চট্টগ্রাম থেকে: ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৮০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪৯.৩ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান তুলেছে মুমিনুল হকের দল। ২৩ রান করা আবুল হাসান রাজু মাথার যন্ত্রণায় মাঠ ছাড়েন। পরে আর মাঠে নামা হয়নি এ অলরাউন্ডারের। স্ট্রেচারে করে ড্রেসিংরুমে নেয়া হয়েছে তাকে। এর ফলে ৯ উইকেট পতনেই ইনিংস শেষ হয়েছে স্বাগতিক দলের।
ইনিংস বিরতির সময় জানা গেছে আবুল হাসানের বোলিং করা নিয়েও শঙ্কার মেঘ জমেছে। স্বল্প পুঁজি নিয়ে তাই বিপদেই আছে স্বাগতিকরা। দলের ম্যানেজার হাবিবুল বাশার সুমন জানিয়েছেন, প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে পেস-অলরাউন্ডার আবুল হাসানকে।
লঙ্কান পেসার আসিলা ফার্নান্দোর হ্যাটট্রিকে বিপর্যয়ে পড়া স্বাগতিক দলের ইনিংস টেনে নেন নাসির হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। নাসির ৩৯ রান করে লেগস্পিনার অনিন্দ্য ডি সিলভার বলে এলবিডব্লিউ হন। ৩৭ করে অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে বিদায় নেন সাইফউদ্দিন।
শুরু দেখে মনে হচ্ছিল জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট ব্যাটসম্যানদের জন্য রানের স্বর্গ। ইনিংসের প্রথম বলেই চার মেরে শুরু সাইফ হাসানের। অপর ওপেনার আফিফ হোসেন স্ট্রাইক পেয়েই স্কয়ার লেগ দিয়ে মারলেন দর্শনীয় চার। আসিথা ফার্নান্দোর ওই ওভার থেকে এলো ১১ রান।
নিজের চতুর্থ আর ইনিংসের সপ্তম ওভারে অন্যরূপ দেখালেন সেই ফার্নান্দোই। প্রথম তিন বলে তুলে নিলেন তিন উইকেট। ১৯ বছরের এই তরুণ হয়ে গেলেন ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপের প্রথম হ্যাটট্রিকম্যান।
দলীয় ২০ রান পর্যন্ত উইকেটে সাবলীল ছিলেন সাইফ-আফিফ জুটি। টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত যথার্থ মনে হচ্ছিল তখন। কিন্তু মুহূর্তেই সাগরিকায় পাল্টে গেল দৃশ্যপট।
ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হন আফিফ (৮)। অধিনায়ক মুমিনুল কাট করতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে। দারুণ এক ইয়র্কারে অফস্টাম্প উড়ে গেল নাজমুল হাসান শান্তর। জড়ো হয়ে ফার্নান্দোর হ্যাটট্রিক উদযাপন করলেন লঙ্কান ক্রিকেটাররা।
বেশিক্ষণ উইকেট থাকতে পারেননি আগের ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ মিথুন। ১৫ রান করে আমিলা অপয়শুর বলে বোল্ড হন। দলের ওপেনার সাইফ হাসান ৩২ করে ফিরলে পঞ্চম উইকেট হারায় স্বাগতিকরা।
হ্যাটট্রিকের পর নিজের দ্বিতীয় স্পেলে আরও একটি উইকেট নেন ফার্নান্দো। আজমীর আহমেদের পরিবর্তে একাদশে আসা ইয়াসির আলিকে ফেরান। পাঁচ উইকেট নেওয়ার সুযোগ ছিল এ ডানহাতি পেসারের। নিজের শেষ ওভারে সাইফউদ্দিনের ক্যাচ ফেলে দেন লঙ্কান উইকেটরক্ষক।







