আবারও বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ১৫ থেকে ২০ টাকা।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও কাঁঠালবাগান বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়, যা ২ থেকে ৩ দিন আগে বিক্রি হয়েছে ৭০-৭৫ টাকায়। আর এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৬৫ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে।
আর আমাদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে হয়েছে ৮০ টাকা, যা ৩ থেকে ৪ দিন আগে ৬০ টাকায় আর এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায়। সে হিসাবে সপ্তাহের ব্যবধানে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতে খারাপ আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন কম হয়েছে। ফলে সেখান থেকে পেঁয়াজ কম আসছে। এছাড়া সেখানে দামও বেড়েছে। তাই বাংলাদেশে এর প্রভাব পড়েছে। তবে আর অল্প কয়েকদিনের মধ্যে নতুন পেঁয়াজ উঠবে, তাই বাড়তি এই দাম বেশিদিন থাকবে না বলে মনে করছেন তারা।
কারওয়ান বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, হঠাৎ করেই পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেছে। বৃহস্পতিবারের তুলনায় আজ শুক্রবার দেশি ও আমদানি করা পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ২০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও দেশি পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা আর আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি করেছি ৫৫ থেকে ৬৫ টাকায়।
রুহুল আমিন নামে অপর এক ব্যবসায়ী বলেন, কিছুদিন পরই বাজারে নতুন পেঁয়াজ আসবে। তাই এখন দাম কমার কথা। কিন্তু উল্টো বাড়ছে। এভাবে দাম বাড়া ঠিক নয়। তবে পাইকারিতে দাম বাড়ায় আমাদেরকেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
এ বিষয়ে পেঁয়াজের আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির নেতা আমিনুল ইসলাম বুলবুল চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শিগগিরই দাম কমে যাবে। কারণ কয়েকদিন পরই নতুন পেঁয়াজ আসা শুরু হবে।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অক্টোবরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার পর মাঝে কিছুটা কমেছিল। কিন্তু এখন আবার বাড়ছে। মূলত ভারতে পেঁয়াজের দাম বাড়ানো ও সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাংলাদেশে দাম বেড়েছে। কারণ বাংলাদেশে যে পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় তা দিয়ে দেশে চাহিদা মেটানো যায় না। ফলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়।
অপরদিকে বাজারে শীতের সবজি আসলেও এখন পযন্ত ৪০ টাকার উপরে প্রতি কেজি সবজির দাম।
কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পাঁকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে। যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি। এছাড়া প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, প্রতিকেজি শিম ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, গাজর ৮০ থেকে ৯০ টাকা, পটল ৫০থেকে ৫৫ টাকা, চিচিঙ্গা ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, ঢেঁড়স ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে এবং প্রতিটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা থেকে ৬০ টাকায়। আর মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়।
তবে মুরগির বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। সাদা ব্রয়লার মুরগি বিক্রি গত সপ্তাহের মতোই ১২০-১২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লাল কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে। গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।








