দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনজন বিচারপতি।
এতদিন হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই তিন বিচারপতি হলেন, বিচারপতি জিনাত আরা, বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান।
প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে এই তিন বিচারপতিকে আপিল বিভাগের বিচারপতির শপথ বাক্য পাঠ করান। আর শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ড. মো. জাকির হোসেন।
এই তিন বিচারপতি যুক্ত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এখন বিচারপতির সংখ্যা হল সাতজন।
বিচারপতি জিনাত আরা বিএসসি ও আইন পাস করে ১৯৭৮ সালে মুন্সেফ হিসেবে বিচার বিভাগে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। ১৯৯৫ সালে পদন্নতি পেয়ে জেলা ও দায়রা জজ হন।
২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল হাইকোর্টে অস্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ পাওয়ার দুই বছর পর স্থায়ী হন তিনি।
বিচারপতি জিনাত আরার আগে বাংলাদেশের প্রথম নারী বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুলাই পর্যন্ত আপিল বিভাগে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৫৩ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করা বিচারপতি জিনাত আরা অবসরের বয়সসীমা অনুযায়ী আরও দুই বছর সর্বোচ্চ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।
নবনিযুক্ত বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মো. নূরুজ্জামান ২০০৯ সালের ৩০ জুন একইসঙ্গে হাইকোর্টে অস্থায়ী বিচারক হিসাবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর হাইকোর্টে স্থায়ী হন।
বিচারপতি আবু বকর সিদ্দিকী ১৯৫৪ সালের ২৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। তার ছোট ভাই হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনের ডিগ্রি নেওয়ার পর ১৯৭৯ সালে কুষ্টিয়া বারে আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন আবু বকর সিদ্দিকী।
পরের বছর মুন্সেফ হিসেবে বিচার বিভাগের চাকরিতে যোগ দেন এবং ১৯৯৭ সালে জেলা ও দায়রা জজ হন। এর এক যুগ পর তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি হন।
বিচারপতি মো. নূরুজ্জামানের জন্ম ১৯৫৬ সালে। মাস্টার্স ও এলএলবি ডিগ্রি নেওয়ার পর আইন পেশায় যোগ দেন মো. নূরুজ্জামান। ১৯৮৩ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৭ সালে হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্ত হন। এরপর ২০০৯ সালে তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন।








