ত্যাগের মহিমায় যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে সারাদেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল-আযহ।
ঈদের জামাতগুলোতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি কামনা করে দোয়াসহ জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সবাইকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তবে দেশের বিভিন্ন জেলায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় এবার ঈদের জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি কম ছিল।
মঙ্গলবার টানা বর্ষণে জীবনযাত্রায় কিছুটা বিঘ্ন ঘটে। সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার প্রায় সারাদিনই বৃষ্টি অব্যাহত থাকে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে মুসল্লীদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানি দিতে বেশ বেগ পেতে হয়। সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত স্থান ছাড়া যারা নিজ বাড়ির এলাকা বা মহল্লায় কোরবানি দিচ্ছেন তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বেশি।
ঢাকায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল আটটায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে সেখানে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, সিনিয়র রাজনৈতিক নেতৃবর্গ ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাগণ এখানে নামাজ আদায় করেন।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমান জামাতে ইমামতি করেন। নামাজে দেশের শান্তি ও অগ্রগতি এবং জগণের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মুসল্লিদের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রধান এ জামাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকে র্যাব এবং পুলিশ সদস্যরা ঈদগাহ ময়দানে সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন। রাজধানীর দ্বিতীয় বৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়। বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রতি এক ঘণ্টা পর পর মোট ৫টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শেষ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল পৌনে ১১টায়।
মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার ১৮৯তম জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জামাতে মুসল্লিদের উপস্থিতি কম ছিলো। জামাতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি কামনা কওে দোয়াসহ জঙ্গিবাদ বিরোধী লড়াইয়ে সবাইকে সামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।
রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ ঈদ-উল-আযহায় দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো: আবদুল হামিদ এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ধর্মীয় এ উৎসব উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও দেশবাসীকে ঈদ শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
পবিত্র এ দিনটিকে উৎসবের আমেজ দিতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়ক দ্বীপসমূহে জাতীয় ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা দিয়ে সুশোভিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা ও ঈদ মোবারক খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কারাগারসহ দেশের সকল কারাগার, সরকারি হাসপাতাল, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র, বৃদ্ধাশ্রম, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, সরকারি আশ্রয় কেন্দ্র, সেফহোম্স, দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্র এবং শিশু ও মাতৃসদনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।







