সিরীয় সীমান্তে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের জের ধরে চার দিনের মাথায় তুরস্কের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাশিয়া। শনিবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এ সংক্রান্ত একটি ডিক্রিতে সই করেন। তবে কিছুটা সুর নরম করে রুশ বিমান ভূপাতিত করার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোগান।
গত মঙ্গলবার সিরীয় সীমান্তে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান এসইউ-২৪ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত করার জের ধরে তুরস্ক-রাশিয়ার সম্পর্ক তলানীতে এসে ঠেকেছে। তুরস্কের উপর রাশিয়া অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে এমন কথা আগেই শোনা গিয়েছিল।
শনিবার প্রেসিডেন্ট পুতিন তুরস্কের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক ডিক্রিতে সই করেন।
রাশিয়ায় তুর্কি কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা এবং রুশ কোম্পানিতে তুরস্কের নাগরিকদের কাজ করার ওপর বিধি-নিষেধের কথা বলা হয়েছে ডিক্রিতে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট বন্ধের কথাও বলা হয়েছে এতে।
রুশ বিমান ভূ-পাতিত করার জন্য রাশিয়া তুরস্ককে ক্ষমা চাইতে বললে তাতে অস্বীকৃতি জানান দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়েপ এরদোয়ান। অবশ্য শনিবার সুর নরম করে ‘দুঃখ’ প্রকাশ করেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। ভবিষ্যতে এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সামনের সপ্তাহে প্যারিসে জলবায়ু সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে এরদোগান আলাদা করে বৈঠক করার জন্য মস্কোকে চিঠিও দিয়েছেন।
রাশিয়া তুরস্কের দ্বিতীয় বৃহৎ বাণিজ্যিক অংশীদার। শুধু গত বছরই ৩০ লাখের বেশি রুশ পর্যটক তুরস্ক ভ্রমণ করেন। রুশ নাগরিকদের তুরস্ক ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তুরস্কের সঙ্গে ভিসা ফ্রি চুক্তিও বাতিল করে দিয়েছে রাশিয়া।
রুশ সীমান্ত থেকে তুরস্কের পণ্য বোঝাই ট্রাক ফেরত পাঠানো হচ্ছে। তুরস্ক রাশিয়াতে গত বছর দেড় বিলিয়নেরও বেশি ডলারের পল্য রপ্তানি করে। নিষেধাজ্ঞার কারণে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে তুরস্ক এমনটাই আশা করছে রাশিয়া।







