দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে রুপালী পর্দায় অনিয়মিত একসময়ের পর্দা কাঁপানো চিত্রনায়ক ফারুক। এরমধ্যে কোটি টাকার কাবিন, ঘরের লক্ষ্মী এই ছবিতে কাজ করেছিলেন। তাও প্রায় ১২ বছর আগে। এতগুলো বছর অভিনয় না করলেও ছিলেন চলচ্চিত্রের সঙ্গে। বিভিন্ন হাঁকডাকে তাকে পাওয়া যেত। এমনকি এফডিসির ১৮ সংগঠন নিয়ে গঠিন চলচ্চিত্র পরিবারের আহ্বায়ক তিনি। এবার ১১তম সংসদ নির্বাচনে ঢাকা ১৭ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।
পুরোপুরি রাজনীতির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলার পর আবার কি অভিনয়ে ফিরবেন নায়ক ফারুক? এমন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ক্যামেরায় সামনে আসাই যায়। না আসার কোনো কারণ নেই। অভিনয় করতে পারি! তবে আমার কিছু কন্ডিশন আছে। ভালো গল্প ও চরিত্র লাগবে। সুন্দর কিছু দেখলেই নকলের প্রবণতা দেখা যায়। কাজ করলে মৌলিক জিনিসে কাজ করবো। যাদের সঙ্গে কাজ করবো তাদের সিনসিয়ারিটি থাকতে হবে।
সুজন সখী, নয়নমণি, লাঠিয়াল, সারেং বউ, গোলাপী এখন ট্রেনে ছবির এই অভিনেতা বলেন, চলচ্চিত্রে আগে যেভাবে বানিয়েছি, এখন কি সেভাবে হয়? মানে সময়; ৪৫ থেকে ৬০ শিফটে একটি ছবি হয়। ডিজিটাল সিস্টেমে ক্যামেরা চাপ দিলেই অনেককিছু হয়ে যাচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ শিফটে ৩ মাসে ছবি শেষ করে ফেলে। আমার মনে হয় এটা ঠিক না। একটু ধরে বুঝে শুনে করা উচিত ছবি। আমি অভিনয় করলে সেই ছবি চলবে কোথায়? হল ঠিক করতে হবে। এজন্য সামান্য কিছু লোনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
আমার জন্য আলাদা গল্প, চরিত্র, সিনেমা হলের সমস্যা এসব দূর হলে কাজ করবো। কয়েকমাস আগে একজন নতুন ছেলে আমাকে ধরেছিল কাজ করতে হবে। আমি সেভাবে পাত্তা দেইনি। বলেছিলেন, আমার পয়সার অভাব থাকলেও ছবি করবো না। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা, আমাকে গল্প শোনায়। এতভালো লাগে শুনে বলে বোঝাতে পারবো না। আমার সন্দেহ হয়েছিল এটা আসলেই মৌলিক গল্প কিনা। পরে খুঁজে পেলাম, কিছু মৌলিক কিছু এখান সেখান থেকে নেওয়া। এটা দোষের কিছু না। এরপর তাকে পরামর্শ দিয়েছিলাম, সামনে ব্যবসা মাথা রেখে ছবিতে টাকা হালতে। আমার আছে মনে হয়েছিল ওই ছবি হলে গত ১৫ বছরের সিনেমার ব্যবসার রেকর্ড ভেঙে দিত।
গত বছর তিনটি সিনেমা নির্মাণের কথা বলেছিলেন চিত্রনায়ক ফারুক। জানিয়েছিলেন, ছবির গল্প এবং গান লিখছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার এবং আমজাদ হোসেন। ওই ছবিগুলো ভবিষ্যৎ কি জানতে চাইলে ফারুক বলেন, আগেই বলেছি ছবি বানালে চালাবো কোথায়? সবকিছু ঠিক হলে তারপর ছবি বানাবো। যে ইমেজটা আল্লাহ পাক দিয়েছেন, আমি সেখানেই থাকতে চাই। এককথায় অভিনয়ের ভবিষ্যৎ যেটা ছবি বানানোর ভবিষ্যৎ সেটা। বরং অভিনয়ের চেয়ে ছবি বানানোর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বেশী পরিবেশ ঠিক হওয়ার উপর।





