আগামী অর্থবছরে দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ বিদেশেও কর্মীর সংখ্যা বাড়বে বলে আশার কথা শুনিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
বৃহস্পতিবার বিকেলে বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন: আমাদের শ্রম বাজারে প্রতি বছর ২০ লক্ষ শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে। প্রতি বছর গড়ে ৪ লক্ষ শ্রমিকের বিদেশে কর্মসংস্থান হচ্ছে। এবারে সে সংখ্যা ৬ লক্ষ অতিক্রম করবে বলে মনে হয়।
বর্তমানে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন জোরদার হওয়া জিডিপি’তে শিল্প ও সেবা খাতের হিস্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়া, কৃষির যান্ত্রিকীকরণসহ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মূলধনঘন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে শ্রমশক্তিতে যুক্ত হওয়া নতুন শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সরকারের বিশেষ মনোযোগ রয়েছে বলেও জানান আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারলে স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি কর্মসংস্থান হবে মনে করেন তিনি।
নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন: ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নতুন ১০টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কাজ উদ্বোধনের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যমেয়াদে ১২টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উৎপাদন শুরু হবে যেখানে প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য ও সেবা উৎপাদিত হবে এবং প্রায় ২ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করছি।
প্রবাসে কাঙ্ক্ষিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি সম্পর্কে তিনি বলেন: বহিঃবিশ্বে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই অনেকগুলো কার্যক্রম গ্রহণ করেছি। আমরা সরকারি পর্যায়ে শ্রম কূটনীতির প্রয়োগ নিশ্চিতসহ শ্রমবাজার অন্বেষণে বেসরকারি খাতকে উদ্বুদ্ধ করছি। মধ্যপ্রাচ্যে মহিলা গৃহকর্মী প্রেরণ প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। সরকারিভাবে স্বল্পব্যয়ে বিদেশে কর্মী প্রেরণ করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সহজীকরণ করতে অনলাইন সেবা সম্প্রসারণ করার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী।
সকল উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন ও বিদ্যমান কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়ন করার পরিকল্পনার পাশাপাশি, প্রবাসী কর্মীদের কল্যাণে বিশেষায়িত বীমা কোম্পানি ও বিদেশগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করার পরিকল্পনা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন: আমার বিশ্বাস, এ সব কর্মকান্ডের প্রভাবে প্রবাসেও কাঙ্ক্ষিত হারে কর্মসংস্থান হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণে আত্ম-কর্মসংস্থানের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বাংলাদেশের সর্বাধিক বাজেট প্রণেতা বলেন: এ লক্ষ্যে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান ও ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে আত্ম-কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারিত করতে চাই।
এছাড়া, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় অতি-দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি, কাবিটা (কাজের বিনিময়ে টাকা) ও টিআর (টেস্ট রিলিফ) -এর মত কার্যক্রমগুলোও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।
পাশাপাশি, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন প্রকল্পের বিপরীতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কর্মসৃজন হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
‘উন্নয়নের মহাসড়কে বাংলাদেশ: সময় এখন আমাদের’ শিরোনামে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নতুন অর্থ বছরে বাজেটের প্রস্তাবিত আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকা। যা দেশের মোট জিডিপির ১৮ শতাংশ।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। আয়-ব্যয়ের হিসাবে প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার ৭’শ ৭২ কোটি টাকা ঘাটতি।
অর্থমন্ত্রীর আশা, দেশজ উৎপাদন ৭ দশমিক ৪ শতাংশ হারে বাড়বে। আর জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির হার থাকবে সাড়ে ৫ শতাংশের মধ্যেই। মধ্য আয়ের দেশের স্বপ্ন পূরণের স্পষ্ট পথনকশার সাথে সাথে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশের কাতারে সামিল হওয়ার দিকনির্দেশনাও রয়েছে বাজেটে।
স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে জাতীয় সংসদে নতুন অর্থবছরের এ বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। তার আগে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ওই প্রস্তাবে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।








