অবশেষে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব থেকে ভারমুক্ত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বুধবার সকালে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে রুহুল কবীর রিজভী ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে মিজানুর রহমান সিনহার নাম ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া।
এর আগে দলটির জাতীয় কাউন্সিল সামনে রেখে গত ৬ মার্চ একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির চেয়ারপারসন পদে বেগম খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমান আগামী তিন বছরের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।
রাজনৈতিক জীবন:
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা মির্জা ফখরুল ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতির সাথে যুক্ত। রাজনীতিতে তার হাতে খড়ি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (অধুনা বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন) একজন সদস্য ছিলেন। পরে তিনি এস.এম. হল শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৬৯ গণঅভ্যুত্থানে সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ছিলেন। দেশ স্বাধীনের পর ঢাকা কলেজে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্ম-জীবনে প্রবেশ করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৬ সালে পৌরসভা নির্বাচনে শিক্ষকতা পেশা থেকে অব্যাহতি নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরে ৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
দেশব্যাপী যখন জেনারেল এরশাদের সামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আন্দোলন চলছে তখন মির্জা ফখরুল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি)তে যোগদান করেন।
৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে হেরে যান। এরপর ৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মনোনীত হন।
পরবর্তিতে ৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারো বিএনপি’র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পান এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থী খাদেমুল ইসলামের কাছে পরাজিত হন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও বিএনপির মনোনয়ন লাভ করে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনেকে বিপুল ভোটে পারাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হন। প্রথমবার নির্বাচনে জয়লাভ করেই নব-নির্বাচিত বিএনপি সরকার তার মন্ত্রীসভা ঘোষণা করলে মির্জা ফখরুলকে কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরে মন্ত্রীসভায় পরিবর্তন আনা হলে তাকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এ পদে বহাল ছিলেন।
২০০৮ সালের ৯ ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে আবারও নিজ আসনে দলের মনোনয়ন পেয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের নিকট পরাজিত হন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিএনপির ৫ম জাতীয় সম্মেলনে মির্জা ফখরুলকে বিএনপির জেষ্ঠ্য যুগ্ম মহাসচিবের পদে মনোনীত করা হয়। দায়িত্ব পাওয়ার তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে আরো সক্রিয় হয়ে পড়েন। দলের উল্লেখযোগ্য মুখপাত্র হওয়ার কারণে দেশব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
শিক্ষকতা থেকে রাজনীতিতে আসা ফখরুল ২০১১ সালে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান।ওই বছরের মার্চে বিএনপির মহাসচিব খন্দকার দেলওয়ার হোসেন মারা গেলে দলটির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত করেন।
ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে আওয়ামী লীগ সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন।






