জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখান করেছে ফ্রান্স সরকার। বর্তমানে পশ্চিম লন্ডনে ইকুয়েডর দূতাবাসে থাকা অ্যাসাঞ্জের ‘তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা নেই’ বলে মনে করে ফ্রান্স।
উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ (৪৪) ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের কাছে একটি খোলা চিঠিতে ফ্রান্স সরকারের কাছে তাকে শরণার্থী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন।
তবে অ্যাসাঞ্জের এই আবেদনে ফ্রান্স সাড়া দিলেও বাস্তব অর্থে তার মুক্তি ঘটতো না।
‘লেঁ মনডে’ প্রত্রিকায় প্রকাশিত ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের কাছে লেখা চিঠিতে অ্যাসাঞ্জ নিজেকে একজন সাংবাদিক এবং পেশাগত কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছ থেকে মৃত্যুর হুমকিপ্রাপ্ত হিসেবে পরিচিতি দেন।
প্রতিক্রিয়ায় এলিসি প্রাসাদ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্রান্স তার আবেদন অনুযায়ি পদক্ষেপ নেবে না। জনাব অ্যাসাঞ্জের বর্তমান পরিস্তিতিতে আশু কোনে বিপদের আশংকা নেই।’
ফ্রান্সের শরণার্থীর স্বীকৃতি আসলে অ্যাসাঞ্জের কোনো কাজে আসতো না। কারণ সুইডেনে বহিঃসমর্পণ থেকে রক্ষা পেতে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে ইকুয়েডর দূতাবাসের আশ্রয়ে থাকা অ্যাসাঞ্জ দূতাবাস ত্যাগের চেষ্টা করলেই লন্ডন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে।
সুইডেনের প্রসিকিউটররা ২০১০ সাল থেকেই ধর্ষণ এবং যৌন হয়রানির কথিত অভিযোগে অ্যাসাঞ্জকে জিজ্ঞাসাবাদের চেষ্টা করে আসছেন। অ্যাসাঞ্জ অবশ্য বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ফ্রান্সের অনেক জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যেমন ফুটবলার এরিক কাঁতোয়া এবং সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের লেখক অর্থনীতিবিদ থমাস পিকেটি অ্যাসাঞ্জকে আশ্রয় দেয়ার আবেদন মঞ্জুরের অনুরোধ করেছিলেন।
কিন্তু অ্যাসাঞ্জের উপর ইউরোপিয়ান গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি থাকার কারণে ওঁলাদ ওই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন।
শুক্রবার ৪৪ বছরে পা রাখা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ উইকিলিকসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক এবং কূটনৈতিক অনেক গোপন তথ্য ফাঁস করেছেন। তার ভয় যে, তাকে সুইডেনের কাছে তুলে দেওয়া হলে সুইডেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দেবে যেখানে তার বিচারে মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।






