ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি ক্রিকেট হচ্ছে রাজকীয় খেলা। আমাদের জাতীয় খেলা হাডুডু হলেও আমরা ফুটবলকেই ভালোবেসে এসেছি এবং আবাহনী-মোহামেডান আবেগে টগবগ করতাম। কালের পরিক্রমায় ক্রিকেট নেমে এসেছে সাধারণের কাতারে এবং এশীয় অঞ্চলে বিশেষ করে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা এইসব অঞ্চলে ক্রিকেট ক্রমেই হয়ে উঠেছে জনপ্রিয় থেকে জনপ্রিয়তর এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার জন্য ক্রিকেট ক্রমান্বয়ে পেয়েছে একটি লাভজনক বাণিজ্যের খেতাব।
শুরুতেই বাংলাদেশে ক্রিকেট তেমন জনপ্রিয়তা না পেলেও আমরা এতকাল কোন না কোন দেশের সমর্থক হয়ে তাদের পিছনে থাকতাম। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এখন আর সেই দিন নাই। আমরা এখন বিশ্বের ক্রিকেট ইতিহাসে একটি আলাদা সত্ত্বা এবং নিজস্ব ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যে বিশ্বের বড় বড় দলকে মোকাবিলা করেই আজকের বাংলাদেশ ক্রিকেট, যার ভালোবাসার নাম “টিম টাইগার্স”।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইনফ্রাস্ট্রাকচার থেকে শুরু করে সকল ক্ষেত্রেই উন্নয়নের আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। বিশ্বমানের ক্রিকেট স্ট্যাডিয়াম তৈরী, বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সিরিজের আয়োজক এমনকি বিশ্বকাপের মত আসরের আয়োজক হবার মত গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশে সবসময়ই আছে একটি রুচিবান এবং বোদ্ধা ক্রিকেট দর্শক। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের র্যাংকিং এখন সবার জানা। আমাদের আছে বেশ কয়েকবারের বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার খেলোয়াড়। সম্প্রতি আমাদের মোস্তাফিজ “ইএসপিএন ক্রিকইনফো বেষ্ট ডেবুট্যান্ট ক্রিকেট অব দা ইয়ার” এর গৌরব অর্জন করেছে।
এশিয়া কাপের রেজাল্ট কারোই অজানা নয়। ফাইনালে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে লড়াই করে এবং যোগ্যতম দল হিসাবেই রানার-আপ হবার গৌরব অর্জন করেছে। এশিয়া কাপের অন্যতম অর্জনের মধ্যে আছে সাব্বিরের “প্লেয়ার অব দা সিরিজ” এবং আল-আমিনের “মোস্ট উইকেট টেকার” সহ আরো অনেক অর্জন। তার মানে বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে এখন সমঝে চলতে হবে। এতসব প্রাপ্তিই কি বাংলাদেশের শত্রু হলো!!!
