অস্কারের প্রতি আসরেই সৃষ্টি হয় নানান স্মরণীয় ঘটনার। বিশেষ করে নামী তারকাদের দামী বক্তব্যগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকে চিরকাল। ইতিহাসে অংশ হয়ে যায় এসব মূল্যবান বক্তব্যগুলো। জেনে নিন অস্কারের ইতিহাসে তেমনই কিছু স্মরণীয় বক্তব্য।

হ্যালি বেরি প্রথম আফ্রিকান–আমেরিকান অভিনেত্রী, যিনি ‘মনস্টারস বল’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেত্রী ক্যাটাগরিতে অস্কার জিতেছেন। স্বপ্নের অস্কার হাতে পেয়ে তিনি বলেছেন, ‘এই মূহূর্তটা আমার থেকেও অনেক বড়। এই পদকটা আমি নামহীন, চেহারাহীন, বর্ণবাদের স্বীকার নারীদের উৎসর্গ করব, যাদের দুয়ার আজ খুলে গেছে।’ চোখে অশ্রু এবং কন্ঠে আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলেন তিনি।

টম হ্যাংকস
দুইবার অস্কার জিতেছেন টম হ্যাংকস। প্রথম বার ‘ফিলাডেলফিয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য অস্কার জিতেছিলেন তিনি আর দ্বিতীয়বার জিতেছেন ‘ফরেস্ট গাম্প’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতার পুরস্কার। এই পুরস্কার পাওয়ার পর তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে একটি স্মরণীয় মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘ও আমাকে প্রতিদিন ওর ভালোবাসার প্রমাণ দেয়।’

লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও
গত অস্কারে বহু প্রতীক্ষার পর লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও অস্কার জেতেন। ‘দ্য রেভেনেন্ট’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য। বহু কাঙ্ক্ষিত অস্কার হাতে নিয়ে তিনি তার সঙ্গী কলাকুশলীদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি বলেন, ‘রেভেনেন্ট’ সিনেমাটা ছিল মানুষের সাথে তার প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে । জলবায়ু পরিবর্তন জিনিসটা বাস্তব। এটা এখনই ঘটছে, এই মুহূর্তেই ঘটছে। আমাদের পুরো প্রজাতির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি এখন এটাই। আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে এই হুমকির মোকাবেলা করতে হবে। আর দেরি করার কোনো সময় নেই। বিশ্বের সেই নেতাদের পাশে দাঁড়াতে হবে, যারা বড় বড় কর্পোরেট আর দূষণকারীদের পক্ষে কথা বলেন না; বরং যারা সমগ্র মানবতার পক্ষে কথা বলেন। বিশ্বের সমগ্র আদিবাসীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হবে, আমাদের ভবিষ্যৎ যে প্রজন্ম আক্রান্ত হবে, আর লোভের রাজনীতি দিয়ে যাদের কণ্ঠকে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই আজ রাতের এই অসাধারণ পুরষ্কারটার জন্য।

রবিন উইলিয়াম
প্রয়াত রবিন উইলিয়াম ১৯৯৮ সালে অস্কার জিতেছিলেন। তিনি ভাবতেও পারেননি যে তিনি অস্কার জিতে যাবেন। আর তাই অস্কার পেয়ে হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, ‘জীবনে এই একবারই আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি।’ ‘গুড উইল হান্টিং’ ছবির জন্য অস্কার জেতেন এই তারকা।

রবার্তো বেনিনি
১৯৯৯ সালে ভিন্ন ভাষার ছবির ক্যাটাগরিতে অস্কার জেতে ‘লাইফ ইজ বিউটিফুল’ ছবিটি। আর এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান রবার্তো বেনিনি। পুরস্কারের ঘোষণা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান এই অভিনেতা। আনন্দে নিজের চেয়ারের ওপর উঠে দাঁড়ান তিনি। এরপর কয়েকটি চেয়ার টপকে স্টেজে এসে পদক গ্রহণ করেন। উচ্ছসিত হয়ে উপস্থাপিকা সোফিয়া লরেনকে মজা করে বলেন, ‘আমি ট্রফি পেয়েছি কিন্তু আমি তোমাকে চাই। তোমার সৌন্দর্যের ঢেউয়ে ভেসে যেতে চাই আমি।’ তার এই হাস্যরসাত্মক কথা শুনে পুরো গ্যালারি হেসে ওঠে। এরপর তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং নিজের অভিভাবক সম্পর্কে বলেন, ‘তারা আমাকে সবচাইতে বড় পুরষ্কার দরিদ্রতা উপহার দিয়েছেন।’

ম্যাথিউ ম্যাককনেগি
‘ডালাস বায়ারস ক্লাব’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য ম্যাথিউ ম্যাককনেগি প্রথমবার সেরা অভিনেতার ক্যাটাগরিতে অস্কার জেতেন। তিনি অস্কার জেতার পর ছবিতে তার অভিনয় প্রসঙ্গে বলেন এবং পরিবারকে ধন্যবাদ জানান। সবশেষে তিনি বলেন, ‘অলরাইট, অলরাইট, অলরাইট।’—যা দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।
টাইম অব ইন্ডিয়া।







