অভিবাসী শিশুকে লাথি মেরে বিশ্বজুড়ে সমালোচিত হাঙ্গেরির নারী ক্যামেরা সাংবাদিক পেত্রা লাসজ্লো তার কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার স্থানীয় ‘মাগের নেমজাত’ পত্রিকায় এক লেখায় তিনি নিজে আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন দাবি করে দুঃখ প্রকাশ করেন।
পেট্রা বলেন, ‘ফুটেজ (ভিডিও) দেখার সময় মনে হয়নি আমি নিজেকে দেখছি। যা করেছি তার জন্যে আমি সত্যিই দুঃখিত এবং এর দায়ও নিচ্ছি।’
‘আমি মোটেও হৃদয়হীন নই, বর্ণবৈষম্য ক্যামেরাপাসনও না। আমি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলাম।’-যোগ করেন পেত্রা।
ফুটেজে দেখা যায়, এক অভিবাসীকে তার কোলে শিশু থাকা সত্ত্বেও টেনে হিঁচড়ে ফেলে দেয় পেত্রা। পরপরই আরেক শরণার্থীকে লাথি মারে। ইন্টারনেট ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এন ওয়ানে এই ঘটনার ফুটেজ প্রচারিত হলে চ্যানেলটির প্রধান বার্তা সম্পাদক জেবোলক্স কিসবার্গ তার ফেসবুকে এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
পরবর্তীতে এই ফুটেজ ইন্টরনেট দুনিয়ায় প্রচার পেলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি করে। বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য চাকরিও হারিয়েছেন এই নারী সাংবাদিক।
শান্তি নষ্টের জন্য তার বিরুদ্ধে ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগও আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয় এবং পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, শত শত অভিবাসী যখন পুলিশ বেষ্টনি ভেঙে আসছিলো সেটা আমার ক্যামেরায় রেকর্ড হচ্ছিলো। তাদের মধ্যে থেকে একজন আমার দিকে আসছিলো এবং আমি আতঙ্কিত ছিলাম।
পেত্রা আরো বলেন, একজন মা হিসেবে আমি দুঃখিত। একটা শিশু আমার দিকে দৌড়ে আসছিলো কিন্তু আমি তাকে সেভাবে দেখতে পারিনি।
আতঙ্কিত অবস্থায় ভালো সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ কাজ নয় বলেও জানান তিনি।
একটি ছবি ও ভিডিও সহ পেত্রার লেখা ‘লজ্জার দেয়াল’(ওয়াল অফ সেম) নামক একটি ফেসবুক পেজে শেয়ার দেওয়ার পর শুক্রবারই তাতে ৩৫ হাজার লাইক পড়ে।
নিজেকে একজন বেকার মা উল্লেখ করে পেত্রা বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ নারী। একটা ছোট শিশুর বেকার মা যে আতঙ্কিত অবস্থায় একটা খারাপ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’







