ক্যারিয়ারে তিন ওয়ানডে সেঞ্চুরির দুটিই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। প্রথমটি খুলনায়, পরেরটি সেন্ট জর্জে। অনুকূল-প্রতিকূল উভয় কন্ডিশনেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে শতকের অভিজ্ঞতা থাকায় আত্মবিশ্বাস পাচ্ছেন এনামুল হক বিজয়। উইন্ডিজে যাওয়ার আগে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে ওয়ানডে সিরিজের দলে থাকা এ ওপেনার বললেন, ‘আগে পারলে এখন কেনো পারবো না।’
তিন বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে ঘরের মাঠে ত্রিদেশীয় সিরিজে ব্যাটে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করতে পারেননি বিজয়। টিম ম্যানেজমেন্ট আস্থা রাখায় যাচ্ছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে ওয়ানডে খেলতে। নিজেকে নতুনভাবে মেলে ধরার চ্যালেঞ্জ কঠিন কন্ডিশনে। সেখানে সেঞ্চুরির মধুর স্মৃতিই নিজেকে ফেরানোর টোটকা তার।
‘এটা অনেক বড় প্রাপ্তি দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পেরেছি ওই সময়ে। চেষ্টা করেছি যতটুকু পারি অবদান রাখার। এটা(সেঞ্চুরি) অবশ্যই একটা বড় আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার। প্রথম সেঞ্চুরির সময় আমরা ম্যাচ জিতেছি, তবে ওদের মাটিতে সিরিজ হেরে গেছি। এবার চেষ্টা করবো বড় রান করে যাতে সিরিজ জেতাতে পারি। তাহলে খুব ভালো লাগবে।’
‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি সেঞ্চুরি করেছি, এটা অবশ্যই ব্যাক অব দ্য মাইন্ড আত্মবিশ্বাস যোগায়। আগে পারলে এখন কেনো পারবো না। আগে পেরেছি। সবাই বলছে এখনও পারবি। টিম ম্যানেজমেন্ট আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে, আমাকে নিয়ে চিন্তা করছে। ভালো পারফর্ম করে প্রতিদান দেয়ার লক্ষ্য আছে।’

বিজয়ের ওয়ানডে অভিষেক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। প্রথম ম্যাচে করেছিলেন ৪১ রান। ক্যারিয়ারের প্রথম সিরিজেই পেয়ে যান তিন অঙ্কের দেখা।
২০১২ সালের নভেম্বরে খুলনায় পাঁচ ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয়টিতে খেলেন ১২০ রানের ইনিংস। দুই বছর পর পান দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০১৪ সালে মার্চে ঢাকায় এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলেন ১০০ রানের ইনিংস। ওই বছরের আগস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে পান তৃতীয় সেঞ্চুরি (১০৯)।
দারুণ ফর্ম নিয়ে ২০১৫ বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন বিজয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি মেলর্বোনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচে ফিল্ডিং করার সময় কাঁধে চোট পেয়ে ছিটকে যান। পরে জাতীয় দলে ফিরতে লেগে যায় তিন বছর।
অনেক স্বপ্ন নিয়েই বিশ্বকাপ খেলতে গিয়েছিলেন। দুর্ভাগ্য স্বপ্নপূরণ হতে দেয়নি। ২০১৯ বিশ্বকাপ দলে থাকতে পাখির চোখ করছেন ২৫ বছর বয়সী এ ওপেনার। স্বপ্নের দলে থাকার মনচ্ছবি নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়েই শুরু করতে চান নতুন যাত্রার।
‘মাথায় খুব করেই আছে বিশ্বকাপ দলে থাকতে হবে। ২০১৫ বিশ্বকাপ ভালোভাবে শেষ করতে পারলাম না ইনজুরির কারণে। খুব আশা নিয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আগের সিরিজেই জিম্বাবুয়ের সঙ্গে ৯৫ ও ৮৫ রানের দুটি ইনিংস খেলেছিলাম। খুব আশাবাদী ছিলাম বিশ্বকাপে ভালো কিছু হবে।’

‘প্রথম বিশ্বকাপ ছিল আমার জন্য। দলের আমরা যারা তরুণ, প্রায় ৮-৯ জনের জন্যই সেটি প্রথম বিশ্বকাপ। ইনজুরির কারণে সেটিই হয়ে গেল আমার জন্য কান্নার। তখনই ভেবে রেখেছি, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেছি সামনের সাড়ে তিন বছর প্রস্তুতি নেবো। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো করবো। তার সুবাদেই এখন টিমে আছি। ভালো করে যেন সামনের এশিয়া কাপ, বিশ্বকাপ দলে থেকে অবদান রাখতে পারি খুব করেই সে চেষ্টা করবো।’
চট্টগ্রামে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় চার দিনের ম্যাচ খেলে ঢাকায় ফিরে এসেছেন বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। ‘এ’ দলের বাকিরা সিলেটে তৃতীয় চার দিনের ম্যাচ খেলতে গেলেও সোমবার তাদের দেখা গেল মিরপুরের একাডেমি মাঠে সাদা বলে অনুশীলন করতে।
১৩ জুলাই দিবাগত রাতে রওনা হবেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পথে। ওয়ানডে দলে থাকা দুই ক্রিকেটারের আলাপে উঠে এলো টেস্ট সিরিজের প্রসঙ্গও।

অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ দল যেমন ব্যাটিং করেছে তা নিঃসন্দেহে চিন্তার কারণ। বিজয় মনে করেন পার্থক্য গড়ে দিয়েছে ক্যারিবীয় কন্ডিশন ও পেস।
‘উইকেট একটা বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের উইকেটের পেস, বাউন্স খুব বেশি নয়। আমরা ঘরোয়ায় যারা খেলে আসছি, গড়ে ১৩০-১৩২ কিলোমিটার বেগে আসা বল খেলি। আর ওয়েস্ট ইন্ডিজে ১৪০-১৪৫ গতির বল ফেস করছি। অবশ্যই এখানে মানিয়ে নেয়ার ব্যাপার থাকে। বাড়তি সুইং থাকে। এটা সহজ না আসলে। ওখানে খেলার অভিজ্ঞতার ব্যাপারও থাকে। আমার কাছে মনে হয় যদি মানসিকভাবে তৈরি থাকতে পারি তাহলে ওয়ানডে সিরিজে ভালো কিছু সম্ভব।’








