এখন থেকে ৪৩ শতাংশ কমিয়ে ৫৫৮ টাকা মেগাবাইট/সেকেন্ড ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বিক্রি করবে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিসিএল)। এতে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের খরচ কমার কথা থাকলেও পূর্বের অভিজ্ঞতায় গ্রাহক পর্যায়ে দাম কমার দৃষ্টান্ত নেই বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
রোববার বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের এক সভায় ব্যান্ড উইথের দাম কমানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার মনে করছেন, আগে ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম কমলেও গ্রাহক পর্যয়ে দাম না কমার দৃষ্টান্ত রয়েছে।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমরা প্রথম যখন ইন্টারনেট ব্যবহার শুরু করি তখন ব্যান্ডউইথ ছিলো ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জিবিপিএস। এই সরকার যখন ক্ষমতায় আসলো তখন ব্যান্ডউইথ ছিলো ৭৮ হাজার টাকা জিবিপিএস। এরপরও বহুবার ব্যান্ডউইথের টাকা দাম কমেছে কিন্তু গ্রাহক শ্রেণী এইক্ষেত্রে কত কতটুকু লাভবান হয়েছে? সে প্রশ্ন রয়েই গেছে।’
আগের দামেই গ্রাহকরা এখনো ইন্টারনেট ব্যবহার করছে জানিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘দাম কমানোকে আমি স্বাগত জানালেও সন্দিহান এর কতটুকু সুবিধা জনসাধারণের কাছে পৌঁছাবে। এক্ষেত্রে বিটিআরসিকে আরও বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।’
এক্ষেত্রে মোবাইল কোম্পানিগুলো স্বেচ্ছাচারিতার পরিচয় দিয়ে চলেছে দাবি করে তিনি বলেন, তারা ইচ্ছে মতো থ্রিজি প্যাকেজ করছে। দামটাও তারাই নির্ধারণ করছে। উচ্চ মূল্যের এই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে দেখা যাবে নিজের মেইলটাই ওপেন করা যাচ্ছে না। আবার কোথাও তাদের নেটওয়ার্ক থাকে। কোথাও থাকে না। এক্ষেত্রে বিটিআরসি চরম ব্যর্থ হয়েছে।
বাংলাদেশে বর্তমানে ২০০ জিবিপিএস ক্ষমতা সম্পন্ন সাবমেরিন ক্যাবলের লাইন রয়েছে জানিয়ে এ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ বলেন, ওই লাইনের মাত্র ৩০ জিবিপিএস আমরা ব্যবহার করছি। আর ১৭০ জিবিপিএস অব্যবহৃত থাকছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে ব্যান্ডউইথ বাইরে বিক্রি করার কথা আগে থেকেই বলা ছিলো।
প্রাথমিক ভাবে গত ৬ জুন বিএসসিসিএল ভারতের কাছে ১০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ বিক্রি করার জন্য একটি চুক্তি করে। শনিবার আগরতলায় যার ভিত্তি প্রস্তর ভিত্তি স্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ।
ভারতের পাশাপাশি ইতালির সাথেও ব্যান্ডউইথ বিক্রির কথা চলছে। ইতালির সার্কেলস কোম্পানি বিএসসিসিএলের কাছ থেকে আমাদের সক্ষমতার অর্ধেক ব্যান্ডউইথ কিনে নিতে আগ্রহী।
বাংলাদেশ বর্তমানে সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম সিমিউয়ি-৪ এর সদস্য। যার ক্যাবল লাইন সিঙ্গাপুর থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত। তাই ইতালির জন্য সেখান থেকে সংযোগ নেওয়া অনেক সহজ।
বাংলাদেশের বর্তমান সাবমেরিন ক্যাবলটি যাত্রা শুরু করে ২০০৬ সালে। একটি সাবমেরিন ক্যাবলের কার্যক্ষতা ২০-২৫ বছর পর্যন্ত থাকে।
মোস্তফা জব্বার বলেন, আগামী ১৫-১৬ বছর এই সাবমেরিন ক্যাবলটি আমরা ব্যবহার করতে পারবো। আমাদের খুব তাড়াতাড়ি সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়াম সিমিউয়ি-৫ এর সদস্য হবারও কথা রয়েছে। তাহলে আমাদের বর্তমান ক্যাপাসিটির সাথে আরও ১৩০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ইন্টরনেট যুক্ত হবে।






