রাজকীয় বিয়ে বলে কথা। তাও আবার সেই রাজপরিবারের বিয়ে যাদের রাজত্বকে অভিহিত করা হত সূর্য না ডোবা রাজত্ব। যদিও সেই রাজত্ব নেই। তবে সে আভিজাত্য আর শান-শওকত এখনও ফিকে হয়নি। জৌলুসও রয়েছে বেশ।
তাদের মা ডায়নার বিয়েতেও বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল। তারপর বড় ছেলের বিয়ের জৌলুসও দেখেছে বিশ্ব। সর্বশেষ ছোট ছেলে রাজপুত্র হ্যারির বিয়ে। এখানেও জৌলুস আর আভিজাত্যের প্রদর্শনী বাদ পড়বে কেন। বাদ পড়েনি। বরং পুরো মাত্রায় ছিল। সেই জৌলুসের বড় আকর্ষণ সিনেমা-সংগীত আর খেলাধুলার অঙ্গনের মহাতারকাদের অংশগ্রহণ। বিশেষ করে হলিউড তারকাদের দিকে চোখ ছিল সবার। কারা আমন্ত্রণ পায়। এমন বিয়েতে আমন্ত্রণ মেলাটাই বড় বিষয়।
যারা আমন্ত্রণ পেয়েছে তাদের প্রত্যেকের প্রতি অনুরোধ ছিল অনুষ্ঠানের আগে নাম না প্রকাশ করার। তারা তা পালন করেছেনও। তারপর! ব্রিটিশ রাজপরিবারের কণিষ্ঠ রাজপুত্র হ্যারির বিয়েতে উপস্থিত হলিউড, সংগীত কিংবা খেলার তারকাদের দেখে সবাই বলে উঠেছে-ও! তারা।
প্রথমেই আসবে টেলিভিশন উপস্থাপনার মহাতারকা এবং বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নারী অপরাহ উইনফ্রেহ’র কথা। তারপর কেনিংসটন প্রাসাদে হলিউডের মহাতারকা জর্জ ক্লুনি আর তার তারকা আইনজীবী বউ আমাল ক্লুনি বর্ণিল উপস্থিতি মন ভরিয়েছে সবার।
উইন্ডসর থেকে কিছু সময়ের দুরত্বে থাকেন ক্লুনি। নিজের দ্বীপে। তার স্ত্রী আমাল ক্লুনির বন্ধু আবার রাজবধু হয়ে যাওয়া সাবেক অভিনেত্রী মেগান মর্কেল।
দেখা যায় লন্ডনে জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ইদ্রিস অ্যালবাকে প্রেমিকা সাবরিনা ডেরিসহ।

ছিলেন টেনিসের মহাতারকা সেরেনা উইলিয়াম। তার পতিদেব রেডিট এর সহ প্রতিষ্ঠাতা আলেক্সিস ওহানিয়ানসহ। সেরেনা আর মার্কেল এর বন্ধুত্বের বয়স যদিও এক বছরের বেশি কিছু সময়। তবে বন্ধুত্ব খুব গাঢ়। সেরেনারে টেনিসের ভীষণ ভক্ত সাবেক অভিনেত্রী মেগান মার্কেল। নয়া ব্রিটিশ রাজবধু।

এদিকে ভিক্টোরিয়া এবং ডেভিভ বেকহ্যাম জুটির জ্বলজ্বলে উপস্থিতি রাজপুত্রের বিয়ের রোশনাই বাড়িয়েছে বহুগুন। জানুয়ারিতেই চাউর ছিল স্পাইস গার্লস এর অন্যতম ভিক্টোরিয়া বেকহ্যাম তার সাবেক ব্যান্ডসদস্যসহ রাজ বিয়েতে থাকবেন। তবে মে’র শুরুর দিকে শোনা যায় ভিন্ন কথা। যাহোক সবশেষ তিনি উপস্থিত হয়েছেন তবে স্বামী ফুটবলের ইংল্যান্ড দলের সাবেক দলপতি ডেভিড বেকহ্যাম এর হাত ধরে।

আর ছোট রাজপুত্রের বিয়েতে একজন যে থাকবেন সেটি অবধারিত ছিল। যিনি ১৯৯৭ সালে তার মায়ের চিরবিদায়ে বাজিয়ে গেয়েছিলেন ‘ক্যান্ডেল ইন দ্য উইন্ড’। তারা মা প্রিন্সেস ডায়নার অন্যতম সেরা বন্ধু ছিলেন। এইডস সচেতনতার কার্যক্রমে ছিলেন ছায়ার মত। তার বড় ভাই উইলিয়ামের বিয়েতে ছিলেন আমন্ত্রিত অতিথি। ছোটজনের বিয়েতে থাকবেননা তা কি হয়। তিনি আর কেউ নন ব্রিটেনের রানীর কাছ থেকে ‘নাইট’ উপাধীর গায়ক স্যার এল্টন জন।

স্বামী মার্কাস মামফোর্ডসহ উপস্থিত ছিলেন ক্যারি মুলিগান। রাজকীয় বিয়েতে আরো দেখা যায়, স্ত্রী জুলিয়া ক্যারিসহ জেমস কর্ডন, ‘পিকি ব্লাইন্ডার্স’ অভিনেত্রী স্ত্রী শার্লট রিলেসহ মুক্তি প্রতিক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ফনজো’ অভিনেতা টম হার্ডি।
সব মিলিয়ে তারায় তারায় খচিত রাজপরিবারের কণিষ্ঠ রাজপুত্রের বিয়ের জমক অনেক দিন পড়বে সবার। যারা আসলেন তারাও কি ভুলতে পারবেন?