এতদিন ভারত, অষ্ট্রেলিয়া আর পাকিস্তান মিলে চেষ্টার কমতি করে নাই বাংলাদেশকে আউট করার জন্য। এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দেশকেও আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের কোয়ালিফাইং ম্যাচ খেলে মূল পর্বে প্রবেশ করতে হয়েছে।
কোনদিকেই যখন কোন ষড়যন্ত্র কাজে দিচ্ছিলো না, বাংলার দামাল ছেলেদের দমানো যাচ্ছিলো না তখন আইসিসি খেললো তার মোক্ষম অস্ত্র।
হানো আঘাত তাদের কোমড়ের মাঝদন্ডে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ছিলো অন্যতম ফেভারিট একটি দল যারা চ্যাম্পিয়ন হবার মত যোগ্যতা রাখে। এতসব ষড়যন্ত্রকে পায়ে মাড়িয়ে মাশরাফির টাইগার বাহিনী এগিয়ে চলেছিলো দুর্দান্ত ফর্মে। টি-টুয়েন্টির শুরুটাও হয়েছে মারাত্মক। বাংলাদেশকে সেমিতে যেতে দেয়া হবে না কোনভাবেই। সুতরাং এই মুহূর্তে ফর্মে থাকা প্লেয়ারদের ধরে ঘাড় মটকে দিতে হবে আর তাতেই ভাঙ্গবে বাংলাদেশ দলের কোমড়।
ব্যাটসম্যানকে তো আর ধরা যায় না তাই আইসিসির হাতে থাকা ধারালো অস্ত্রটি হচ্ছে বোলারদের ধরো। আর এই মুহূর্তে সব থেকে ফর্মে আছে তাসকিন যেহেতু মোস্তাফিজ কিছু দিন ধরেই দলের বাইরে তাই মনে হয় সে বেঁচে গেলো। তাসকিনের সাথে জুড়ে দিলো আরাফাত সানিকে। তাসকিনহীন বাংলাদেশ হয়ে পড়লো দুর্বল। যতটা না দলগতভাবে তার চেয়ে বেশী মানসিকভাবে হয়ে গেলো একেবারে কোমড় ভাঙ্গা।
মাশরাফির মত লৌহ কঠিন দলপতিকে ঘায়েল করা অনেক সহজ হয়ে গেলো। মাশরাফির মন দলে ছিলো না সেতো প্রমাণিত অষ্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলা দেখেই। জেতা গেমটাই আমরা হেরে গেলাম দুর্বল ফিল্ডিং আর বোলিং ডিপার্টমেন্টে কিছু দুর্বলতার কারণে।
মাশরাফির চোখে পানি, এযে কতটা বাংলাদেশের জনগণের জন্য কষ্টের আর অপমানের তা কি আর আইসিসি বুঝেনি? বুঝেছিলো বলেই এই কূটচাল। তাসকিনের খেলা-না খেলা নিয়ে চলেছিলো এক দোলাচল। আশায় ছিলাম বিসিবি হয়তো ক্রিকেট কূটনীতিতে কিছু একটা বের করে নিয়ে আসতে পারবে। কিন্তু সেই আশাতেও আবার আঘাত করলো আইসিসি, ঠিক ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচটির আগে আগে তাসকিনের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ঘোষনা দিয়ে। তবে কি আইসিসি’র জন্য আকিকা দেয়াটা এখন সময়ের দাবী? আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল কি আসলেই নাম পরিবর্তন করে ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল নাম ধারণ করতে চাচ্ছে?
এইসব হাজারো প্রশ্ন আবেগী এই মনে ঘুড়পাক খায়। আইসিসি যদি ভারতকে এত তোয়াজ করে তবে তা কিসের জন্য? একমাত্র কারণ বাণিজ্য। কিন্তু এই বাণিজ্য কি বাংলাদেশে নেই? একটু হিসাবে করে দেখুনতো আমাদের দেশে যতগুলো ম্যাচ হয়েছে কোনটাতে দর্শক শূণ্য মাঠ ছিলো? তাহলে এখানে বিনিয়োগ করাটাও লাভজনক অংক করেইতো আইসিসি বাংলাদেশকে ভেন্যু হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাহলে আর কি কারণ থাকতে পারে বাংলাদেশকে এভাবে পেছনে টেনে ধরার?
আইসিসি’র বর্তমান প্রেসিডেন্ট হিসাবে আছেন জহির আব্বাস যার জাতীয় পরিচয় তিনি পাকিস্তানী। তবে কি…………………অনেকেই বলেন ক্রিকেটে রাজনীতি মিশানো বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কিন্তু আসলেই কি বর্তমান ক্রিকেট রাজনীতি থেকে মুক্ত? পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সবাই জানেন। আর কিছু কি বলার প্রয়োজন আছে?
তবে জেনে রাখো হে বিশ্বমোড়ল। বাঙালি লড়াই করা জাতি। তাজা রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশ এই ভূখণ্ড কারো দানে আসেনি। হার না মানা এই জাতিকে দাবায় রাখা এত সহজ হলে আর ’৭১ হতো না। তাই হুঁশিয়ার!! সাবধান!! আসছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। যতই ষড়যন্ত্র করো না কেন আমরা ঠিক উঠে আসবোই।






