অসাধারণ এক অর্জন। এ অর্জন মোহাম্মদ পনির হোসেনের, এ অর্জন বাংলাদেশের, বাংলাদেশের মানুষের।সাংবাদিকতার অস্কার খ্যাত পুলিৎজার পুরস্কার জয় করেছেন পনির।
গত বছর মিয়ানমার থেকে প্রাণ ভয়ে পালিয়ে অাসা রোহিঙ্গাদের অমানবিক দুর্দশা আর যন্ত্রণার খবর আলোকচিত্রের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরেছিল রয়টার্সের একটি ফটোগ্রাফি টিম। সেই টিমেরই সদস্য ছিলেন পনির হোসেন। ফিচার ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে ওই টিমের তোলা ১৬টি ছবি এ বছর পুলিৎজার পুরস্কার পেয়েছে, যেখানে পনির হোসেনের তোলা ছবি ছিল তিনটি।
সাংবাদিকতায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও সম্মানের পুরস্কার পুলিৎজার। সেই পুরস্কারের ভাগীদার যখন বাংলাদেশের একজন ফটো সাংবাদিক, তখন সেই গৌরবের আমরাও অংশীদার, বাংলাদেশের সাংবাদিকতাও সেই গৌরবে গৌরবান্বিত।
তবে, সেই গৌরব এসেছে এমন এক সময়ে যখন বাংলাদেশের সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকরাও নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ, যখন গণমাধ্যমগুলো অনেকক্ষেত্রে কারো না কারো প্রচার মাধ্যমে পরিণত, দলীয় আনুগত্য ও পুঁজির কাছে আত্মসমর্পিত, সাংবাদিকতার সাধারণ নীতি-নৈতিকতা অনেকক্ষেত্রে উপেক্ষিত, সাংবাদিকরা কিছু ক্ষেত্রে দলীয় কর্মীর মতো, টেলিভিশন অনুষ্ঠানের উপস্থাপকরা বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মানুষকে হেয় করার কাজে নিয়োজিত এবং নতুন উপদ্রব হিসেবে অনলাইন সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা ও বোধবুদ্ধিহীন কর্মকাণ্ড অব্যাহত।
পনিরের পুলিৎজারের সঙ্গে অবশ্য এসবের কোনো সম্পর্ক নেই। তার কাজের ক্ষেত্রটা একটু ভিন্ন। তিনি নিজেও আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ সংস্থায় কর্মরত। তারপরও তার পুলিৎজার প্রাপ্তি আমাদেরকে আমাদের সাংবাদিকতার মান ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন করার একটি উপলক্ষ এনে দিয়েছে। এক্ষেত্রে আমাদের আত্মজিজ্ঞাসা জরুরি।
পাশাপাশি পনির হোসেন আমাদের তরুণ ও নতুন প্রজন্ম যাদের অনেকে একটি সরকারি চাকরিকেই বাঁচা-মরার একমাত্র প্রশ্নে পরিণত করেছেন, তাদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হতে পারেন।
আমরা এরইমধ্যে জেনেছি, পনির হোসেনের ফটোগ্রাফি ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের না হলেও মেধা, পরিশ্রম আর পেশার প্রতি আন্তরিকতায় অল্প সময়ের মধ্যেই তার কাজের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছেন।
চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে কীভাবে তিনি ফটো সাংবাদিক হলেন, সেই গল্প বলেছেন। তিনি জানান, মূলত ২০১০ সালের পর শখের বসেই ফটোগ্রাফি শুরু করেন। সেই শখই একদিন তার পেশা হয়ে যায়। তবে ২০১৬ সালটা ছিল তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বছর। ওই বছরই তিনি যোগ দেন রয়টার্সে, এবং সেদিনটাতে যেদিন গুলশানের হলি আর্টিজানে ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলার ছবি তুলতে হয়েছিল তাকে। তবে সেদিন ভয় নয়, সাহস নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন নিজের কাজে।
মূলত এমন নানা চ্যালেঞ্জ জয় করেই নিজেকে আজকের অবস্থানে নিয়ে গেছেন পনির হোসেন। শুধু নিজেকেই নয়, বাংলাদেশকেও নিয়ে গেছেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির সারিতে। আমরা জানি, পনিরের এমন অর্জন বাংলাদেশের মুখ আরো উজ্জ্বল করবে। তার এই অসাধারণ অর্জনে আমাদের প্রাণঢালা অভিনন্দন।








