শুধু চলচ্চিত্রের ইতিহাসেই নয়, বিশ্বের শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাসে অস্কার সবচাইতে আলোচিত এবং সম্মানজনক পুরষ্কার। চলচ্চিত্রের ইতিহাসের প্রাচীনতম, জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী এই পুরস্কার দিয়ে থাকে একাডেমি অব মোশন পিকচার্স এন্ড সাইন্স (এএমপিএএস) নামের একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান।
অস্কার পুরস্কারের ৯০তম আসর বসবে আগামী ৪ মার্চ লস অ্যাঞ্জেলসের ডলবি থিয়েটার হলে। সেই আসরে গত বছরের মতো এবারও মূল উপস্থাপক হিসেবে থাকছেন স্বনামধন্য কমেডিয়ান জিমি কিমেল। তবে তাঁর সঙ্গে আরও যোগ দিবেন মাহেরশালা আলি, শাদভিক বোসমান, ভিওলা ডেভিস, লরা দের্ন, জেনিফার গারনার, গ্রিটা গারভিগ, দিফানি হ্যাডিশ, টম হল্যান্ড, কুমেইল নানজিয়ানি, মারগট রবি, এমা স্টোন এবং দানিলা ভেগা।
এক নজরে দেখে নিন গত নব্বই বছরের অস্কার অনুষ্ঠানের স্মরণীয় কিছু মুহূর্ত:
১৯২৯: এই বছরের ১৬ মে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় জমকালো এই ইভেন্টের। হলিউডের রুজভেল্ট হোটেল আয়োজিত এই অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন ডগলাস ফেয়ার ব্যাংকস সিনিয়র। নীরব ছবি ‘উইংস’ জিতে নেয় সেরা চলচ্চিত্রের পুরষ্কার।

১৯৩৯: অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডের নাম দেয়া হয় ‘অস্কার।’ কেউ বলে থাকেন একাডেমি লাইব্রেরিয়ান মার্গারেট হারিক এই পুরস্কার দেখে বলেছিলেন এই পদকের মানুষটি দেখতে তাঁর চাচা অস্কারের মতো, তাই এই নামকরণ।
১৯৪০: হ্যাটি ম্যাকড্যানিয়েল প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে অস্কার জিতে নেন। ‘গন উইথ দ্য উইন্ড’ ছবিতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জিতেছিলেন তিনি। এর ৫১ বছর পর আরেক কৃষ্ণাঙ্গ নারী হুপি গোল্ড বার্গ ‘ঘোস্ট’ ছবির জন্য অস্কার জিতেছিলেন।
১৯৫৩: টেলিভিশনের পর্দায় প্রথমবারের মতো অস্কার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়। সিডনি পইটিয়ার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ অভিনেতা হিসেবে ‘লিলিজ অব দ্য ফিল্ড’ ছবির জন্য অস্কার জেতেন।
১৯৬৮: মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রকে গুপ্তহত্যা করার কারণে অস্কার অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান দুই দিন পিছিয়ে দেয়া হয়।
১৯৬৯: সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারে প্রথমবারের মতো যুগ্মভাবে দুইজন পুরষ্কার জেতেন। ক্যাথারিন হেপবার্ন জেতেন ‘দ্য লায়ন ইন উইনটার’ ছবির জন্য এবং বারব্রা স্ট্রেইস্যান্ড জেতেন ‘ফানি গার্ল’ ছবির জন্য। হেপবার্ন অবশ্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
১৯৭৩: ‘দ্য গডফাদার’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য মারলন ব্র্যান্ডো সেরা অভিনেতার পুরষ্কার জেতেন। কিন্তু তিনি অস্কার বয়কট করেন। ন্যাটিভ আমেরিকানদেরকে সিনেমা এবং টেলিভিশনে সম্মানজনক ভাবে দেখানো হয়না- এই অভিযোগে তিনি অস্কার অনুষ্ঠান বয়কট করেছিলেন।
২০০২: হ্যালে বেরি প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জেতেন।

২০০৩: ‘দ্য লর্ড অব দ্য রিংস: দ্য রিটার্ন অব দ্য কিং’ ছবিটি অস্কারের ইতিহাসে সবচাইতে বেশি সংখ্যক অ্যাওয়ার্ড জিতে নেয়। যতগুলো ক্যাটাগরিতে নমিনেশন পেয়েছিল, সবগুলোই জিতে নিয়েছিল ছবিটি। মোট ১১টি পুরষ্কার জিতেছে ছবিটি।
২০০৯: ক্যাথরিন বিগেলো প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে অস্কার জিতেছিলেন। ‘দ্য হার্ট লকার’ ছবির জন্য এই পদক জিতে নিয়েছিলেন তিনি।
২০১৩: জেনিফার লরেন্স ‘সিলভার লাইনিংস প্লেবুক’ ছবির জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরষ্কার জিতেছিলেন। পুরষ্কার গ্রহণ করতে স্টেজে ওঠার সময় তিনি হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। অবশ্য বিষয়টি নিয়ে কেউ হাসেনি বরং সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করে।
২০১৬: ২০১৫ এবং ২০১৬ পরপর দুই বছরে অভিনয়ের বিভিন্ন ক্যাটেগরিতে ২০ জন মনোনয়নপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন সাদা চামড়ার। তাই ২০১৬ সালে সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ দিয়ে প্রতিবাদ করা হয়। ‘অস্কারস সো হোয়াইট’ শিরোনামের এই প্রতিবাদে অ্যাকাডেমি নারী এবং নানা বর্ণের মানুষের মনোনয়ন বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করতে বাধ্য হয়।
২০১৭: ‘মুন লাইট’ ছবিটি সেরা চলচ্চিত্রের পুরষ্কার জিতে নেয়। এটাই অস্কারে সেরা চলচ্চিত্রের খেতাব জেতা প্রথম ছবি যেখানে সকল অভিনয় শিল্পীই কৃষ্ণাঙ্গ। যদিও স্টেজে প্রথমে ভুলে ‘লা লা ল্যান্ড’ ছবিটিকে সেরা ছবি হিসেবে ঘোষণা দিয়ে দেয়া হয়েছিল।
২০১৮: এবছরের অস্কারে কী চমক থাকছে সেটাই এখন দেখার পালা। কিন্তু ইতিমধ্যেই কিন্তু একটি চমক দেয়া হয়েছে। আর তা হলো অস্কারের ইতিহাসে এবারই প্রথম একজন ট্রান্সজেন্ডার অভিনেত্রী হিসেবে দানিলা ভেগাকে অস্কার আসরে উপস্থাপনা করার সম্মান দেওয়া হচ্ছে। হিন্দুস্তান টাইমস







