এশিয়া কাপ জিতে ইতিহাস গড়া বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের এবারের চ্যালেঞ্জ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। যাতে সফল হয়ে নভেম্বরে উইন্ডিজের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলতে মুখিয়ে সালমা খাতুনের দল। নেদারল্যান্ডসে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার লড়াইয়ে নামার আগে আয়ারল্যান্ডে তিন টি-টুয়েন্টির সিরিজ খেলবে টিম টাইগ্রেস।
শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে আয়ারল্যান্ড রওনা হবেন সালমা-রুমানারা। তার আগে শনিবার দুপুরে সামনের দুটি চ্যালেঞ্জে সফল হওয়ার আত্মবিশ্বাসের কথা শোনালেন সালমা। টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক এশিয়া কাপে আসা অভাবনীয় সাফল্যের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে চান সামনেও।
‘অবশ্যই আমরা আশাবাদী বিশ্বকাপে উঠবো, বিশ্বকাপ খেলবো আমরা। আমাদের ওখানে ভাল পারফরম্যান্স করতে হবে। মালয়েশিয়া থেকে আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলে এসেছি। তারপর এখানে ৪-৫ দিনের একটা ক্যাম্প করতে পেরেছি। যতটুকু করতে পেরেছি, আমাদের যে ত্রুটি ছিল ওই জায়গাটায় কাজ করেছি এবং উন্নতিও করেছি। আয়ারল্যান্ড থেকে আমরা যখন যাব(নেদারল্যান্ডস), যাওয়ার পর বুঝতে পারবো উইকেট কেমন। আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়ত একটু সময় লাগবে। সবকিছু মিলিয়ে মনে হয় আমরা ভালো করবো।’
আয়ারল্যান্ডে তিনটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ খেলে সালমারা চলে যাবেন নেদারল্যান্ডস। সেখানে আট দলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব শুরু ৭ জুলাই। বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে স্বাগতিক নেদারল্যান্ডস, পাপুয়া নিউগিনি ও আরব আমিরাত। অন্য গ্রুপে আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও উগান্ডা। দুটি গ্রুপের সেরা দুটি দল জায়গা পাবে বিশ্বকাপে। র্যাঙ্কিংয়ের সেরা আট দল সরাসরি খেলবে বিশ্বকাপ।
এশিয়া কাপে ভারত (২বার), পাকিস্তানের মতো দলকে হারিয়ে এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। তবে আসরের কোনো দলকে ছোট করে দেখতে চান না অধিনায়ক। সতর্ক থাকতে চান প্রতিটি দলের বিপক্ষেই।
‘আত্মবিশ্বাস এখন দলের সব মেয়েদের মধ্যেই আছে। প্রতিপক্ষ যারাই হোক না কেনো, কাউকে ছোট করে দেখা উচিত না। অনেক সময় ছোট টিমের সাথেও খারাপ হয়ে যেতে পারে। আমার মনে হয় না আমরা ওটা করবো। এশিয়া কাপে মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডের সঙ্গে যখন খেলেছি, তখন সেরাটা দিয়েই খেলেছি। সেখানে যে চেষ্টা ছিল, ওখানেও সেটা থাকবে। সব টিমই ভালো টিম। বাছাইপর্বে যেহেতু উঠে এসেছে।’
এশিয়া কাপ জিতে আসার পরপরই ঈদের ছুটিতে বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন ক্রিকেটাররা। পরিবারের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটাতে পেরে ফুরফুরে মেজাজেই অল্পদিনের ব্যবধানে আবারও বিদেশ বিভূঁইয়ে যাচ্ছেন মেয়েরা। এশিয়া কাপে অভাবনীয় সাফল্য এনে দিয়েছে প্রশান্তি ও মানসিক পরিবর্তন।
‘অনেক পরিবর্তন আসছে। কারণ এশিয়া কাপ খেলে আসার পরে আমরা সবাই বাড়ি গিয়েছিলাম। প্রায় সাড়ে তিন মাস বাড়ি যাইনি কেউ। ঈদে বাড়ি যাওয়ার পর সবার মন ফ্রেশ হয়ে গেছে। ঈদের পরেই আবার আমরা অনুশীলনের ভেতর ঢুকে গেছি, ক্রিকেটের মধ্যে ঢুকে গেছি। এখন খুব ফ্রেশ আছি। ওখানে গিয়ে ভালো খেলতে হবে। এশিয়া কাপে ভালো করেছি। সামনে আমাদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে সফল হতে হবে।’







