বিএনপি সরকারের শত্রু নয়, প্রতিদ্বন্দ্বী উল্লেখ করে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকারের মধ্যে পরাজয়ের ভীতি ঢুকেছে। কিন্তু এমন ভয় রাখা উচিত নয়। কারণ গণতন্ত্রে জয়-পরাজয় থাকবেই।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
‘অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ভূমিকা ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভা আয়োজন করে নাগরিক অধিকার আন্দোলন ফোরাম।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা ভয় থেকে নানা কথা বলে বেড়াচ্ছেন। খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন নির্বাচনে হেরে গেলে আওয়ামী লীগও নাকি রোহিঙ্গা হয়ে যাবে। তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এক লাখ মানুষ মারা যাবে। কিন্তু এসব ভুল কথা। গণতান্ত্রিক নির্বাচনে কেউ হারবে, কেউ জিতবে। আমরা কারো ক্ষতির চিন্তা করিনা। রাজনীতি করি তো আবেগ থেকে, দেশকে ভালোবেসে। কারো ক্ষতির জন্য নয়।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রে ভয়ের কিছু নেই৷ ভয় পায় তারাই যারা দোষ করে। আওয়ামী লীগ এমন অপরাধ করেছে যে, তারা ভয়ে আছে। আজকে গণতন্ত্রের গলা টিপে ধরা হয়েছে। আজকে মৃত প্রায় গণতন্ত্র যদি নিহত হয় তাহলে আবার কখন গণতন্ত্র ফিরে পাই তার ঠিক নেই। মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ করা হয়েছে। নতুন ডিজিটাল আইন দিয়ে গণমাধ্যমের গলা টিপে ধরা হবে। অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমরা যেন আজ ৭৫ পূর্ববর্তী সময়ে ফিরে যাচ্ছি৷
বিএনপি নেতা বলেন, মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে। মানুষ সব বুঝে। মোটামুটি রকমের যদি একটি অবাধ নির্বাচন হয়, আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় হবে। তাই তারা ভয়ে আছে।
আমি বলি সব সময় কেউ জেতে না। কখনো হারবে কখনো জিতবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী বলেছেন, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। প্রতিহিংসা থেকে আমরা কারো বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবো না। কাজেই ভয় পাবেন না। নিরপেক্ষ নির্বাচন দেন।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, জনগণ চায় বেগম জিয়া বেরিয়ে আসুক এবং তার নেতৃত্বে সুষ্ঠু একটি নির্বাচন হোক। সেখানে যারা জিতবে তারাই সরকার গঠন করবে। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে তাকে মুক্তি দিন।
সংগঠনের সহ-সভাপতি মোঃ মজিবর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা রহমান।







