ফুটবল বিশ্বের আর্জেন্টাইন সমর্থকরা বুঁদ হয়ে ছিলেন পিটার্সবার্গের ম্যাচে। তবে একটা চোখ বরাদ্দ ছিল রোস্তভে। দুই ম্যাচের কোনো দিক থেকেই হতাশ হতে হয়নি আকাশী-নীল ভক্তদের। পিটার্সবার্গে যখন নিজেদের ভাগ্য নিজেরাই গড়েছে আর্জেন্টিনা, রোস্তভে তখন আইসল্যান্ডকে হারিয়ে মেসিদের পথটা কন্টকমুক্ত করেছে ক্রোয়েশিয়া।
রোস্তভ অ্যারেনায় আইসল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ ‘ডি’ সেরা হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে গেছে ক্রোয়েশিয়া। গ্রুপপর্বের সবগুলো ম্যাচই জিতেছে দলটি। ৯ পয়েন্ট নিয়ে নক আউটে মদ্রিচ-রাকিটিচরা। সেরা ষোলোয় প্রতিপক্ষ হিসেবে তারা পাচ্ছে গ্রুপ ‘সি’ রানার্সআপ ডেনমার্ককে।
মঙ্গলবার বাঁচা-মরার ম্যাচে নামার আগেই সুসংবাদ পায় আইসল্যান্ড। পরীক্ষা-নিরীক্ষার দল নামাবে ক্রোয়েটরা। যদিও পরে তা কাজে লাগেনি। গ্রুপসেরা হয়ে আগেই দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত হওয়ায় ইউরোপিয়ান প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ক্রোয়েশিয়া দলকে রিজার্ভ খেলোয়াড়দের দিয়েই সাজান কোচ জ্লাতকো দালিচ। নাইজেরিয়া ও আর্জেন্টিনাকে হারানো দলের ৯জনকে সাইডবেঞ্চে রেখে নিয়মিত দলের কেবল লুকা মদ্রিচ ও ইভান পেরিসিচকে একাদশে রাখেন।
সাইড বেঞ্চের দল নিয়েও প্রায় ৭০ শতাংশ বলের দখল রাখে ক্রোয়েশিয়া। বাকি ৩২ শতাংশ বল পায়ে দু-একবার আতঙ্ক ছড়ায় আইসল্যান্ড, যদিও তাতে ধার থাকল না।
গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর বিরতি থেকে ফিরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ক্রোয়েশিয়া। ৫৩ মিনিটে লুকা মদ্রিচের পাসে জোরের ওপর এক হাফ-ভলিতে গোল করেন মিলান বাদেলেজ।
এরপরই আর্জেন্টিনার সমর্থকদের জন্য দুঃসংবাদ। কারণ সেই গোল ৭৬ মিনিটে শোধ করে খেলায় ফেরে আইসল্যান্ড। সেটিও আবার পেনাল্টি থেকে। ক্রোয়েটদের ডি-বক্সে ডেজান লভ্রেনের হাতে বল লাগলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিকে গোল করেন নাইজেরিয়া ম্যাচে পেনাল্টি মিস করা সিগার্ডসন।
সমতা ফিরলেই হবে না, সঙ্গে চাই জয়। আইসল্যান্ডকে যখন ঝাপিয়ে পড়তে হবে প্রতিপক্ষের উপর, তখনই মিলান বাদেলেজ হানলেন তার দ্বিতীয় আঘাত। ফ্লোরেন্টিনার মিডফিল্ডার এবার গোল করলেন না, করালেন। ৯০ মিনিটে তার দেয়া পাসে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে আইসল্যান্ডকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দেন ইভান পেরিসিচ।







