নতুন প্রজন্ম বলছে, রাজনীতি থেকে তারা যতটা দূরে থাকে মনে হয়, মন থেকে আসলে তত দূরে থাকে না। হয়তো অনেকেই মাঠে নেমে কোন রাজনৈতিক দলের পক্ষে কথা বলে না, কিন্তু কোন দলটি দেশের উন্নয়নের জন্য কী করছে সেই খবরটি রাখে। আটষট্টি বছর পার করা আওয়ামী লীগ সম্পর্কেও আছে তাদের নিজস্ব বিশ্লেষণ।
দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তরুণ প্রজন্মের কয়েকজন প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইনে, জানতে চেয়েছে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তাদের ধারণা এবং বিশ্লেষণ কী।
তারা বলছে, বাংলাদেশের সুপ্রাচীন দল আওয়ামী লীগ নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা পক্ষের সেই দল যে দলকে নিয়ে গর্ব করা যায়। তবে অনেকে এটাও মনে করে, পুরনো এই দলটি গণতন্ত্র চর্চায় পিছিয়ে পড়ছে। সমানভাবে গণতন্ত্র চর্চা এবং জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়লে দলটি আগের সুনামে ফিরে আসবে।
ছিন্নমূল শিশুদের নিয়ে কাজ করা মজার ইশকুলের চেয়ারম্যান আরিয়ান অারিফ চ্যানেল অাই অনলাইনকে বলেন, দল হিসেবে অাওয়ামী লীগকে দু’টো কারণে এগিয়ে রাখব। একটি যুদ্ধপরাধীদের বিচার এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।
‘কিন্তু, বর্তমানে প্রাচীনতম দলটি রাজনৈতিকভাবে পরিচ্ছন্ন নয়, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ততাও কম। আওয়ামী লীগ আগের মতো গণতন্ত্র চর্চায় ফিরলে তরুণদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।’
বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে গড়া দলটির প্রতি আরিফের চাওয়া পরিচ্ছন্ন রাজনীতিতে যেন আওয়ামী লীগ আগের অবস্থানে ফিরে আসে এবং আইনের শাসনকে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করে।
তার মতে আইনের শাসন ও স্বাধীন বাংলাদেশে বিশ্বাসী সব দলের রাজনীতি চর্চার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা– এই দুটি জায়গায় ঠিক থাকলে আওয়ামী লীগ সরকার আগামী দশ বছরে দেশকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করা আকলিমা তারা বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক পুরনো একটি দল। জন্মের পর যখন বুঝতে শিখলাম তখন থেকেই জাতির পিতাকে শ্রদ্ধা করি। এরপর তার হাতে গড়া দল আওয়ামী লীগকে পছন্দ করতে শুরু করলাম। আওয়ামী লীগ এমন একটি দল যারা স্বাধীনতার পক্ষে এবং মানুষের কথা বলে। বঙ্গবন্ধুর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলটি তারই অনুসরণে চলেছে।
তিনি বলেন: রাজনৈতিকভাবে দলটিতে অনেক ওঠা-নামা হয়েছে। তবে বর্তমানে তাদের উন্নয়নমূলক কাজ, আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে আলাদা পরিচয়ে পরিচিত করা, যুদ্ধাপরাধীর বিচার সম্পন্ন, জিডিপি প্রবৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রযুক্তিতে এগিয়ে যাওয়ার কারণে নতুন প্রজন্মের কাছে আওয়ামী লীগ সেরা দল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
ইতিহাস, ঐতিহ্য ও দূরদৃষ্টির কারণে বাংলাদেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লীগকে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইটি সোসাইটির প্রতিষ্ঠাকলীন প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ আল ইমরান।
তিনি বলেন, সুপ্রাচীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল বাংলাদেশে নেই। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এই দলটির প্রতি আলাদা একটি দুর্বলতা রয়েছে।
তার মতে: বহু সময়ে দলটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। ভুল-ত্রুটিও রয়েছে। এরপরও তরুণদের কাছে দলটি জনপ্রিয়। কারণ আওয়ামী লীগের আর্দশ, লক্ষ্য, ডিজিটাল বাংলাদেশসহ তাদের ভিশন সবকিছুই পরিস্কার। আর সে কারণে দলটি তরুণদের মনে জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছে।
‘এছাড়া আওয়ামী লীগ তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছে অন্য কোনো দল সেভাবে পারেনি।’
তিনি বলেন: রাজনীতিতে অস্থিরতা কমাতে নতুন প্রজন্ম যেন রাজনীতিতে আসতে পারে তার প্লাটফর্ম আওয়ামী লীগকে করতে হবে। একইসঙ্গে নিজ নিজ ক্ষেত্রে যোগ্যদের শুধু দলের আওতায় নয়, অন্যভাবেও কাজে লাগানোর কথা বলেন তিনি।
আবদুল্লাহ আল ইমরান মনে করেন, তরুণদের মনে আরও বেশি করে জায়গা করতে দলের ভেতেরে কোন্দল, অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি, আইনকে নিজের মতো করে ব্যবহার করা– এ বিষয়গুলো শক্তভাবে দমন করতে হবে। তাহলে আওয়ামী লীগ তরুণদের কাছে একটি আইডল রাজনৈতিক দল হিসেব পরিচিতি পাবে।
রাজনীতিতে তরুণদের আশা-ভরসার জায়গা হিসেবে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোন দলকে দেখছেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মঞ্জুরুল ইকরাম।
তিনি বলেন, বিরোধীদলে যারা অবস্থান করছে তাদের সবাইকে স্বার্থবাদী দল মনে হয়। অতীতে বাংলাদেশের চেতনা ধারণ করা আওয়ামী লীগ এগিয়ে গেছে, বর্তমানেও সেই চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশ এবং দেশের তরুণদের এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগ নানা কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছে। সেই কর্মকাণ্ডে অনেক তরুণ কর্মসংস্থানের খোঁজ পেয়েছে।
কর্মসংস্থানের মতো কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেয়ার পরামর্শ তরুণ প্রজন্মের।








