প্রয়াত নন্দিত কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদের আজ ৬৭তম জন্মদিন। ১৯৪৮ সালের এ দিন তিনি নেত্রকোনার কুতুবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
গল্প, উপন্যাস, নাটক ও চলচ্চিত্রে পাঠক-দর্শকদের জাদুকরি ক্ষমতায় আচ্ছন্ন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ।
স্বভাব সুলভ রসিকতায় কাছের মানুষ আর ভক্তদের নিয়ে জন্মদিন পালন করতে পছন্দ করতেন হুমায়ূন আহমেদ। অসুস্থ অবস্থায়ও প্রিয় নুহাশ পল্লীতে আনন্দ-আয়োজনে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন জাদুকর এ লেখক।
১৯৭২ সালে প্রকাশিত প্রথম উপন্যাস নন্দিত নরক দিয়েই বাংলা কথাসাহিত্যে পালাবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। এর পর শংখনীল কারাগার, লীলাবতী, জ্যোৎসা ও জননীর গল্প, মধ্যাহ্ন, বাদশাহ্ নামদারসহ দু’শ’র বেশি উপন্যাস রচনা করেছেন হুমায়ূন আহমেদ।
তার উপন্যাসের চরিত্র হিমু, মিসির আলী, শুভ্র বইয়ের পাতা থেকে টেলিভিশনের পর্দা কিংবা সেলুলয়েডে তরুণ-তরুণীদের আপনজন হয়ে ওঠে।
১৯৮০ সালে নাটক রচনা শুরু করেন হুমায়ূন আহমেদ। তার লেখা নাটক এই সব দিনরাত্রির জনপ্রিয়তার পর তিনি তৈরি করেন বহুব্রীহি, অয়োময়, কোথাও কেউ নেই, নক্ষত্রের রাত, উড়ে যায় বকপক্ষীসহ বহু নাটক।
১৯৯০ সালে তিনি শুরু করেন চলচ্চিত্র নির্মাণ। ১৯৯৪ সালে মুক্তি পায় তার প্রথম চলচ্চিত্র আগুনের পরশমনি। এর পর একে একে তিনি তৈরি করেন শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্রকথা, শ্যামল ছায়া এবং আমার আছে জলসহ বহু চলচ্চিত্র। তার নির্মিত শেষ চলচ্চিত্র ঘেটুপুত্র কমলা।
এর পর থেকেই হুমায়ূন আহমেদের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। এক পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসায় তাকে যেতে হয় যুক্তরাষ্ট্রে। কোটি বাঙালিকে কাঁদিয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই মৃত্যুবরণ করেন হুমায়ূন আহমেদ।
হুমায়ূন আজ আমাদের মাঝে নেই কিন্তু তার কাজ আজও তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে প্রতিটি মানুষের অন্তরে। তিনি বেঁচে থাকবেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে। তাই বলছি হুমায়ূন তুমি যেখানেই থাকো ভালো থেকো। আর তোমাকে জানাই শুভ জন্মদিন।






