টাঙ্গাইলের আলোচিত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যা মামলায় টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা রোববার আদালতে অাত্মসমর্পণ করেছেন। আত্মসমপর্ণের পর জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে রানাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
রানা ছাড়াও তার তিন ভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র ও টাঙ্গাইল শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ও ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকনসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে গত ৩ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের গোয়েন্দা পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
এরপর ৬ এপ্রিল তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
রোববার সকালে আদালত চত্বরে চাঞ্চল্যকর এ মামলার বাদি ও নিহত মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মদের স্ত্রী নাহার আহম্মেদ তার প্রতিক্রিয়ায় স্বামী হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। একই সাথে তিনি সুষ্ঠ বিচারের স্বার্থে সকলের সহযোগীতাও কামনা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পিপি মনিরুল ইসলাম খান আসামী পক্ষের জামিন আবেদনের বিরোধিতা করেন। অপরদিকে আসামীর পক্ষে এডভোকেট বাকি মিয়া, ফায়েজুর রহমান ও খন্দকার ফায়েকুজ্জামান নাজিমসহ বেশ কয়েকজন জামিনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উথাপন করেন।
এ মামলার আসামীদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম রাজা, মোহাম্মদ আলী ও সমির হোসেন আগেই গ্রেফতার হয়ে টাঙ্গাইল জেলহাজতে রয়েছে। আরেক আসামী ফরিদ হোসেন কিছুদিন আগে উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে। এছাড়াও আরেক আসামী আব্দুল হক পলাতক অবস্থায় কয়েক মাস আগে দুস্কৃতিককারীদের হাতে নিহত হন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ জানান, বিগত ২০১৪ সালের ১১ আগষ্ট শহরের বেবীষ্ট্যান্ড এলাকা থেকে ফারুক আহমদ হত্যা মামলায় প্রথমে গ্রেফতার করা হয় আনিসুল ইসলাম রাজাকে। একই অভিযোগে মোহাম্মদ আলী নামে আরো একজনকে গোয়েন্দা পুলিশ গত ২৪ আগষ্ট গ্রেফতার করে।
তারা দু’জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তাদের জবানবন্দিতে উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হত্যাকান্ডে টাঙ্গাইলের প্রভাবশালী খান পরিবারের চার ভাই সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা, ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান কাকন, টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তি ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা জড়িত রয়েছে।
আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে আসামি রাজা উল্ল্যেখ করে , ঘটনার দিন (২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারি) সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা রাজাকে দায়িত্ব দেন ফারুক আহমদকে আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কলেজ পাড়ায় তার একটি প্রতিষ্ঠানে ডেকে আনার জন্য। আওয়ামী লীগ অফিসে যাওয়ার সময় পথেই রাজার সঙ্গে ফারুক আহমদের দেখা হয়। রাজা তখন নিজের রিক্সা ছেড়ে ফারুক আহমদের রিক্সায় উঠেন এবং তাকে এমপি রানার প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যান। পরবর্তী সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হওয়া নিয়ে ফারুক আহমদের কথা হয়।
এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদকে উক্ত পদে প্রার্থী না হওয়ার অনুরোধ করেন। ফারুক আহমদ এতে রাজি হননি। এ বিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে ফারুক আহমেদ সেখান থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেছন থেকে তাকে গুলি করা হয়। এতে অন্যরা তার মুখ চেপে ধরেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর প্রভাবশালী নেতার নির্দেশে সেখানকার রক্ত মুছে ফেলা হয়। পরে একটি অটো রিক্সায় ফারুক আহমদের মরদেহ নিয়ে আসামী রাজাসহ দু’জন দু’পাশে বসেন এবং ফারুক আহমদের বাসার কাছে ফেলে রেখে আসেন।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী রাতে শহরের কলেজ পাড়ায় নিজ বাস ভবনের সামনে থেকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মদেও গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর নিহত ফারুর আহম্মদের স্ত্রী নাহার আহম্মেদ বাদি হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।







