রাত পোহালেই মিরপুরে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর খেলা। অথচ খেলোয়াড়দের মাঝে নেই কোন উত্তেজনা। রোববার সকালে বিসিবির একাডেমি মাঠে অনুশীলন সেরেছে আবাহনী। মোহামেডান ম্যাচ নিয়ে তাদের কোন ক্রিকেটারের কণ্ঠে শোনা গেল না বাড়তি আলাপ। প্রিভিউ ডে’তে সংবাদকর্মীদের আগ্রহ দেখে উল্টো অবাকই হলেন আবাহনীর ক্রিকেটাররা।
দলটির অধিনায়ক নাসির হোসেন তো সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেই রাজী হলেন না! পরে প্রতিনিধি হয়ে এসে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত তুলে ধরলেন বাস্তবতা। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ যে খেলোয়াড়দের মাঝে এখন আর আলাদা উত্তাপ ছড়াতে পারে না সেটি অকপটেই স্বীকার করলেন এ তরুণ।
‘আমি যখন প্রথম বছর প্রিমিয়ার লিগ খেলি, মনে হয়েছিল আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ অনেক বেশি উত্তেজনা। এবার নিয়ে পাঁচ মৌসুম খেলছি, আমার কাছে বিষয়টা এখন স্বাভাবিকের মতো। আগের পাঁচটা ম্যাচের মতো এটাও আরেকটা ম্যাচ। আগে যেভাবে অনুশীলন করেছি, যেভাবে খেলে আসছি, প্রস্তুতি ঠিক ওরকমই নিয়েছি। মোহামেডানের সাথে খেলা, তাই অনেককিছু করতে হবে ওরকম কিছু না। সেরাটা খেলতে পারলে আমরা জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারব।’
এবার নিয়ে পাঁচ মৌসুম প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন মোসাদ্দেক। শুরু থেকেই আবাহনীর ডেরায় আছেন এ ক্রিকেটার। প্রথম বছরই যা একটু উত্তাপ টের পেয়েছিলেন। এখন উত্তাপ টের পান না, নাকি আদতে উত্তাপই ছড়ায় না সেটিই যেন বোঝালেন জাতীয় দলের এই তারকা।
তবে উল্টো সুর মোহামেডানের রকিবুল হাসানের কণ্ঠে। আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের প্রসঙ্গ উঠতেই ফিরে তাকালেন পেছনে। গত মৌসুমে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে ১৯০ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। লিস্ট-এ ক্রিকেটে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ইনিংস ওটাই। সেই রোমাঞ্চ ছুঁয়ে যাচ্ছে আরেকবার মুখোমুখি হওয়ার আগে। অবশ্য সেবার ম্যাচটা জেতাতে না পারলেও রকিবুল কণ্ঠে সোমবারের ম্যাচে দারুণকিছু করার প্রত্যয়ই ঝরল।
‘আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ মানেই মর্যাদার লড়াই। সবাই চায় এমন ম্যাচে ভাল কিছু করতে। আমাদেরও চেষ্টা থাকবে। আরেকবার তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে গতবারের ইনিংসটার কথা মনে পড়ছে। আমাদের দল ভাল অবস্থায় আছে। দারুণ একটা লড়াই হবে সেই আশাই করছি।’
লড়াই জমার সঙ্গে খেলোয়াড়দের মাঝে উত্তাপ ফিরিয়ে আনার নিয়ামক হতে পারতো মাঠের দর্শক উপস্থিতি। অথচ ঐতিহ্যবাহী দল দুটি মাঠে নামলেও সাম্প্রতিক সময়ে গ্যালারি ফাঁকাই থাকছে। আবাহনী-মোহামেডান লড়াই যে ঐতিহ্যের দিকটা হারিয়ে ফেলছে সেটি নিয়ে তাই কিছুটা আক্ষেপের সুর মোসাদ্দেকের কণ্ঠে।

‘আবাহনী-মোহামেডান দুই টিমেরই ভাল দর্শক আছে। প্রথম যখন খেলি, দেখতাম মাঠে খুব ভাল দর্শক হত। আস্তে আস্তে এটা কমে যাচ্ছে। ঐতিহ্য আমরা হারিয়ে ফেলছি কিনা সেটা একটা দেখার বিষয়। হয়ত মানুষ যার যার কাজে ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। তারা আসলে ভাল লাগে। দুটিই বড় দল। সবাই চিন্তা করে একটা ভাল ম্যাচ হবে। তবে আমাদের কাজটা দর্শক নিয়ে না, আমাদের খেলাতেই ফোকাস করাই ভাল।’
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সোমবার সকাল ৯টায় শুরু হবে দুই জায়ান্টের মহারণ। টানা পাঁচ জয়ে শীর্ষে রয়েছে মাশরাফী-নাসির-মিরাজদের আবাহনী। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর টানা তিন জয় তুলে ছন্দে ফিরেছে তাইজুল-রকিবুল-শামসুরদের সাদা-কালো শিবির।








