জঙ্গি সংগঠন আইএসের নাশকতার হুমকির মুখেই যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যগামী উড়োজাহাজগুলোতে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যমগুলো। তবে স্মার্টফোন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের একটি সূত্র এবিসিকে জানিয়েছে, আইএস বিভিন্ন বহনযোগ্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মধ্যে করে বিস্ফোরক পাচারের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে খবর পেয়েছে তারা। মার্কিন প্রশাসন এই তথ্যটিকে ‘আপাত সত্য’ এবং ‘বিশ্বাসযোগ্য’ বলে মনে করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন আইএস প্রসঙ্গে আলোচনার জন্য ৬৮ দেশের মন্ত্রী এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে দু’দিনের একটি বৈঠকও আয়োজন করতে যাচ্ছেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে দুবাইয়ের ডালো পরিবহন পরিচালিত একটি বিমান সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে ওড়ার কিছুক্ষণের মধ্যে বিস্ফোরিত হওয়ার পর মঙ্গলবার মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার আটটি দেশের বিমানের যাত্রীদের কেবিন ব্যাগে ল্যাপটপ, ট্যাবসহ যাবতীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
বিদেশি যাত্রীদের ওপর গোয়েন্দা সংস্থার সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ সিদ্ধান্ত দ্রুত উঠে এসেছে বলে গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের বরাতে বিবিসি, সিএনএন জানায়, এ সিদ্ধান্তের কারণে ১০টি এয়ারপোর্টের নয়টি এয়ারলাইন্সে বিষয়টি কার্যকর হতে পারে। তবে এ সিদ্ধান্তের আওতায় কোন কোন এয়ারলাইন আসবে তা এখনো জানানো হয়নি।
এ সিদ্ধান্তের আওতায় বিমানের কোনো যাত্রী তাদের হাত ব্যাগে (হ্যান্ড লাগেজ) করে বড় ল্যাপটপ, ট্যাব, ক্যামেরা, ডিভিডি প্লেয়ারের মতো ডিভাইসগুলো নিয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তবে স্মার্টফোন এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যন্ত্রপাতি এ নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।
বিমান পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের পর যুক্তরাজ্যও ৬টি দেশের উড়োজাহাজের যাত্রীদের কেবিন ব্যাগে ল্যাপটপ ও ট্যাবলেট বহন নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর ব্রিটেন এই ঘোষণা দেয়।

সরকারি সূত্রের বরাতে বিবিসি ও এনডিটিভি জানায়, মিশর, জর্ডান, লেবানন, সৌদি আরব, তিউনিসিয়া এবং তুরস্ক থেকে সরাসরি বৃটেনে ভ্রমণকারী বিমান যাত্রীরা তাদের সাথে ল্যাপটপ, ট্যাব সাথে রাখতে পারবে না। তবে মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখতে পারলেও এবং বড় আকারের ফোন (১৬ সেন্টিমিটারের বেশি) রাখা যাবে না।
বিমানের মূল কেবিনে মোবাইল ফোন ছাড়া সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য বহন নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে কানাডাও। কানাডাভিত্তিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল নতুনদেশ.কম এ প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, সেখানকার পরিবহনমন্ত্রী মার্ক গার্নেও বলেছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার দেয়া তথ্য পর্যালোচনা করছে কানাডা।
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ থেকে ছেড়ে আসা বিমানের যাত্রীদের মোবাইল ফোন ছাড়া সব ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য মূল কেবিনে বহন নিষিদ্ধ করা হবে কিনা- মার্কিন গোয়েন্দাদের দেয়া তথ্য পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত হবে।







