এ দেশের আলোকচিত্র জগতে পরিচিত মানুষ আককাস মাহমুদ। সেই আশির দশক থেকে তিনি ক্যামেরাবন্দি করে চলেছেন মানুষের জীবন আর জীবনের স্মৃতিময় মুহূর্তগুলোকে। বাঙালির বিয়ের নানান রুপ আর বৈচিত্র ধরা দিয়েছে তার ক্যামেরায়। সেসব নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসছে আককাস মাহমুদের ওয়েডিং ফটোগ্রাফির প্রদর্শনী ‘ওয়েডিং কালার’।
নিউইয়র্ক শহরের স্টার পার্টি হলে ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেল তিনটা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চলবে এ আলোকচিত্র প্রদর্শনী। আর এর অংশ হিসেবে আককাস মাহমুদের প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তার বন্ধু ‘রুদ্রাক্ষ রহমান’।
ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে রুদ্রাক্ষ রহমান লিখেন, ‘‘এই শহরের অনেক কথা জানেন আককাস মাহমুদ; অনেক ইতিহাস তার ম্যাট্রিক পরীক্ষার সিলেবাসের মতো মুখস্ত। একদা, ৪০০ নিউ ইস্কাটন ছিলো এই শহরের অনেক মানুষের অনিবার্য এক ঠিকানা। কেয়ার অফ ছিলো ‘স্টুডিও পদ্মা’। ৪১২০৭০-নম্বরের এনালগ ফোনটি ছিলো অনেক কাংক্ষিত সময়ের ঝংকারতোলা মহাকাব্য।
সেই নিউ ইস্কাটন আছে; আছে ৪০০ নম্বর। তবে বদলে গেছে আদল। বদলে গেছে ফোন নম্বর। বদলে গেছে নিত্য আড্ডার মুখগুলো। শহরের নিপাট ভদ্রলোক গোলাম মুস্তাফা, সময় তোলপাড়করা সম্পাদক মিনার মাহমুদ ইস্কাটনের আড্ডাকে গুডবাই বলে চলে গেছেন অন্যপারাপারে। চলে গেছেন কমিউনিস্ট নেতা আবদুল মান্নান। কদিন আগে চলে গেলেন কিংবদন্তি গায়ক আবদুল জব্বার। সৈয়দ হাসান ইমান, স্বাধীন বাংলা বেতারের কণ্ঠযোদ্ধা আশরাফুল হক আরো কতো কতো মানুষ ছিলেন ইস্কাটনের আড্ডায়। সিনিয়র এই দলের বাইরে স্টুডিও পদ্মা ঘিরে তরুণ লেখক, সাংবাদিকদের আড্ডা ছিলো এক সময়ে এ শহরের ঈর্ষার বিষয়। সেই আড্ডার একপ্রাণ মইনুল এখন মার্কিন মুলুকে ব্যবসায়ী। আরেক প্রাণ ফারুক কানাডায় স্থায়ী নিবাস গড়েছে।

এসবের সাক্ষি হয়ে আছেন আককাস মাহমুদ। না, তিনি এই শহর ছেড়ে কোথাও চলে যাননি, যাবেন বলেও মনে হয় না। পদ্মাপাড়ের এই ছেলেটি সংগ্রামে আর ভালোবাসায় জীবন গড়েছেন ইস্কাটনে। ক্রিকেট আর ছবি দিয়ে জীবনের শুরু। বেঁচে থাকার তাগিদে মাঠের ক্রিকেটকে বিয়োগান্তক সিনেমার প্রেমিকার মতো ত্যাগ করেছেন; আকড়ে ধরেছেন ফটোগ্রাফি। পেশা এবং নেশা হয়ে আছে আলোকচিত্র সেই সাদা-কালো যুগ থেকে। সেই আলোকচিত্র নিয়ে এবার তিনি যাচ্ছেন দুনিয়ার রাজধানী বলে খ্যাত নিউ ইয়র্কে; একটা প্রদর্শনী করতে।
তো, মার্কিন মুলুকে আককাস মাহমুদের আলোকচিত্র প্রদর্শনী অন্য একটা আলো ফেলুক, বন্ধু হয়ে আমি এটাইতো প্রত্যাশা করবো।’’







