‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ ওয়ানডে দলের অধিনায়কত্ব থেকে আজকে সরে যাচ্ছি। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের সাথে তৃতীয় ম্যাচটি আমার অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ।’
ছোট্ট এই কথাটির মধ্য দিয়ে শেষের ডাক এলো বাংলাদেশ ক্রিকেটে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার অধিনায়ক অধ্যায়ের। বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ওয়ানডে দলের নেতৃত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন দেশের সফলতম অধিনায়ক।
বারবার চোটের ধকলে মাশরাফী টেস্ট খেলেন না ২০০৯ সাল থেকে। টি-টুয়েন্টির নেতৃত্ব ছেড়েছেন ২০১৭ সালে, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো ম্যাচে। ওয়ানডের দায়িত্ব ছাড়ায় টাইগার ক্রিকেটের বহু সাফল্যের অগ্রনায়ককে শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয় ও সিরিজের শেষ ম্যাচে শেষবার নেতৃত্বে পাবে লাল-সবুজের দল।
‘কালকে আমার শেষ ম্যাচ অধিনায়ক হিসেবে। আমার প্রতি এতদিন আস্থা রাখার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। ধন্যবাদ জানাই আমার নেতৃত্বে যত খেলোয়াড় খেলেছেন বাংলাদেশ দলে, সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।’ সিলেট স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে বারবার ধরে আসা কণ্ঠে এভাবেই বলে চললেন মাশরাফী।
‘আমি নিশ্চিত এই প্রক্রিয়াটা সহজ ছিল না, শেষ পাঁচ-ছয় বছরের যে জার্নিটা ছিল। আমি ধন্যবাদ জানাই টিম ম্যানেজমেন্টে যারা ছিল, যাদের অধীনে খেলেছি বা আমি নেতৃত্ব দিয়েছি, তারা সবাই আমাকে ক্লোজলি সহযোগিতা করেছে।’
‘আমার যতটুকু মনে হয়, হাথুরুসিংহেকে দিয়ে শুরু হয়েছিল। তার আগে হয়তবা দু-তিনদফা পেয়েছি, চোটের কারণে করতে পারিনি। ফাইনালি শুরু হয় হাথুরুসিংহের সময়ে, তারপরে স্টিভ রোডস, এবং আমার মনে হয় ডমিঙ্গো দিয়ে শেষ হচ্ছে।’
‘নির্বাচক এবং বোর্ডের কর্মকর্তা যারা আছেন। প্রত্যেকটি বোর্ডস্টাফ থেকে শুরু করে যারাই এই ক্রিকেট বোর্ডে আছেন, ধন্যবাদ সহযোগিতার জন্য। আমি ধন্যবাদ জানাই আপনারা যারা আছেন, মিডিয়ার সকলে, আপনারা অত্যন্ত সহযোগিতা করেছেন।’
সিরিজের আগে সাংবাদিকদের অব্যাহত খোঁচানো প্রশ্নের জবাবে খানিকটা মেজাজ হারিয়ে বসা মাশরাফী ধন্যবাদ দিতে ভুললেন না দীর্ঘপথের সঙ্গী গণমাধ্যম কর্মীদেরও। সবশেষে কৃতজ্ঞতা-ধন্যবাদ জানালেন সমর্থকদের। যাদের টাইগার ক্রিকেটের প্রাণ আখ্যা দিয়েছেন।
‘সবশেষে অবশ্যই সমর্থক, যারা বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রাণ, আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এটা সম্ভব হতো না, আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’
নেতৃত্ব ছাড়লেও অবশ্য খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়ে রেখেছেন ৩৬ বছর বয়সী মাশরাফী। সঙ্গে বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে বলেছেন, যদি নির্বাচকরা বিবেচনায় আনেন তাকে। শুভ কামনা জানিয়েছেন নতুন যে নেতৃত্ব আসবে তার জন্যও।
‘খেলোয়াড় হিসেবে আমি অবশ্যই চেষ্টা করবো আমার সেরাটা দেয়ার, যদি সুযোগ আসে আমার। এবং আমার শুভ কামনা থাকবে পরবর্তী অধিনায়কের জন্য। আমার বিশ্বাস সে বাংলাদেশ দলকে পরের পর্যায়ে নিয়ে যাবে। যদি আমি দলে থাকি, চেষ্টা করবো, আমার যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমার ভেতরে যা আছে, তাকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার।’
অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে ৫০তম জয়ের সামনে দাঁড়িয়ে মাশরাফী। সিরিজের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে হারাতে পারলেই জয়ের ফিফটি হয়ে যাবে দেশসেরা অধিনায়কের। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে অধিনায়ক হিসেবে জয়ের দিক থেকে অনেক আগেই দেশের সবাইকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। তার অধীনে বাংলাদেশ ৮৭ ম্যাচ খেলে জিতেছে ৪৯টিতে। সাফল্যের হার ৫৭.৬৪ শতাংশ।
দ্বিতীয় স্থানে থাকা হাবিবুল বাশার সুমন ২৯টি ওয়ানডে জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তার অধীনে টাইগাররা খেলেছে ৬৯ ম্যাচ। সাকিব আল হাসান ৫০ ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে জয়ের স্বাদ পেয়েছেন ২৩টিতে। ৫০ কিংবা তার বেশি ওয়ানডে ম্যাচে নেতৃত্ব দেয়া অধিনায়ক এ তিনজনই।








