বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান
নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর কয়েকটি দেশে জামায়াতের আন্তর্জাতিক
নেটওয়ার্কের মাধ্যমে নিজামীর জন্য গায়েবানা জানাযা ও বিক্ষোভ হয়েছে।
যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের আমির নিজামীর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর পরই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে তাৎক্ষণিক গায়েবানা জানাযা হয়। তার আগে সমাবেশে তুরস্কের ইসলামপন্থী দলের নেতারা বক্তৃতা করেন।
এছাড়া তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সামনেও বিক্ষোভ দেখায় কিছু নেতা-কর্মী। এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘ধৃষ্টতাপূর্ণ’ বক্তব্য রেখে নিজামীর মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করেন।
মূলতঃ তার দল জাস্টিস পার্টিই জামায়াতে ইসলামীর আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ। এ নেটওয়ার্কের প্রধান দল মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুড (ইখওয়ানুল মুসলিমিন) যা পাকিস্তান, ভারত এবং বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নামে পরিচিত।
তুরস্কের রাজনৈতিক কর্মীরা ছাড়াও মঙ্গলবার রাতে দেশটির বেশ কিছু এনজিও বিক্ষোভে অংশ নেয়। এর মধ্যে ছিল তুরস্কের আইএইচএইচ হিউম্যানিটারিয়ান রিলিফ ফাউন্ডেশন এবং ইসলামী যুবকদের ছাত্র সংগঠন অ্যানাতোলিয়া ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন (এজিডি)।
এজিডি-র প্রধান হাসান কারামান বলেন, ‘এই ফাঁসির আদেশ ছিল বেআইনী।’ এর আগে ইস্তাম্বুলে বিক্ষোভ দেখায় এজিডি।
তুরস্কের মতো পাকিস্তানেও নিজামীর ফাঁসির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার সকালে ইসলামাবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান। বিক্ষোভের আগে তারা নিজামীর গায়েবানা জানাযারও আয়োজন করে।
সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশেও জামায়াত নেতা নিজামীর গায়েবানা জানাযা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সৌদির জেদ্দা শহরের ফায়সালিয়া এলাকায় গায়েবানা জানাযার পর দোয়া মাহফিলে প্রবাসী কিছু বাংলাদেশী জামায়াত কর্মী যোগ দেয়।
পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রুকলিনের চার্চ ম্যাকডোনাল্ডে নিজামীর ফাঁসির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং গায়েবানা জানাযা হয়েছে। 
যুক্তরাষ্ট্রের আরো কিছু শহরেও জামায়াতের উদ্যোগে সমাবেশ ও গায়েবানা জানাযা হওয়ার কথা রয়েছে। একইভাবে ইউরোপজুড়ে সক্রিয় জামায়াত নেটওয়ার্ক বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের চেষ্টা করছে।
ইউরোপের বাইরে আফ্রিকাতেও সক্রিয় আছে জামায়াতে ইসলামীর নেটওয়ার্ক। তাদের উদ্যোগে সাউথ আফ্রিকায় গায়েবানা জানাযা ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে।
একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী মতিউর রহমান নিজামীকে গণহত্যা, হত্যা ও ধর্ষণের অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় রাত ১২টা ১০ মিনিটে।
বুধবার সকাল সোয়া ৭টায় নিজামীর গ্রামের বাড়িতে তার দাফন হয়।







