প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ এবং শিল্পকে বহুমুখীকরণ করতে হবে।
রোববার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) গভর্নিং বোর্ডের ৬ষ্ঠ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সারাদেশে শিল্পের বিকাশ করতে হবে। অনগ্রসর অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল তথা শিল্প নগরী গড়ে তুলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে হবে।
তিনি বলেণ, স্বল্পদামে জমিসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সুবিধা নিশ্চিত করে পরিবেশ সুরক্ষাসহ পরিকল্পিত শিল্পায়ন যেমনি প্রয়োজন, তেমনি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কৃষি জমিরও প্রয়োজন। এ দুটি বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টি করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অনুযায়ী ১০০ টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হলে দেশে দারিদ্র বিমোচন হবে, উৎপাদন ও রপ্তানী আয় বাড়বে। অর্থনীতির ভিত শক্তিশালী হবে।
অর্থনৈতিক অঞ্চলে হ্রদ এবং জলাধার রাখার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রত্যেক ভবনের বৃষ্টির পানি যেন জলাধারগুলোতে সংরক্ষণ করা যায়, সে ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রত্যেক অর্থনৈতিক অঞ্চলে সঠিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করে পরিবেশ সুরক্ষা সমুদ্র পাড়ের অর্থনৈতিক অঞ্চলসমূহকে সামুদ্রিক জলোচ্ছাস থেকে রক্ষা করতে গাছ লাগিয়ে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তুলতে হবে।
সভায় বেজার বিগত দিনের কর্মকান্ড তুলে ধরে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী জানান, বেজার উল্লেখযোগ্য অর্জনের মধ্যে রয়েছে এ পর্যন্ত ৯৮ টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান নির্বাচন, ২৩টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু, বেজার কার্যালয়ে ওয়ানষ্টপ সার্ভিস চালু, ওয়ানষ্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮ পাশে এবং এ পর্যন্ত ১ হাজার ৯শ কোটি বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাবের বিপরীতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জমি বরাদ্দ দেযা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অনুমোদন, দেশি ও বিদেশি বৃহৎ ও বিশেষায়িত বিনিয়োগকারীদের সরাসরি জমি বরাদ্দ ও পরিসেবা দেয়ার জন্য ট্যারিফ, সার্ভিস চার্জ ও উন্নয়ন সারচার্জ অনুমোদন, ওয়ানষ্টপ সার্ভিস বিধিমালা, ২০১৮ নীতিগত অনুমোদন, বেজার প্রস্তাবিত জনবল কাঠামো, বেজার তহবিল পরিচালনা প্রবিধানমালা অনুমোদন দেযা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন অর্থ, শিল্প, বানিজ্য, ভূমি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।








