দীর্ঘসময় ধরে জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বেচ্ছামৃত্যুর অধিকার দিয়ে দুই সপ্তাহ আগে যে আইন পাস হয়েছিল, তা শনিবার থেকে কার্যকর করেছে অস্ট্রিয়া।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাংবিধানিক আদালতের রায়ের পর দেশটির পার্লামেন্ট গত ডিসেম্বরে আইনটি পাস করে। এই আইনে জটিল রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে রোগে অচল ব্যক্তিরা চাইলে স্বেচ্ছায় মৃত্যুবরণ করার অধিকার লাভ করে।
তবে আইনটির অপপ্রয়োগ রোধে দুই জন ডাক্তারের মাধ্যমে স্বেচ্ছা মৃত্যু চাওয়া ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা যাচাই করতে হবে- এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। সেই দু’জনের মধ্যে একজন হবে ওই ব্যক্তি যে রোগে আক্রান্ত, তার বিশেষজ্ঞ।
অস্ট্রিয়ার সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, সরকার রোগ উপশম করাসহ অন্যান্য সকল বিকল্প ব্যবস্থার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছেন, যাতে সহজে কেউ স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে না নেয়।
নতুন এ আইনে বলা হয়েছে, বয়স্ক ব্যক্তি, যারা এভাবে স্বেচ্ছায় মৃত্যু চান, তাদেরকে মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দিতে হবে দু’জন চিকিৎসকের কাছে। যাতে প্রমাণিত হয়, তাদের শারীরিক অবস্থা কতোটা গুরুতর এবং তারা স্বেচ্ছায় মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম কি না।
চিকিৎসকের অনুমতি পাওয়ার পর, সেই সিদ্ধান্ত পুনঃবিবেচনার জন্য ওই রোগীকে ১২ সপ্তাহ আর গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ২ সপ্তাহ অপেক্ষা করতে পারবে।
এই অপেক্ষমান সময়ের পরেও যদি তাদের সিদ্ধান্ত অটল থাকে তবে তারা আইনজীবী বা নোটারির কাছ থেকে বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর ফার্মেসি থেকে প্রাণঘাতী ওষুধ সংগ্রহ করতে পারবে।
এই ওষুধের অপব্যবহার ঠেকাতে, এসব ফার্মেসি এবং ওষুধের নামের বিজ্ঞাপন দেওয়া নিষেধ করা হয়েছে।
এর আগে দেশটিতে স্বেচ্ছামৃত্যু চাইলে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হতো। অস্ট্রিয়ার প্রতিবেশি সুইজারল্যান্ডে এই ধরনের মৃত্যু বৈধ। এছাড়াও স্পেন, বেলজিয়াম ও নেদারল্যান্ডসহ ইউরোপের বেশ কিছু দেশে স্বেচ্ছামৃত্যুকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না।








