সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া হামলা এবং গত তিন বছরের প্রায় সব হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
কিন্তু সরকার সব সময়ই দেশে আইএসের অস্তিত্ব অস্বীকার করে এসেছে। বাংলাদেশের এই অব্যাহত অস্বীকারই ইসলামী কট্টরপন্থীদের সঙ্গে তার সমস্যা আরো প্রকট করেছে। তাই বাংলাদেশের চলমান সন্ত্রাসবাদটা আসলে কি সেটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই খোলাসা করতে হবে।
মার্কিন প্রভাবশালী ম্যাগাজিন ‘ফরেন পলিসিতে’ লেখা প্রতিবেদনে এমনই বলা হয়েছে। ৬ জুলাই প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনটি করেছেন ব্রান্ডন মিলিয়াট।
প্রতিবেদনের শুরুতে গুলশানে জঙ্গি হামলায় নিহতের ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। হামলাকারীরা সবাই উচ্চবিত্ত পরিবারের বলেও উল্লেখ করা হয়।
গুলশান হামলার সাথে ব্লগার, লেখক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করার কথাও তুলে ধরা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডগুলোর ধরন পাকিস্তান ও মধ্যপাচ্যের ঘটনার মতো বলে মন্তব্য করা হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ২০১৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হাইপ্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের মধ্য রয়েছে লেখক অভিজিত রায়ের ঘটনা।
এতে বলা হয়, লেখক, ব্লগার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজনকে হত্যা করার ঘটনাকে শুধু ক্রিমিনাল অপরাধ হিসেবেই দেখা হয়েছে। আর এসব ঘটনার পর শেখ হাসিনার সরকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এই যুক্তিতে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছেন। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান না করায় হত্যাকারীরা আরো শক্তিশালী হয়েছে।
আইএসের উপস্থিতি প্রসঙ্গ তুলে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সব হত্যাকাণ্ডে পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে উগ্রবাদী আইএস জড়িত এই কথা মেনে না নিতে তিনি বদ্ধপরিকর এবং অব্যাহতভাবে সেটা করে যাচ্ছেন।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হত্যাকাণ্ডগুলোর সাথে আইএসের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে জেমবির কথা বলা হচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থাকে দায়ী করছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর প্রসঙ্গও।
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ কারো একার নয় উল্লেখ করে প্রতিবেদনের শেষে বলা হয়, সরকার এবং সমাজের মূলধারার জনগণ এই আদর্শিক যুদ্ধের বিরুদ্ধে যদি এক না হয়, তাহলে ইসলামিক স্টেট সেখানে সমর্থন পাবে। আর এমনটা হলে এই সমস্যা কখন শেষ হবে তা বলা মুশকিল। তাই এখনই যদি এর মূলে আঘাত না করতে পারে তাহলে আন্তর্জাতিক ইসলামী চরমপন্থার হাত থেকে ঢাকার রেহাই নাই।








