মেসিকে খুব একটা তোড়জোড় করতে হল না। বাকিদেরও খুব একটা তেড়েফুঁড়ে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ল না। যা করার রোমার খেলোয়াড়রাই করলেন। তিনবার বল জড়ালেন, তবে দুবারই নিজেদের জালে। বার্সেলোনাকে দুই আত্মঘাতী গোল উপহার দিয়ে ৪-১এ হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায়ের শঙ্কায় এখন ইতালিয়ান ক্লাবটি।
ন্যু ক্যাম্পে ‘আত্মঘাতী’ রোমার পর জেরার্ড পিকে ও লুইস সুয়ারেজের দুই গোল। প্রথম লেগ শেষে যাতে সেমির পথ অনেকটাই উজ্জ্বল বার্সেলোনার। ১০ এপ্রিল শেষ আটের দ্বিতীয় লেগে রোমার মাঠে সাদামাটা একটা ড্র করলেই চলবে আর্নেস্টো ভালভার্দের শিষ্যদের।
বুধবার রাতে রোমার রক্ষণে শুরু থেকেই চড়াও ছিল বার্সার আক্রমণভাগ। ১৫ মিনিটে দূর থেকে আচমকা শট নিয়ে রোমা গোলরক্ষক অ্যালিসনকে ভড়কে দেন মেসি। তিন মিনিট পর ইভান রাকিটিচের নিচু শট বারে লেগে ফিরলে হাফ ছেড়ে বাঁচে অতিথিরা।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে বার্সাকে আরও একবার গোলবঞ্চিত করেন অ্যালিসন। লুইস সুয়ারেজের নিচু শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন রোমার ব্রাজিলিয়ান গোলরক্ষক।
বার্সা আক্রমণকে ভালমতোই সামলে যখন বিরতিতে যাওয়ার প্রস্তুতি সারছে রোমা, তখনই যেন পথ হারালেন ড্যানিয়েল ডি রস্সি। ৩৮মিনিটে মেসির দিকে বাড়িয়ে দেয়া ইনিয়েস্তার শট বিপদমুক্ত করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালে জড়ান এ ইতালিয়ান মিডফিল্ডার।

দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম পাঁচ মিনিটে দুবার গোলের সুযোগ হারায় রোমা। ৪৬ মিনিটে ফ্লোরেঞ্জির হেড অল্পের জন্য হয় লক্ষ্যচ্যুত। ৪৯ মিনিটে কোলারভের ভলি বার্সা গোলরক্ষক টের স্টেগেনের গা ছুঁয়ে ফের বারে লেগে।
এরপরই খেলা গুছিয়ে ম্যাচে ফেরে বার্সা। ৫৫ মিনিটে রাকিটিচের শটে স্যামুয়েল উমতিতি পা লাগাতে ব্যর্থ হলে বারে লেগে বল ফেরত আসে, ফিরতি বল নিজের গায়ে লাগিয়ে বার্সাকে দ্বিতীয় আত্মঘাতী গোল উপহার দেন কনস্টান্টিনোস মোনালেস।
দুই আত্মঘাতী গোলের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই রোমা রক্ষণে আবারও আঘাত, এবার জেরার্ড পিকে। ৫৯ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের শট অতিথি গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলেও বিপদমুক্ত করতে পারেননি। সেই সুযোগে ডি-বক্সে ওঁতপেতে থাকা পিকে জালে বল জড়ালে কাতালান ক্লাবটির ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-০তে।

এর এক মিনিটের মধ্যে দুবার গোল ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল রোমার সামনে। ৭৮ ও ৭৯ মিনিটে ড্রেফেল ও ডিয়েগো পেরোত্তির দুটি জোরাল শট ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়ে দেন স্বাগতিক গোলরক্ষক টের স্টেগেন।
তার এক মিনিট পরই আবার ব্যবধান কমায় রোমা। পেরোত্তির পাসে মাটি ঘেঁষা শটে বার্সার জালে বল জড়ান এডেন জেকো।
অবশ্য শেষ রক্ষা হয়নি রোমার। নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে ইতালিয়ান দলটিকে আরেকটি ধাক্কা দেন দুই সুয়ারেজ। ৮৭ মিনিটে ডেনিশ সুয়ারেজের শট রোমা গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে, ফিরতি শটে বার্সাকে সেমির পথে এগিয়ে নেন লুইস সুয়ারেজ।
রাতের অন্য ম্যাচে লিভারপুলের মাঠে দুঃস্বপ্নের মধ্যে পড়েছে ম্যানসিটি। অ্যানফিল্ডে পেপ গার্দিওলার দলকে শেষ আটের প্রথম লেগে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ইয়ুর্গেন ক্লপের দল। ঘরের মাঠে মোহামেদ সালাহর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর অ্যালেক্স অক্সলেড-চেম্বারলেইন ও সাদিও মানের গোলে স্বস্তিতে থাকে লিভারপুল।







