চট্টগ্রাম থেকে: শ্রীলঙ্কা যেভাবে ব্যাট করে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের করা ৫১৩ রান কমই মনে হচ্ছে। স্বাগতিকদের করা সংগ্রহ স্পর্শ করতে লঙ্কানদের চাই মাত্র ৯ রান, হাতে ৭ উইকেট। প্রথম ইনিংসে সফরকারীরা কত রানের লিড পায় সেটির উপর ম্যাচের গতিপথ মঞ্চস্থ হবে জহুর আহমেদের মরা পিচে।
ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নির্বিষ বোলিংয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়েও উঠল প্রশ্ন। রানটা আরও বাড়ানোর সুযোগ ছিল সেটি মানেন দলের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও।
‘হয়ত আমরা সুযোগটা হাতছাড়া করেছি। প্রথমদিনে রানটা ৪ উইকেটে ৩৭৪ না থেকে ২ উইকেটে বা ৩ উইকেটে ৪৭৪ থাকতে পারত। শেষের দিকে একটা রান আউটের মূল্য দিতে হয়েছে, ভুল শট নির্বাচনও ছিল। না হলে হয়ত ৬০০, সোয়া ছয়শ’র মত করতে পারতাম আমরা। তাহলে হয়ত আরেকটু ভাল অবস্থানে থাকতাম।’
ব্যাটসম্যানরা যে নিবেদন দেখিয়ে পাঁচশ পেরোনো সংগ্রহ গড়েছেন তাতে লেটারমার্কস দেয়া চলে। মোটাদাগে বড় আক্ষেপের নাম তো বোলিংই। আগেরদিন শুরুতেই উইকেট তুলে সম্ভাবনা জাগানো বাংলাদেশ পরের ১৩৫ ওভারে লঙ্কানদের উইকেট ফেলতে পেরেছে মাত্র দুটি। সফরকারীদের দ্বিতীয় উইকেট জুটি ৩০৮ রানের। মোস্তাফিজের শিকার হয়ে ধনঞ্জয়া (১৭৩) ফেরায় ভাঙে জুটি। তৃতীয় উইকেটে জুটি ১০৭ রানের। আর চতুর্থ উইকেট জুটি অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের। শ্রীলঙ্কার ইনিংসের এ তিনটি জুটিই বলেই দেয় ২২ গজে কতটা অসহায় ছিল স্বাগতিক বোলাররা।
খালেদ মাহমুদ মনে করেন জুটি বেধে বল করতে না পারাতেই এমন হয়েছে, ‘কিছু সময়ে আমরা অবশ্যই ভাল বোলিং করেছি। তবে টেস্ট ম্যাচে জুটি বেধে বোলিং করা গুরুত্বপূর্ণ। আমার মনে হয় না কিছু সময় আমরা ভাল বোলিং করেছি। জুটি বেঁধে বোলিং ভাল ছিল না। পরিকল্পনা ছিল একদিক থেকে আমরা আক্রমণ করব, আরেকদিক থেকে রক্ষণাত্মক থাকব, সেটা হয়নি। আমরা খুব ভাল করিনি আসলে। খুব একটা সন্তুষ্ট নই আমি। উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য খুব ভাল। তারপরও আমরা আরেকটু ভাল করতে পারতাম।’
বোলিং ব্যর্থতায় সাগরিকায় বাংলাদেশ যেন ফিরিয়ে আনছে ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে লঙ্কানদের বিপক্ষে সবশেষ খেলা মিরপুর টেস্টকে। ওই ম্যাচে বাংলাদেশের করা ২৩২ রানের জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ৭৩০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল লঙ্কানরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের সেই ইনিংসে অবদান রাখেন দলের সব ব্যাটসম্যানই। জয়াবর্ধনের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি (২০৩*), কুশল সিলভার ১৩৯, কিথুরুয়ান ভিথানাগের ১০৩, সাঙ্গাকারার ৭৫, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজের ৮৬ ও করুনারত্নের ৫৩ রানে গড়া সাতশ পেরোনো সংগ্রহের ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে জেতে লঙ্কানরা।
চট্টগ্রাম টেস্টে ১৩৮ ওভার বল করে শ্রীলঙ্কার মাত্র তিনটি উইকেট ফেলতে পেরেছে বাংলাদেশ। দলীয় রান পাঁচশ ছাড়িয়েছে। সাত উইকেট হাতে রেখ লঙ্কানরা পিছিয়ে মাত্র ৯ রানে। কুশল ১৯৬, ধনঞ্জয়া ১৭৩ করে ফিরে যাওয়ার পর হাল ধরেছেন রোশেন সিলভা ও অধিনায়ক চান্দিমাল। সিলভা সেঞ্চুরি (৮৭*) ও চান্দিমাল ফিফটির (৩৭*) আশা জিইয়ে রেখে দিন শেষ করেছেন। চার বছর আগের মিরপুর টেস্টে ফিরে যেতে না চাইলে চতুর্থ দিনে অন্যরূপ দেখাতে হবে বাংলাদেশকে। বোলিংয়ের পাশাপাশি ফিল্ডিং ও ভাগ্যকেও সঙ্গী করতে হবে স্বাগতিকদের। দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই।








