চট্টগ্রাম থেকে: প্রতিটি মানুষের বদলে যাওয়ার পেছনে থাকে কোনো না কোনো গল্প। ইমরুল কায়েস কীভাবে বদলেছেন সেটি অবশ্য রহস্যই থেকে গেল। কীভাবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে রানের ফল্গুধারা ছুটিয়ে চলছেন সে প্রশ্নে স্বল্প কথায় জবাব দিলেন অন্তর্মুখী এ বাঁহাতি ওপেনার।
‘আমাকে আমার মতো খেলতে দিন। আমি অতো কিছু জানি না। কীভাবে কি! এত বড় খেলোয়াড় হইনি এখনও। তিনটা ম্যাচ ভালো খেলেছি। আর চেষ্টা করব বাকি ম্যাচগুলো ভালো খেলার।’
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইমরুল দেখিয়েছেন ধারাবাহিকতার অনন্য নজির। তিন ম্যাচে করেছেন ৩৪৯ রান। যেটি যেকোনো সিরিজেই বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ। সেঞ্চুরি করেছেন দুটি। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে ১৪৪ রানের অপরাজিত ইনিংস। শুক্রবার চট্টগ্রামে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে করেন ১১৫। আর দ্বিতীয় ম্যাচে তার ব্যাটে আসে ৯০ রান।
ওই ম্যাচে সেঞ্চুরির সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন ইমরুল। যদি আর দশটা রান করতে পারতেন টানা তিন সেঞ্চুরির কীর্তি গড়া হয়ে যেত বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে। তবে সেটি নিয়ে আক্ষেপে পুড়ছেন না। তবে ভুলের পর যে উপলব্ধি হয়েছে সেটি হয়ে থাকছে আগামী দিনের পাথেয়।
‘আমি শূন্য রানে আউট হতে পারতাম। রান করেছি তিনটা ম্যাচে এটা অবশ্যই ভালো লাগছে। তিনটা সেঞ্চুরি হলে ভালো লাগত, যেহেতু এটা কেউ কখনো করেনি বাংলাদেশের হয়ে। বাংলাদেশি হিসেবে আমি প্রথম করতাম, আমার একটা সুযোগ ছিল। আমারও খারাপ লাগছে সেদিন রুমে গিয়ে। ওটাই চিন্তা করছিলাম আবার ৯০-এর ঘরে গেলে আর ভুলো করব না।’
ইমরুল ধারাবাহিক নন, এ কথা শুনতে হয়েছে বহুবার। এবার সে সমালোচনা চাপা দিয়েছেন। স্ট্রাইকরেট একশর কাছে রেখে রানের দৌড়ে ছুটেছেন পরিশ্রমী এই ক্রিকেটার। এরপরও যে যাই বলুক, তাতে মাথাব্যথা নেই ইমরুলের। নিজের শক্তি-দুর্বলতা সম্পর্কে জানেন বেশ ভালো করেই।
‘খুব ভালো লাগছে কারণ ম্যাচটা জেতাতে পেরেছি বিশেষ করে। এটা অবশ্য আমার ক্রিকেট জীবনে বড় প্রাপ্তি। চেষ্টা করব এটা ধরে রাখতে। আসলে অনেক কথাই বলে লোকে যে ধারাবাহিকতা নেই। জানি আমি কোথায় রান করি বা করি না। এটা নিয়ে আমি আতঙ্কিত না।’








