লেখকই তো। যার একসঙ্গে দুটো বই বের হয় মেলার দ্বিতীয় দিনেই তাকে অবজ্ঞা করার কোন জায়গা থাকে? আর এটাযে প্রথম তাও নয়! এই দুই বইয়ে তার লেখা বইয়ের সংখ্যা দাড়িয়েছে পাঁচ। তবে বয়স শুনলে ভিমরি খেতে হয়। মাত্র ১০! ক্লাসেও যেমন তার ভালো ফল হচ্ছে, লেখাও তেমন থেমে নেই। আবার নিয়মিত খেলাও তার সঙ্গী। স্কুলের পড়ালেখা, নিজের জগতের লেখা পড়া, খেলা কোনটা ছাড় নেই। সব চলছে সমান তালে।
নাম তার অলীন বাসার। আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। বাবা খ্যাতিমান সাংবাদিক রফিকুল বাসার।
২০১৮ সালের একুশে বইমেলার প্রথম শিশুপ্রহর এর সকাল উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল সিসিমপুর মঞ্চে। শুক্রবার চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া ক্ষুদে লেখক অলীন বাসারের দুই বইয়ের প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচনে জড়ো হয়েছিলেন দেশের খ্যাতিমান লেখকেরা। ছোট এবং বড়দের সম্মিলনে জমজমাট হয়ে উঠেছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বইমেলার শিশু কর্নার।
প্রকাশিত বই দুটির নাম ‘পালোয়ানের হার’ এবং ‘ভূতের টিউশনি’। চাররঙা প্রচ্ছ্বদের বই দুটো বের করেছে যথাক্রমে ঘাসফড়িং এবং জ্ঞান বিতান। বই দুটোর প্রচ্ছ্বদ প্রদীপ ভঞ্জন এবং শিরীন আক্তার। বই প্রকাশ নিয়ে ক্ষুদে অলীন সহজ করে জানায়, লিখতে তার ভালো লাগে। লেখায় বাবার হেল্প কতখানি প্রশ্নে ছোট্ট অলীন জানায়, আমি লিখি যা মনে আসে তাই। বাবা শুধু ভালো-মন্দটা বুঝিয় দেন। 
মোড়ক উন্মোচনে প্রধান অতিথি ছিলেন কথা সাহিত্যিক-সাংবাদিক আনিসুল হক। তিনি বলেন, অলীনের নাম রেকর্ডে ওঠানোর সময় হয়েছে। উপস্থিত বাবা-মায়েদের উদ্দেশ্যে আনিসুল হক শিশুদের নিজেদের ভাব প্রকাশে উৎসাহিত করার অনুরোধ রাখেন। অন্যদিকে শিশুদের উদ্দেশ্যে পড়ার অভ্যাস তৈরির কথা বলেন। অলীন আগামিতে আরো ভালো করবে এবং একদিন সাহিত্যে তার নিজস্বতা তৈরি করবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
মোড়ক উন্মোচনে আরো উপস্থিত ছিলেন শিশুসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, কবি হালিম আজাদ প্রমুখ।
অলীনের আগের বইগুলো হলো, ‘অন্ধকারে ভূতের ছায়া (সাঁকোবাড়ি, ২০১৫)’, ‘ভুতুড়ে (সাঁকোবাড়ি, ২০১৬), ভুতুম (সাঁকোবাড়ি, ২০১৭)’।
ছবি : সাকিব উল ইসলাম








