দীর্ঘ দুই বছর তথাকথিত ইসলামিক স্টেট বা আইএসের দখলে থাকা ইরাকি শহর ফালুজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সর্বাত্মক হামলা শুরু করেছে ইরাকি সেনাবাহিনী। আইএসের শক্ত ঘাঁটি লক্ষ্য করে চলছে গোলা নিক্ষেপ। একই সঙ্গে অগ্রসর হচ্ছে সন্ত্রাসবিরোধী এলিট বাহিনী।
বোমা এবং আত্মঘাতী হামলা চালিয়ে জবাব দেয়ার চেষ্টা করছে মরিয়া আইএস। ইরাকের রাজধানী বাগদাদের মাত্র ৫০ কিলোমিটার কাছের শহরটি থেকে রাজধানীর আশে পাশে বোমা হামলা চালাচ্ছে জঙ্গিরা। এসব হামলায় এখন পর্যন্ত ২০ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
প্রায় এক সপ্তাহ ধরে ফালুজা দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে ইরাকি সেনারা। আইএসের নৃশংসতার প্রতিশোধ নিতে তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মিলিশিয়া বাহিনী। অভিযানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ফালুজায় জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে এই সমন্বিত বাহিনী।তবে ফালুজায় আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিকদের নিয়ে শঙ্কা কাটছে না। 
সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় শহরটিতে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০১৪ সাল থেকে আইএসের দখলে থাকা ফালুজাবাসীর জীবন আগে থেকেই দুর্দশাগ্রস্থ ছিলো। এখন ইরাকি বাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে এসব সাধারণ মানুষকে মানব-ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে জঙ্গিরা।
তবে বেসামরিক মানুষকে ফালুজা থেকে সরে যেতে এখনো ফালুজার ভেতরে বড় ধরণের কোনো হামলা থেকে বিরত আছে ইরাকি সেনারা। শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়তে অথবা বাড়ির ভেতরে থাকতে নির্দেশ দিয়েছে তারা। কিন্তু আইএস জঙ্গিরা কাউকে বের হতে দিচ্ছে না বলে জানা গেছে।
মসজিদের শহর হিসেবে পরিচিত ফালুজা ইরাক যুদ্ধে বেশ কয়েকটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। সাদ্দামের পতনের পর প্রায় ত্রিশ লাখ মানুষের শহরটির দখল নেয় আল-কায়দা এবং ২০১৪ সালে শহরটির নিয়ন্ত্রণ চলে যায় আইএসের হাতে।







