দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে নৌবাহিনীর মতো প্রযুক্তি নির্ভর বাহিনীকে যুগোপযোগী রাখার প্রয়াস অব্যাহত রাখতে সকলকে সচেষ্ট থাকার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এ অঞ্চলে যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদের বিরাট ভূমিকা কাজে লাগানোর দায়িত্ব নৌবাহিনীর।
নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজের কমিশনিং ও দুটি এলসিটি অন্তর্ভূক্তিকরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মংলা নৌঘাটিতে এসে পৌঁছালে নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল এম ফরিদ হাবিব এবং খুলনা আঞ্চলিক কমান্ডার তাকে স্বাগত জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে জাহাজের অধিনায়কদের হাতে কমিশনিং ফরমান তুলে দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সার্বভোমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশকে সমৃদ্ধশালী করতে নৌবাহিনীকে শক্তিশালী ও অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলা হবে। শুধু দেশে নয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলেই প্রত্যাশা।
নতুন জাহাজগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে অর্পিত দায়িত্ব সফল ও নিরাপদভাবে পালন করার প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
নৌবাহিনীর উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, এই পেশায় যেমন আছে চ্যালেঞ্জ তেমনই আছে বিশালতার আহবান। আমরা বিশ্বাস করি সাগরের মতোই বিশাল আপনাদের দেশপ্রেম। দেশের উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদের বিশাল ভূমিকা কাজে লাগানোর দায়িত্ব আপনাদের। নতুন জাহাজগুলোকে ব্যবহার করে আপনারা যেন সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন সেই প্রত্যাশা করি।
অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশেই যুদ্ধজাহাজ নির্মাণ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে নতুন জাহাজগুলো ঘুরে দেখেন তিনি।
এরপর খুলনা শিপইয়ার্ডে উপস্থিত হয়ে দুটি লার্জ পেট্রোল ক্রাফটের কিল লেয়িং ও কনটেইনার ভেসেল এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। নৌবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রুগ্ন শিপউয়ার্ড শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোয় তাদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। কনটেইনার ভেসেলটি অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহন কাজে ব্যবহার করা হবে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ খান জাহান আলী ২৭’শ টন জ্বালানি তেল, ২৩৩ টন খাবার পানি এবং ১৬১ টন এভিয়েশন ফুয়েল নিয়ে ঘন্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। এর চেয়ে কিছুটা কম ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন সন্দীপ ও হাতিয়া জাহাজ এবং এলসিটি ১০৩ ও ১০৫ যুক্ত হয়েছে নৌবাহিনীর বহরে। এগুলো যুদ্ধাকালীন সময়ে সামরিক সদস্য, ট্যাংক, ভারী যানবাহন বহন করবে। এছাড়াও দুর্যোগকালীন সময়ে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সরবহারেও কাজ করবে এই জাহাজগুলো।






