আপিল বিভাগের একটি রায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডকে আমৃত্যু কারাবাস বলে উল্লেখ করা হয়েছে।সাভারে ব্যবসায়ী জামান হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির আপিল খারিজের প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বিষয়টি উঠে এসেছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশিত হয়। যেখানে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আসামি আতাউর মৃধা ও আনোয়ার হোসেনকে আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশিত রায়ের অভিমতে বলা হয় যে, দণ্ডবিধির ৫৩ ধারার সঙ্গে ৪৫ ধারা মিলিয়ে পড়লে যাবজ্জীবন অর্থ হবে দণ্ডিত ব্যক্তির বাকি জীবন কারাবাস।
প্রকাশিত রায়ের অভিমতে আরো বলা হয় যে, আপিল বিভাগ অথবা হাইকোর্ট বিভাগ যদি কোনো মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন এবং নির্দেশ দেন কয়েদিকে বাকি জীবন (ন্যাচারাল লাইফ) ভোগ করতে হবে, এমন মামলায় রেয়াত (কারাভোগে রেয়াত) সুবিধার আবেদন বাইরে থাকবে।
সাধারন মানুষ যাবজ্জীবন মানে যে ৩০ বছর কারাবাস বোঝে তা ফৌজদারি কার্যবিধিতে উল্লেখ আছে। সেখানে বলা আছে, ‘দণ্ডের মেয়াদসমূহের ভগ্নাংশসমূহ হিসাব করার ক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাবাসকে ৩০ বছর মেয়াদী কারাবাসের সমতুল্য বলে গণ্য’ করা হয়।
২০০১ সালে গাজীপুরে জামান নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যার মামলার ২০০৩ সালে দ্রুত বিচার আদালত আনোয়ার হোসেন, আতাউর রহমান ও কামরুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে হাইকোর্টে দ্রুত বিচার আদালতের দেয়া সাজা বহাল রেখেন।
এরপর আনোয়ার ও আতাউর আপিল বিভাগে সাজা কমানোর জন্য আপিল করে।তবে কামরুল পলাতক থাকায় সে আপিলের সুযোগ পায়নি। ওই দুই আসামির করা আপিল গত ১৪ ফেব্রুয়ারি খারিজ করে রায় দেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। রায়ে মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আসামিদের আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ৯২ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।








