বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে জাতিসংঘের মহাসচিব এসেছেন রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে, শুধু রোহিঙ্গারাই নয় গোটা দেশের মানুষই আজ শরণার্থী হয়ে গেছে। জাতিসংঘের মহাসচিবসহ সকলের আসা উচিত বাংলাদেশটাকে দেখতে। কী কারণে আজকে বাংলাদেশের মানুষ শরণার্থী হয়েছে? একটাই মাত্র কারণ, আওয়ামী লীগ আজকে গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করে বসে আছে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মুক্তি পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন: ‘জনগণকে সম্পৃক্ত করে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে জাতীয় ঐক্যের লক্ষে কাজ শুরু করেছি, যদি আমাদের জাতীয় ঐক্যে সফল হয় তবে আওয়ামী লীগ সরকার তিন দিনের বেশি টিকে থাকতে পারবে না।’
তিনি বলেন: ‘আইনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা সম্ভব নয়। একমাত্র আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। রাজনৈতিকভাবে তাকে বন্দী করা হয়েছে, আর রাজনৈতিকভাবে তাকে মুক্ত করতে হবে। তাই কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন: ‘আমাদের ৫শ’র অধিক নেতা-কর্মীকে গুম করা হয়েছে। ১৮ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। আজকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীরা কেউ বাসায় থাকতে পারছে না। আজকে বেশির ভাগ নেতাকর্মী এখানে, ওখানে থেকে শরণার্থী হয়ে গেছে।’
ফখরুল বলেন: ‘দেশে যে সংকট তৈরি হয়েছে এটা শুধু বিএনপির নয়, এই মহাসংকট হচ্ছে পুরো জাতির। কারণ এই জাতির যা কিছু অর্জন আমাদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র হরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজকে দেশ স্বৈরাচারী একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।’
নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মির্জা ফখরুল বলেন: ‘আপনাদের রাজপথে নেমে আসতে হবে এবং জমায়েত বাড়াতে হবে। হাজার, হাজার, লাখে নেমে আসতে হবে তা না হলে সফল হবেন না। সেজন্য জনগণের কাছে যেতে হবে। সুসংগঠিত করতে হবে।’
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম প্রমুখ।







