ওয়ানডে অভিষেকটা হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। আগে টি-টুয়েন্টি, প্রথম শ্রেণি বা লিস্ট এ’র ম্যাচে অভিষেকে তেমন কিছু করতে পারেননি। কোন ধরনের ক্রিকেটেই অভিষেকে ফিফটি পেরোনো হয়নি। ক্রিকেটের অভিজাত অঙ্গন টেস্টে নেমে যেনো সেই আক্ষেপটাই মেটালেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অভিষেকেই দুর্দান্ত একটি অর্ধশতক তুলে নিয়েছেন।
বয়স মাত্র ২১ বছর। কিন্তু ক্রিকেট মাথাটা তারচেয়ে ঢ়ের বড় বয়সীদের মত। পরিস্থিতি বুঝে খেলতে পারা, আর ইনিংসটাকে টেনে বড় করার সক্ষমতা মিলিয়ে অপার সম্ভাবনার জানান দিয়ে যাচ্ছেন কয়েক বছর ধরেই। সেটি ঘরোয়া ক্রিকেটে। সাদা পোশাকে জাতীয় দলের জার্সিতে নেমে সেটাই টেনে আনলেন মোসাদ্দেক। ইনিংসে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ১৩১ রানের জুটি গড়েছেন। তাতে প্রথম ইনিংসে ১২৯ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ।
কলম্বোর পি সারায় চা বিরতির আগেই ফিফটি তুলে নিয়েছেন মোসাদ্দেক। ৬ চার ও ১ ছয়ে ৮৪ বলে পৌঁছে যান মাইলফলকে। সান্দাকানের করা ইনিংসের ১০৮তম ওভারের পঞ্চম বলে ২ রান নিয়ে ফিফটির হাসিতে হাসে সৈকতের ব্যাট। পরে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফিরেছেন ৭৫ রানে।
বাংলাদেশের জার্সিতে টেস্ট অভিষেকেই ফিফটির কীর্তি, সেটিও আবার দেশের শততম টেস্টের মাইলফলকে। অবশ্য এই কীর্তি আছে আরো ১৫ জনের। দেশের শততম টেস্টে ফিফটির তালিকায় সর্বোচ্চ ৪ জন ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ৩ জন সাউথ আফ্রিকার। ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার ২ জন করে আছেন এই অর্জনে। সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ের একজন করে। বাংলাদেশেরও ২ জন হলো। সৈকতের আগেই অধিনায়ক মুশফিক ৫২ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন।
অবশ্য এমন ৮ জন আছেন যারা শততম টেস্টের ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন। শুক্রবার পি সারায় ১১৬ রানের ইনিংস খেলা সাকিব যার শেষ জন।
অভিষেকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ৪ চারে ২ ছয়ে ৪৫ বলে অপরাজিত ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন সৈকত। পরে বল হাতে ১০ ওভারে ৩০ রানে ২ উইকেট। টি-টুয়েন্টি অভিষেক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। সেভাবে জ্বলে না উঠলেও সম্ভাবনার জানান দিয়েছিলেন। গত বছরের জানুয়ারিতে খুলনায় ১৯ বল ১৫ রান।
প্রথম শ্রেণিতে জাতীয় ক্রিকেট লিগে ঢাকা বিভাগের হয়ে খুলনার বিপক্ষে অভিষেকটা ছিল দুঃস্বপ্নের মত। প্রথম ইনিংসে রানের খাতা খুলতে পারেননি। দ্বিতীয় ইনিংসেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। বল হাতে দুই ইনিংসে ১ উইকেট। ২০১৪ সালের এপ্রিলে সেই ম্যাচটি ছিল সৈকতের ভুলে যেতে চাওয়া স্মৃতির অপর নাম।
লিস্ট এ’র ম্যাচে আবাহনীর হয়ে অভিষেকটা অবশ্য মন্দ হয়নি। ২০১৩ সালে ক্রিকেট কোচিং স্কুলের বিপক্ষে ব্যাটে ৩৯ রান করার পর বল হাতে ১ ওভার হাত ঘুরিয়ে উইকেটশূন্য। আর আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টির বাইরের ছোট ফরম্যাটের ম্যাচে বাংলাদেশ এ দলের হয়ে ব্রিজটাইনে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এ দলের বিপক্ষে ব্যাটিংয়ের সুযোগই পাননি। টেস্টে দুর্দান্ত ইনিংসটি খেলে সেসব দুঃখকেই হয়তো অতীতের গর্ভে বিলীন করে দিলেন টাইগার এই তরুণ।








