর্দায় ফুটিয়ে তুলতে কেমন প্রস্তুতি ফেরদৌসের? জানতে যোগাযোগ করা হলে ‘হঠাৎ বৃষ্টি’র এই নায়ক জানান, ‘তাজউদ্দীন আহমদের মতো গ্রেট মানুষের চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ, এটা ভেবেইতো ভীষণ এক্সাইটিং! আমার ক্যারিয়ারে এতো বড় প্রাপ্তি আর নেই।’
থেমে ফেরদৌস বলেন, বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ইতিহাসের একজন মানুষকে নিয়ে ফিল্ম হতে যাচ্ছে, এটা একটা দলিল হয়ে থাকবে, ইতিহাস হয়ে থাকবে। তো এরকম একটা ফিল্মর সাথে নিজের অংশগ্রহণ আমার মতো অভিনেতার জন্য অনেক বড় ব্যাপার! তারউপর তাজউদ্দীন আহমদের মতো মানুষের চরিত্রে, যার বিরাট অবদান এই বাংলাদেশের জন্য। আমি সত্যিই অভিভূত।
ব্যক্তিগত প্রস্তুতির জায়গা থেকে ফেরদৌস বলেন, আমার বেস্ট অ্যাফোর্ড দিয়ে সাধ্যমত চেষ্টা করবো চরিত্রটি যতোটুকু বিশ্বাসযোগ্যতার মধ্য দিয়ে আমি পর্দায় তুলে ধরতে পারি! এরজন্য প্রাক প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিশেষ করে ইতহাসের পুনঃর্পাঠ, তাজউদ্দীন আহমদকে ঠিকভাবে জানা, তার কাছের লোকজন ও পরিবারের কাছ থেকে তার সম্পর্কে গল্প শোনা-এরকম করে আমি ব্যক্তিগতভাবে ভাবছি নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য। আর এই চরিত্রটি নিয়ে নিশ্চয়ই যারা স্ক্রিপ্ট করেছেন তারা প্রচুর রিসার্চ করেছেন, যারা প্রপস-মেকাপে আছেন তারা গবেষণা করছেন। শুটিংয়ে যাওয়ার আগে সবাই আমাদের সাথে বসবেন, গ্রুমিং করবেন। ইতিহাসের চরিত্রগুলো কীভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা যায় সবার দিক থেকেই দিক নির্দেশনা থাকবে!
শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছে ফেরদৌসের। তিনি বলেন, শ্যাম বেনেগাল জানেন যে আমি শুধু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে নয়, পাশাপাশি ভারতীয় চলচ্চিত্রেও অভিনয় করি। বাসু চ্যাটার্জীর ছবিতে কাজ করেছি, এটি শুনে তিনি খুশি হয়েছেন।








