২০১৫-১৬ মৌসুমে ছিলেন সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির সেরা উইকেট শিকারী। ব্যাট হাতেও ছিলেন সমান উজ্জ্বল। কিন্তু তাতে মন ভরেনি ভারতীয় দলের নির্বাচকদের। এরপর আশায় আশায় তিনটি বছর কাটিয়ে দিলেও ইরফান পাঠান আর ডাক পাননি জাতীয় দলে। তাই অনেকটা অভিমান নিয়েই সবধরনের ক্রিকেটকে বিদায় বলে দিলেন ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এ পেসার।
‘২০১৬ সালের পর থেকেই বুঝতে পারলাম আর জাতীয় দলে জায়গা হবে না। ২০১৫-১৬ মৌসুমে আমি সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফির সেরা বোলার-অলরাউন্ডার ছিলাম কিন্তু ডাক পাইনি। নির্বাচকরা আমার বোলিং নিয়ে খুশি ছিলেন না, এমনটাই আমাকে জানানো হয়েছে। ২০১৬ সালের পর আমি বুঝতে পারলাম যে সময় শেষে হয়ে গেছে।’, স্টার স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপচারিতায় এমনই অভিমান ঝরেছে ইরফানের।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে ২০০৩ সালে লাহোরে ১৬ রানে ৯ উইকেট নিয়ে প্রথম আলোতে আসেন ইরফান। ২০০৪ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে থাকলেও তারই আগে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য জাতীয় দলে ডাক পান খুবই অল্প বয়সে। সেই সফরে সিডনি টেস্টে রিভার্স সুইংয়ে স্টিভ ওয়াহ ও অ্যাডাম গিলক্রিস্টের উইকেট নিয়ে জানান দেন নিজের প্রতিভার।
বোলিংয়ে ফর্মের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় গ্রেগ চ্যাপেলের ভারত দলে হঠাৎ-ই ব্যাটসম্যান হিসেবে আবির্ভাব ইরফানের। ২০০৭ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলকে জিতিয়ে নিজে জিতেছেন ম্যান অব দ্যা ফাইনালের পুরষ্কার।
একটা সময় ব্যাট হাতে ওপেনিংও করেছেন জাতীয় দলের হয়ে। টেস্টে পাকিস্তানের আছে সেঞ্চুরিও। আর তাতেই যেন ঘটলো সর্বনাশ। ক্রমেই হারালেন বোলিংয়ে ধার। হারালেন দলে জায়গাও। সবশেষ জাতীয় দলে খেলেছেন ২০১২ সালে। এরপর থেকেই ব্রাত্য।
ভারতের হয়ে ২৯ টেস্টে ১০০, ১২০ ওয়ানডেতে ১৭৩ ও ২৪ টি-টুয়েন্টিতে ২৮ উইকেট নিয়েছেন ইরফান। তিন ফরম্যাটের ক্রিকেটে ৩০১ উইকেটের মালিক হয়েও ক্যারিয়ারটা আরও বড় করতে না পারার আক্ষেপই থাকলো কণ্ঠে, ‘ক্রিকেটাররা ২৭-২৮ বছর বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পায় আর খেলে যায় ৩৫ বছর বয়স পর্যন্ত। আর আমি ২৭ বছর বয়সেই ৩০১ উইকেটের মালিক হয়েছি। এরপরই এই অবস্থা! ’
‘আমার শুধু একটাই আক্ষেপ, যদি আমি ৫০০-৬০০ উইকেট নিতে পারতাম, আরও কিছু রান করতে পারতাম তবে এমনটা বোধহয় হতো না। আরও কিছুদিন খেলে যেতে পারতাম।’








