ইউরোপে অবৈধ অভিবাসী প্রত্যাশীদের চাপ কমাতে তুরস্কের সাথে চুক্তি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। চুক্তির ফলে তুরস্ককে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা দিবে ইইউ।
শুক্রবার সকালে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতগলুর সঙ্গে আলোচনার পর কোনোরকম পরিবর্তন ছাড়াই ২৮টি দেশের কাছে প্রস্তাবিত খসড়া চুক্তি উপস্থাপন করেন ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক। বেলজিয়ামের ব্রাসেলস সম্মেলনে নেতারা চুক্তির ব্যাপারে দ্রুতই অনুমোদন দেন।
বিশেষজ্ঞরা এ চুক্তির বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গত বছর তুরস্ক থেকে পারস্য সাগর পাড়ি দিয়ে শরণার্থীরা গ্রীসে পৌঁছায়। সেখান থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রবেশ করে।
তবে এরই মধ্যে সম্ভাব্য চুক্তির আইনি বৈধতাসহ নানা বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খোদ জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর বলকান অঞ্চল দিয়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ইউরোপে প্রবেশ বন্ধ করার বিরুদ্ধে।
বিশ্ব সংস্থাটি মনে করে, সিরিয়ার চলমান রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কারণে যারা ইউরোপে আশ্রয় নিতে চায়, তাদের জন্য অভিবাসনের সুযোগ থাকা উচিত।
একই সঙ্গে সংস্থাটি মনে করে, রাজনৈতিক ও আর্থিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে আশ্রয়প্রার্থীদের তুরস্কে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বেআইনিও বিবেচিত হতে পারে।
একই সুরে কথা বলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও। দুদিন আগে ব্রাসেলসে সম্মেলনস্থলের বাইরে চুক্তিবিরোধী বিক্ষোভ করেছে।
দুই সংস্থা ছাড়াও লুথিয়ানার প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিতে ‘আইনি জটিলতা তৈরি’ হতে পারে এবং এর বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
আর বৈঠকের আগ মুহুর্তে ইইউর গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদেশ জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেছেন, সব শরণার্থীকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করতে হবে।
এ পরিস্থিতিতে ইউরোপে আশ্রয়ের দাবি জানানো প্রত্যেকের ক্ষেত্রে গ্রিসে শুনানির ব্যবস্থা করা যায় কি না, সে ব্যাপারেও বৈঠকে আলোচনা হয়।






